কিশোরগঞ্জের হোসেনপুরে ডা: আরিফুল ইসলাম নামে স্থানীয় একটি বেসরকারি হাসপাতালে কর্মরত এমবিবিএস চিকিৎসকের আত্মহত্যার ঘটনায় হোসেনপুর থানায় মামলা হয়েছে।
সোমবার (৭ আগস্ট) বিকেলে ভাইকে আত্মহত্যার প্ররোচনার অভিযোগ এনে নিহত চিকিৎসকের বড়ভাই মো: আশরাফুল ইসলাম এ মামলা করেন। এদিকে মামলার পরই পুলিশ বিভিন্ন স্থানে সাড়াষি অভিযান চালিয়ে আরিফের স্ত্রী ডা. শাহীন সুলতানা মিরা, তার দুই ভাই মো: নাসির উদ্দিন ও মো: এরশাদকে গ্রেফতার করে।
হোসেনপুর থানার অফিসার ইনচার্জ মো: আসাজ্জামান টিটু তাদের গ্রেফতারের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, আরিফের লাশের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়েছে। রিপোর্ট পাওয়ার পর বিস্তারিত জানা যাবে।
মো: আশরাফুল ইসলাম জানান, আরিফুল ইসলাম ২০২১ সালের ডিসেম্বরে পাকুন্দিয়া উপজেলার চরকাওনা গ্রামের মো: সিরাজ উদ্দিনের মেয়ে ডা. শাহিন সুলতানা মীরাকে বিয়ে করেন। বিয়ের পর তারা কিছুদিন রাঙামাটিতে চাকরি করেন। সেখান থেকে ফিরে এসে বছরখানেক আগে দু’জনে মিলে হোসেনপুর পৌরসভার ঢেকিয়া এলাকায় মডার্ন জেনারেল হাসপাতাল অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টার নামে একটি ক্লিনিক চালু করেন এবং ক্লিনিকের পাশেই তারা একটি ভাড়া বাসায় বসবাস করতেন।
তিনি আরো জানান, ক্লিনিক চালু করার সময় থেকেই তাদের দু’জনের মধ্যে মনোমালিন্য সৃষ্টি হয়। এরই ধারাবাহিকতায় তার (আরিফের) বাড়ির লোকজনকে সহ্য করতে পারতেন না ডা: মীরা। এসব বিষয় নিয়ে তাদের মধ্যে প্রায়ই ঝগড়াবিবাদ হতো। শনিবার (৫ আগস্ট) রাত পৌনে ২টার দিকে হোসেনপুর থানা থেকে ফোন করে জানানো হয় ডা: আরিফ আত্মহত্যা করেছেন। তার (আশরাফুল ইসলাম) দাবি তিনি (আরিফ) কখনোই আত্মহত্যা করতে পারে না। তাকে মীরা ও তার ভাইয়েরা পরিকল্পিতভাবে হত্যা করে আত্মহত্যার নাটক সাজিয়েছে বলে তিনি ন্যায় বিচারের আশায় থানায় মামলা করেন।
উল্লেখ্য, কিশোরগঞ্জ জেলার মিঠামইন উপজেলার বাসিন্দা ডা. আরিফুল ইসলাম হোসেনপুর পৌর এলাকার ঢেকিয়ায় ভাড়া বাসায় স্ত্রী মিরাকে নিয়ে বসবাস করতেন। ডা : আরিফ শনিবার রাতে শয়নকক্ষে ফ্যানের সাথে ঝুলে আত্মহত্যা করেন। এ সময় লাশের পাশ থেকে ‘আমার মৃত্যুর জন্য কেউ দায়ী নয়’ লেখা একটি চিরকুট উদ্ধার করে পুলিশ।



