সিলেটের ওসমানীনগরের প্রবাসী অধ্যুষিত হামতনপুর গ্রামে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের জমি নিয়ে দু’পক্ষের সংঘর্ষের খবর চাউর হলেও এর পেছনে রয়েছে ভিন্ন কারণ। অনুসন্ধানে জানা গেছে, গ্রামের পঞ্চায়েতি ঈদগাহে সুপারির চারা রোপণ নিয়ে রয়েল এফসি হোয়াটসআপ গ্রুপে এক প্রবাসী সদস্যের প্রশ্ন করা নিয়েই মূলত সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়েছে। এ বিষয়টিকে নিয়ে হোয়াটসআপ গ্রুপ ও ফেসবুকে একে অপরকে ঘায়েল করে লেখালেখি এবং হোয়াটসআপ গ্রুপে ভয়েস রেকর্ড দিয়ে একে অপরকে হুমকি ধমকি প্রদান এবং গ্রামের পাঁচ গোষ্ঠীর আধিপত্য বিস্তারের মতো জটিল কারণগুলো রয়েছে সংঘর্ষের পেছনে। আর সংঘর্ষ ঘটে গেলে এসব বিষয়কে আড়াল করে প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করতে হামতনপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের জমি জটিলতার বিষয়টি সামনে আনা হয়েছে। তাই ঘটনার পর পরই ডিলিট করা হয়েছে রয়েল এফসি নামের হোয়াটসআপ গ্রুপটি।
অনুসন্ধানে জানা যায়, বিগত দুই মাস আগে হামতনপুর গ্রামের পঞ্চায়েতি কবরস্থানে সুপারির চারা রোপণ করা হয়। ১ আগস্ট রাতে গ্রামের বাসিন্দা মিয়া তুরন যুক্তরাজ্য থেকে রয়েল এফসি হোয়াটসআপ গ্রুপে মন্তব্য করেন যে কবরস্থানে ফলদ গাছ তথা সুপারির চারা রোপণ করা ঠিক হয়নি। তখন তাদের প্রতিপক্ষের কোনো একজন মন্তব্য করেন, পঞ্চায়েতের সব সদস্যের মতামতের ভিত্তিতে সুপারির চারা রোপণ করা হয়েছে, তুমি কথা বলার কে? প্রতি উত্তরে তুরন বলেন, আমিও তো গ্রামের সদস্য, কিন্তু আমি তো সুপারির চারা রোপণের বিষয়টি জানি না। এ বিষয় নিয়ে দেশে বিদেশে অবস্থানরত গ্রামের লোকজন যারা এই গ্রুপের সদস্য তারা হোয়াটসআপ গ্রুপে লাইভে এসে রাতভর বাগবিতণ্ডা করেন। পরদিন সকালে দেখা যায়, হামতনপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সীমানার নেটের বেড়াটি কে বা কারা তুলে ফেলেছে। তখন উভয় গ্রুপ আরো উত্তপ্ত হয়ে শক্তি প্রদর্শনের জন্য হোয়াটসআপ গ্রুপ আর পৃথক ফেইসবুক আইডি থেকে একে অপরকে বকাবকি করেন।
এ সময় হাজি শাইস্তা মিয়ার পক্ষের গ্রুপ বিদ্যালয় বন্ধ করে দেয়। বিদ্যালয় বন্ধ করে দিলে গ্রামের চান মিয়া, অজিত বাবু, সহিদুর রহমান শিবলু ও ইউসুফ গংদের নেতৃত্বাধীন চারটি গ্রুপ একত্রে দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র ও ইটপাটকেল দিয়ে হামলা করে হাজি শায়েস্তা মিয়ার বাড়িতে। ভাঙচুর করা হয় শাইস্তা মিয়ার বাড়ির সীমানা প্রাচীর, টয়লেট, দরজা জানালা। হামলায় মহিলাসহ আহত হন ৮/৯ জন।
অভিযোগ রয়েছে, গ্রামের অসংখ্য লোকের হামলা প্রতিহত করতে শাইস্তা মিয়ার ছেলে মতিউর প্রতিপক্ষদের লক্ষ করে আগ্নেয়াস্ত্র দিয়ে গুলি ছুড়ে। তখন সংঘর্ষের গতি পাল্টে গিয়ে অপর চার গ্রুপের ১০/১১ জন আহত হন। খবর পেয়ে ওসমানীনগর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এতে উভয় পক্ষে পাল্টাপাল্টি মামলা দায়ের করা হয়েছে।
ওসমানীনগর থানার ওসি মাছুদুল আমিন বলেন, বর্তমানে এলকা শান্ত রয়েছে। মমলার আসামিরা জামিনে আছে। স্কুল নিয়ে আগে জটিলতা ছিল, তবে সংঘর্ষের সূত্রপাত হয় কবরস্থানে সুপারির চারা রোপণ নিয়েই।



