পুকুরের টলমলে স্বচ্ছ পানিতে সকালে নতুন সূর্যের সাথে পাল্লা দিয়ে ফুটে উঠে বাংলার লাল শাপলার হাসি। সদ্য ফোঁটা এই শাপলার হাসি ও ঝলমলের রোদের লাবণ্যে ঘেরা সকাল অন্য সকালগুলোর চেয়ে ভিন্নতর। এই ভিন্নতর রূপ মুহূর্তের মধ্যেই ছড়িয়ে পড়ে গ্রাম-বাংলার বাড়িগুলোর আঙ্গিনায়, সবুজ গাছপালায় সবখানে। তখন ক্ষণিকের জন্য মুছে যায় সব দুঃখ-কষ্ট-গ্লাানি। ভালোবাসায় ভরে উঠে তরুলতা, পশুপাখি ও মানুষের হৃদয়।

এমনি এক পুকুর ও লাল শাপলার দেখা মিলল সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ উপজেলার নলকা ইউনিয়নের গুপিনাথপুর গ্রামের শিক্ষক বাহাদুর আলীর বাড়ির ছোট্ট পুকুরটিতে। দেখে মনে হলো সব ক্লান্তি আর জীর্ণ-শীর্ণ বেড়াজাল ছিন্ন করে নতুনত্বের ঝলমলে সৌন্দর্য যেন ছড়িয়ে পড়ছে পুকুর থেকে বাড়ির আঙ্গিনায় ও মেঠোপথে। পুকুরে ফুটন্ত ফুলের পাশেই রয়েছে অনেকগুলো না ফোঁটা কলি। কলিগুলো পানি থেকে মাথা বের করে পূর্ণ ফুল হয়ে ফোঁটার প্রহর গুনছে। আর পানিতে ভেসে থাকা শাপলার সবুজ পাতায় ঢাকা পড়েছে পুকুরের জলরাশি। ভোরের সূর্যের আলোয় ফুটন্ত শাপলার চোখ জুড়ানো হাসি আশপাশের পরিবেশকে আরো আলোকিত করে তুলছে। মুগ্ধতা ছড়িয়ে আরো আপন করে নিচ্ছে পুকুর পাড়ের পাশের মেঠোপথে হেঁটে চলা পথচারী ও শিক্ষার্থীদের।

রক্তলাল শাপলা ফুল যখন বিলুপ্তির পথে তখন গ্রামের এই স্কুল শিক্ষকের বাড়ির আঙ্গিনায় ছোট্ট পুকুরে ফোঁটে থাকা ফুলগুলো সবাইকে বিমোহিত করছে। কোমল মায়ার আবহে ভরে দিচ্ছে সবার মন। স্থানীয় গুপিনাথপুর গ্রামের তিন যুবক আমজাদ, শিতল ও আশিক বলেন, এই পুকুরে মাছ চাষ করা হয় না। তাই প্রাকৃতিকভাবেই গঁজিয়ে উঠছে শাপলা ফুলের গাছ। প্রথমে পুকুরটিতে অল্প কয়েকটি শাপলা গাছ ছিল। এখন সহস্রাধিক হয়ে গেছে। শাপলার সবুজ পাতায় ঢাকা পড়েছে পুকুরের পানি।
রায়গঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আব্দুর রউফ বলেন, উপজেলার খাল-বিল ও পুকুর শুকিয়ে যাওয়ার কারণে আমাদের জাতীয় ফুল শাপলা এখন প্রায় বিলুপ্তির পথে। সবাই একটু সচেতন হলে আবার খালে-বিলে ও ডোবা নালায় ছড়িয়ে পড়বে শাপলা ফুল। শাপলা ফুলের সৌন্দর্য বাংলার প্রকৃতিকে অন্যরকম সৌন্দর্যে ভরিয়ে রাখে।