গাড়ির পার্কিং নিয়ে দ্বন্দ্বের জেরে রংপুর মহানগরীর মডার্ন মোড়ে যুবলীগ-ছাত্রলীগের সংঘর্ষে অন্তত পাঁচজন আহত হয়েছে।

বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতের এ ঘটনায় গুরুতর আহত যুবলীগ নেতা মোক্তারুল ইসলাম বাবুকে ঢাকার পঙ্গু হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এ ঘটনায় ওই এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে।

মামলা ও প্রাথমিক তদন্তের উদ্ধৃতি দিয়ে রংপুর মহানগর পুলিশের উপ-পুলিশ কমিশনার (অপরাধ) আবু মারুফ হোসেন শুক্রবার জানান, বৃহস্পতিবার রাত পৌনে ১২টায় নগরীর মডার্ন মোড়ে একটি সংঘর্ষ হয়। এতে ১৫ নম্বর ওয়ার্ড যুবলীগ সাধারণ সম্পাদক মোক্তারুল ইসলাম বাবু আহত হন। তার আঘাত গুরুতর হওয়ায় তাকে ঢাকায় পঙ্গু হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। তার বাবা হাফিজার রহমান মোল্লা এ ঘটনায় তাজহাট মেট্রোপলিটন থানায় মামলা করেছেন। আমরা আসামিদের গ্রেফতারে অভিযান চালাচ্ছি। ঘটনাটি মডার্ন মোড়ে পরিবহনসংশ্লিষ্ট পূর্বের বিরোধের জেরে ঘটেছে।

যুবলীগ নেতা মোক্তারুল ইসলাম বাবুর বাবা হাফিজার রহমান মোল্লা অভিযোগ করে বলেন, ‘তাজহাট থানা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মিলন ও ১৫ নম্বর ওয়ার্ড ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক রাব্বী হাসানের নেতৃত্বে আশিক, মিঠু, মিরাজ, রিপন ও সামসুলসহ ছাত্রলীগের ১০/১৫ জন নেতাকর্মী মডার্ন মোড়ে অবস্থিত পুলিশের ট্রাফিক্স বক্সের ১০০ গজ পশ্চিমে সাইফুল ইসলাম সবুজের চায়ের দোকানের সামনে আমার পুত্র বাবুর ওপর হামলা চালায়। তারা চাপাতি দাসহ বিভিন্ন অস্ত্র নিয়ে হামলা চালায়। তারা আমার ছেলের বাম হাতের কবজি থেকে গিরা পর্যন্ত এলোপাতাড়ি কোপায়। এতে তার হাত বিচ্ছিন্ন হওয়ার পথে। তাৎক্ষণিকভাবে খবর পেয়ে বাবুকে রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করি। সেখানকার চিকিৎসকদের পরামর্শে তাকে ঢাকার পঙ্গু হাসপাতালে নেয়া হয়েছে।’

হাফিজার মোল্লা আরো জানান, ‘আমি তাজহাট থানায় তাজহাট থানা স্বেচ্ছাসেবক লীগ সভাপতি মিলনকে ১ নম্বর ও ১৫ নম্বর ওয়ার্ড ছাত্রলীগ সাধারণ সম্পাদক রাব্বী হাসানকে ২ নম্বর আসামি করে পাঁচজনের নাম উল্লেখ এবং ৪/৫ জন অজ্ঞাতজনকে আসামি করে মামলা দিয়েছি। কিন্তু এখন পর্যন্ত কেউ গ্রেফতার হয়নি। আমার ছেলে এখন পঙ্গু হওয়ার পথে। আমি এর ন্যায়বিচার চাই- আইনগত ও দলীয়ভাবে।’

পুলিশের তদন্ত সূত্রগুলো জানায়, গত ঈদ-উল-আজহার সময় মডার্ন মোড়ে বাইরে থেকে আসা বিপুল সংখ্যক বাস জমায়েত হয়। ওইসব বাসের নিয়ন্ত্রণ থাকে স্থানীয় যুবলীগ, ছাত্রলীগ ও আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের হাতে। সবাই রাস্তা এবং মোড়ের সুবিধাজনক স্থানে গাড়ি পার্কিংয়ের সুবিধা দিয়ে বাড়তি ইনকাম করে থাকে। ১৫ নম্বর ওয়ার্ড ছাত্রলীগ সাধারণ সম্পাদক রাব্বী হাসান ও তাজহাট থানা স্বেচ্ছাসেবক লীগ সভাপতি মিলন কিছু গাড়ি তাদের সুবিধামত রাস্তায় পার্কিং করে। এতে বাধা দেয় ১৫ নম্বর ওয়ার্ড যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক ও মালিক সমিতির চেইন মাস্টার মোক্তারুল ইসলাম বাবু। এনিয়ে তখন উভয় গ্রুপের নেরতাকর্মীদের কথা কাটাকাটি এবং দুইপক্ষের মধ্যে তীব্র উত্তেজনা তৈরি হয়। পরে সিনিয়র নেতাদের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলেও ছাত্রলীগ এ ঘটনাটিকে সেখানে আধিপত্য বিস্তারের চ্যালেঞ্জ হিসেবে নেয়। এরই ধারাবাহিকতায় বৃহস্পতিবার রাত পৌনে ১২টায় সবুজের চায়ের দোকানে বাবু তার নেতাকর্মীদের মধ্যে আড্ডা মারতে থাকলে মিলন ও রাব্বি হাসানের নেতৃত্বে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামলা চালায়।

রংপুর জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি এস এম সাব্বির আহমদ জানান, ‘সংগঠনে থেকে কোনো সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের সুযোগ নেই। ছাত্রলীগের আদর্শ সেটা না। যেহেতু এ ঘটনায় মামলা হয়েছে। বিষয়টি আমাদের নলেজে এসেছে। আমরা সব কিছু দেখে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিবো।’

এ ব্যপারে রংপুর মহানগর যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক মুরাদ হোসেন জানান, ‘বিষয়টি নিয়ে মামলা হয়েছে। পুলিশের পাশাপাশি আমরা বিষয়টি খতিয়ে দেখছি।’