নরসিংদীর বেলাব থেকে দালালের মাধ্যমে লিবিয়া হয়ে সমুদ্র পথে ইতালি যাওয়ার সময় নয় যুবক নিখোঁজের খবর পাওয়া গেছে।
শুক্রবার (১১ আগস্ট) সকালে নিখোঁজ কামাল মিয়ার ছোট ভাই জামাল মিয়া জানান, পাঁচ-ছয় মাস আগে আমার ভাইকে ১২ লাখ টাকার চুক্তিতে ইতালির উদ্দেশে প্রথমে লিবিয়া নিয়ে যায়। অভাবে একে একে অন্যরাও লিবিয়ায় নিয়ে যাওয়া হয়।
পরিচয় পাওয়া নিখোঁজ নয় যুবক হলো উপজেলার নারায়ণপুর ইউনিয়নের কাঙ্গালিয়া গ্রামের রফিকুল ইসলামের ছেলে মোখলেছুর রহমান (২০), একই এলাকার মরহুম হাছেন আলীর ছেলে আনোয়ার হোসেন ও কামাল হেসেন (৩৪), ভাটের চর গ্রামের হাসান উদ্দিনের ছেলে মাসুদ রানা(২২) ও দুলালকান্দি গ্রামের হারুন। রশিদের ছেলে মনির হোসেন (২২), একই এলাকার আ: মোতালিব মিয়ার ছেলে রবিউল(৩৩), টান লক্ষ্মীপুর গ্রামের মহরম আলীর ছেলে স্বাধীন মিয়া (২০), নিলক্ষিয়া গ্রামের আমান মিয়া (২১), দুলাল কান্দি গ্রামের রায়হান ও দেওয়ানের চর গ্রামের আলমাছ আলীর ছেলে ইমন (২০)।
তারা ১০ থেকে ১২ লাখ টাকা খরচ করে দুলাল কান্দি গ্রামের লাল মিয়া ছেলে জাকির হোসেন এবং নুর কাসেমের স্ত্রী শাহিনুর (জাকিরের ফুফু) এই দুই দালালের মাধ্যমে অবৈধভাবে ইতালি যাওয়ার উদ্দেশে দেশ ছাড়ে।
বেশ কিছুদিন গেমঘরে রেখে গত বুধবার রাত ৮ টায় ডেঙ্গিকে তুলে ইতালির পথে যাত্রা করে। কিন্তু ৪০ মিনিট পর ডেঙ্গি ডুবে যায়। জাকিরের তত্ত্বাবধানে থাকা ২০ জন থেকে ১২ জন ফিরে এলেও আটজন নিখোঁজ রয়ে যায়। এ তথ্য দালাল জাকির হোসেন স্থানীয় মিলন মেম্বারের মাধ্যমে আমাদের জানায়। এরমধ্য আমার ভাইও নিখোঁজ।
নিখোঁজ রবিউলের ভাই ইব্রাহিম বলেন, আমার ভাই আট মাস আগে লিবিয়া গিয়েছিল ভৈরবের দালাল রবিউল্লার মাধ্যমে। কিন্তু সেখানে ভাইকে বৈধ কোনো কাগজ করে দেয়নি। দুলালকান্দির দালাল জাকির হোসেন ইতালি যাওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে আমাদের কাছ থেকে নয় লাখ টাকা হাতিয়ে নেয়। এখন আমার ভাই নিখোঁজ। আমরা আমার ভাইয়ের সন্ধান চাই।
রবিউলের স্ত্রী সাথী আক্তার জানান, আজ থেকে ১৭ দিন আগে আমার স্বামীর সাথে কথা হয়েছিল। তিনি বলেছেন আমার জন্য দোয়া করো। আমরা এখন গেম ঘরে আছি। আগামী বুধবারে ডেঙ্গিতে তুলবে, এ কথা বলে মোবাইল বন্ধ করে দেয়। তারপর থেকে আর কোনো যোগাযোগ করতে পারেননি।
এ বিষয়ে দুলালকান্দি গ্রামের বর্তমান ইউপি সদস্য মিলন মেম্বার জানান, আমি খবর পেয়ে জাকির হোসেনের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করি। ফোন দিলে মোবাইল অন্য একজন রিসিভ করে আমাকে জানান, জাকির হোসেনের আন্ডারে ২০ জনের থেকে ১২ জন উদ্ধার হলেও আটজন কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি।
এদিকে লিবিয়া হয়ে ইতালি যাওয়ার পথে ভূমধ্যসাগরে নিখোঁজ হওয়ার খবরে দালাল জাকির হোসেন ও শাহিনুরের বাড়িতে গিয়ে কাউকে পাওয়া যায়নি। তাদের পরিবারের সদস্যরা বাড়িতে তালা দিয়ে আত্মগোপনে চলে গেছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে বেলাব থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো: তানভীর আহমেদ বলেন, বিষয়টি আপনাদের মাধ্যমে এবং লোক মুখে শুনেছি। এখনো কোনো অভিযোগ আসেনি। এ বিষয়ে খোঁজখবর নেয়া হচ্ছে।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার আয়েশা জান্নাত তাহেরা বলেন, নিখোঁজের সংবাদ লোক মুখে শুনেছি। পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো যোগাযোগ করা হয়নি। নিখোঁজের বিষয় জানতে প্রবাসী ও বৈদেশি কর্মসংস্থানে যোগাযোগ করার চেষ্টা চলছে।



