সিলেটের বালাগঞ্জ উপজেলার ৪নং পশ্চিম গৌরীপুর ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুর রহমানের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব এনেছেন পরিষদের ১১ সদস্য। গত ৭ আগস্ট সিলেট বিভাগীয় কমিশনার বরাবরে পরিষদের ৩ নারী সদস্য ও ৮ পুরুষ সদস্য মিলে ১১ জন ইউপি সদস্যের স্বাক্ষরিত লিখিত অনাস্থাপত্র দাখিল করা হয়। গেল নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন না পেয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে আওয়ামী লীগ প্রার্থীকে হারিয়ে নির্বাচিত হয়েছিলেন আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী এ নেতা।
জানা যায়, দায়িত্ব নেয়ার পর থেকেই ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুর রহমান ইউপি সদস্যদের সাথে সর্বদা অসদাচরণ করাসহ তাদের উপর আক্রমণাত্মক হন। তাছাড়া তিনি বিভিন্ন অনিয়ম, দুর্নীতি, স্বেচ্ছাচারিতা ও স্বজনপ্রীতির সাথে জড়িত রয়েছেন। ইউনিয়ন পরিষদ আইন তোয়াক্কা না করে তিনি গায়ের জোরে পরিষদের কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছেন। পরিষদে আসা সরকারি বরাদ্দ সদস্যদের মধ্যে বণ্টনে বৈষম্য করে থাকেন।
তিনি পরিষদের সচিবের সহযোগিতা নিয়ে সাধারণ সভার রেজুলেশনে সদস্যদের স্বাক্ষর জালিয়াতি করে একক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে থাকেন। এবং গত মাসে প্রথম গঠিত প্যানেল চেয়ারম্যান বাদ দিয়ে নিজের মন মতো প্যানেল গঠন করে একজনকে চেয়ারম্যানের দায়িত্ব দিয়ে কোনো ছুটি না নিয়েই যুক্তরাজ্য সফরে চলে যান।
গত বছরের বন্যায় নামে বেনামে ত্রাণ সামগ্রী আত্মসাৎ করেছেন। নাগরিক সনদ, উত্তরাধিকারী সনদ, ট্রেড লাইসেন্স, জন্ম মৃত্যু সনদসহ হোল্ডিং ট্যাক্স বাবদ সরকারি নির্ধারিত ফি ছাড়াও অতিরিক্ত টাকা আদায় করেন। এছাড়াও তার বিরুদ্ধে টাকার বিনিময়ে সরকারি টিউবওয়েল প্রদান, বয়স্ক ও মাতৃত্বকালীন ভাতার কার্ড প্রদান, পরিষদে সময় না দিয়ে ঠিকাদারি কাজ নিয়ে ব্যস্ত থাকার অভিযোগ রয়েছে।
১, ২, ৩, ৫, ৬, ৭, ৮, ৯ নং ওয়ার্ড এবং সংরক্ষিত ৩টি আসনের মহিলা সদস্যরা বলেন, চেয়ারম্যান পরিষদে তুঘলকি কায়দায় অনিয়ম-দুর্নীতির রাজত্ব কায়েম করেছেন। তিনি কাউকে পাত্তা দেন না। আমরা ভয়ভীতি উপেক্ষা করে ৭ আগস্ট বিভাগীয় কমিশনার ও জেলা প্রশাসক, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে তার বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব দাখিল করেছি। আমরা তার বহিষ্কার দাবি করছি ।
এ ব্যাপারে বালাগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রোজিনা আক্তার বলেন, চেয়ারম্যান মো: আব্দুর রহমানের বিরুদ্ধে তার পরিষদের সদস্যরা অনাস্থা প্রস্তাব এনে একটি অভিযোগ দিয়েছেন। তদন্ত পূর্বক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।



