রংপুরের মিঠাপুকুরে সন্ত্রাসীদের আত্যাচারে সাড়ে তিন মাস ধরে বাড়ি ছাড়া এক সাবেক সেনা সদস্য ও তার পরিবার। তাদের ভয়ে ওই সেনা সদস্য জমিজমা চাষাবাদ করতে পারছেন না এবং থাকতে পারছেন না বাস্তুভিটায়।

শনিবার (১২ আগস্ট) মিঠাপুকুর প্রেসক্লাবে জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে সংবাদ সম্মেলন করেছেন সাবেক সেনা সদস্য আলী আহম্মদ।

সংবাদ সম্মেলনে আলো ছিলেন তার বোন আনোয়ারা বেগম, ভগ্নিপতি ফরজন আলী ও সাবেক সার্জেন লাল মিয়া প্রমুখ।

সংবাদ সম্মেলনে সাবেক সেনা সদস্য আলী আহম্মদ বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় এক সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর সাথে আমার মামলা-মোকদ্দমা চলে আসছে। নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে করা এক মামলায় ২০০৬ সালে আদালত আমার পক্ষে রায় প্রদান করে। সব কিছু ঠিকঠাকভাবে চলছিল। কিন্তু প্রায় সাড়ে তিন মাস আগে স্থানীয় আরিফুল ইসলাম লুলু, রাশেদুল ইসলাম, সেরাজুল ইসলাম, রব্বানী মিয়া, সাইফুল ইসলাম, শহিদুল ইসলামসহ ১৫ থেকে ২০ সন্ত্রাসী আমার ও আমার পরিবারের লোকজনের ওপর নির্যাতন চালাতে শুরু করেন। ইতোপূর্বে হামলা চালিয়ে আমরা বাড়িঘর ভাংচুর করেছেন। তাদের হামলার ভয়ে আমি প্রায় সাড়ে তিন মাস ধরে বাড়ি ছেড়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছি।’

সংবাদ সম্মেলনে তিনি আরো বলেন, ‘সন্ত্রাসীরা তিন লাখ টাকা চাঁদা দাবি করছে। তাদের দাবিকৃত টাকা না দেয়ায় তারা আমার পরিবারের লোকজনের জমিজমা চাষাবাদ করতে দিচ্ছে না। তাদের ভয়ে ছেলে-মেয়েরা স্কুল-মাদরাসায় যেতে পারছে না। এ সংক্রান্ত একটি মামলা দায়ের করলে তারা আরো বেপরোয়া হয়ে ওঠে। আদালত থেকে জামিনে বেড়িয়ে এসে আমাদের প্রাণনাশের হুমকি দিচ্ছে। আমরা চরম নিরাপত্তাহীনতায় রয়েছি।’

সংবাদ সম্মেলনে আলী আহম্মদের ভগ্নিপতি সার্জেন লাল মিয়া বলেন, ‘আদালতে মামলার রায় হয়েছে। ওই রায়কে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে স্থানীয় একটি সন্ত্রাসী চক্র আমাদের ওপর হামলা চালাচ্ছে। একের পর এক হুমকির মুখে আমরা দিশেহারা।’

আলী আহম্মদের বোন আনোয়ারা বেগম বলেন, ‘আমরা তাদের ভয়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছি। আমরা চরমভাবে নিরাপত্তাহীনতায় আছি।’

এ বিষয়ে মিঠাপুকুর থানা অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোস্তাফিজার রহমান জানিয়েছেন, আলী আহম্মদ একটি মামলা করেছেন। তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থাগ্রহণ করা হবে।