চাঁদপুর জেলা সদরের পশ্চিমে পদ্মা-মেঘনা নদীর ভাঙন বছরজুড়ে অব্যাহত থাকে। তবে বর্ষা এলে ভাঙন আতঙ্ক বেড়ে যায় চরাঞ্চলের বাসিন্দাদের। বর্তমানে সদরের ইব্রাহীমপুর ও শরীয়তপুর জেলার চরছেনসাস এলাকায় ভাঙন বেড়েছে। পানি উন্নয়ন বোর্ড বলছে সরেজমিন পরিদর্শন করে দ্রুত ব্যবস্থা নেবে। সম্প্রতি দেড়শতাদিক বসতভিটা নদীতে বিলীন হয়ে অনেকেই ছিন্নমূল হয়ে পড়েছেন।
সরেজমিন ঘুরে ও খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, চাঁদপুরের পদ্মা-মেঘনা নদীর পশ্চিমে অধিকাংশ এলাকাই শরীয়তপুর জেলা সীমান্তে। এর মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ একটি স্থান হচ্ছে ইব্রাহীমপুর ইউনিয়নের একাংশ আলু বাজার ফেরিঘাট। ঘাটের একাংশ রয়েছে ইউনিয়নে। এই স্থানটির প্রায় এক কিলোমিটারজুড়ে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান, স্কুল, মাদরাসা, মসজিদ ও শত শত বসতি গত কয়েক মাস ধরে মেঘনায় বিলীন হচ্ছে। বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে ভাঙন দেখা দেয়। বর্ষার পানি কমা শুরু করলে ভাঙনের তীব্রতা আরো বাড়ে।

ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, অস্থায়ীভাবে স্থানীয়রা নিজেদের বসতভিটা রক্ষা করার চেষ্টা করলে তা হচ্ছে না। তারা বাঁশ দিয়ে বাঁধ তৈরি করে সম্পত্তি রক্ষার চেষ্টা করছেন। কিন্তু পানির স্রোত আর ঢেউয়ের সাথে তা কুলিয়ে উঠছে না।
ইব্রাহীমপুরের বাসিন্দা আবদুল্লাহ ও সোলায়মান জানান, চলতি বর্ষা মৌসুমের শুরুতে এলাকার প্রায় দেড়শতাধিক বাড়িঘর নদীতে বিলীন হয়েছে। বাঁশ দিয়ে বাঁধ দিয়ে রক্ষার চেষ্টা করলেও ভাঙন প্রতিরোধ করা যাচ্ছে না। এখান থেকে অন্যত্র গিয়ে বাড়ি তৈরি করার সামর্থ্যও নেই তাদের। যে কারণে ভাঙনের মুখে তারা অস্থায়ীভাবে বিভিন্ন স্থানে আশ্রয় নিয়ে আছেন। আতঙ্কের মধ্যেই তাদের প্রতিটি রাত কাটে। তাদের দাবি, সরকার যেনো একটি স্থায়ী বাঁধ নির্মাণ করে তাদের বসতভিটা রক্ষায় এগিয়ে আসে।

চরছেনসাস ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আনোয়ার বালা জানান, ইতোমধ্যে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, মসজিদসহ অনেক বসতি নদীতে বিলীন হয়েছে। সরকারকে এ ভাঙন প্রতিরোধে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য অনুরোধ করছি। কারণ আমাদের সামর্থ্য নেই এই ভাঙন প্রতিরোধ করার।
ইব্রাহীমপুর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান হাজী আবুল কাশেম খান জানান, পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তারা ভাঙন এলাকা একাধিকবার পরিদর্শন করেছেন। কয়েকবার বালু ভর্তি অস্থায়ীভাবে জিও টেক্সটাইল ব্যাগ দিয়ে ভাঙন এলাকায় প্রতিরোধের চেষ্টাও করেছেন। কিন্তু বর্ষা এলে এবং পানি কমলে ভাঙন বাড়তে থাকে। স্থায়ী বাঁধ দিয়ে এলাকা রক্ষা করা খুবই জরুরি।
চাঁদপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী জহুরুল ইসলাম বলেন, ইব্রাহীমপুর ফেরিঘাট এলাকায় ভাঙন প্রতিরোধে আমরা একটি প্রকল্প হাতে নিয়েছি। এটির ডিজাইন ইতোমধ্যে তৈরি হয়ে গেছে। এই অর্থ বছরের শুরুতে আমরা এটি দাখিল করব। পাশাপাশি যেখানে বেশি ভাঙন দেখা দিয়েছে সেখানে পরিদর্শন করে দ্রুততম সময়ের মধ্যে ব্যবস্থা নেয়া হবে।