কিশোরগঞ্জের হোসেনপুর উপজেলার পুমদী ইউনিয়নের বিলচাতল গ্রামের দরিদ্র অটোরিকশা চালক মো: ছমির উদ্দিনের ছেলে রেমিট্যান্স যোদ্ধা মো: শাহীন মিয়া (৩৫) গত মঙ্গলবার সকালে সৌদি আরবের কর্মস্থল থেকে কাজ শেষে নিজ বাসায় ফেরার পথে এক মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন। হঠাৎ কর্মক্ষম ছেলের মৃত্যুতে তার পরিবারের সবকিছুই যেন উলট-পালট হয়ে গেছে। সরেজমিন গতকাল শনিবার সকালে উপজেলার বিলচাতল গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, নিহত শাহীনের বাড়িতে চলছে শোকের মাতম। বাবা মো: ছমির উদ্দিনসহ পরিবারের সদস্যরা কিছুতেই শাহীনের এ অকাল মুত্যুর খবরকে মেনে নিতে পারছেন না। ছেলের কথা মনে করে করেই নিহত শাহীনের মা বারবার মূর্ছা যাচ্ছেন। এ সময় নিহত শাহীনের শোকাহত বাবা হতদরিদ্র অটোরিকশা চালক মো: ছমির উদ্দিন জানান, বছরখানেক আগে নিজের শেষ সম্বল ভিটেমাটি বিক্রির টাকা ও তার কয়েক বছরের অটো চালানোর সঞ্চিত মোট পাঁচ লাখ টাকা খরচ করে স্থানীয় এক প্রতিবেশীর মাধ্যমে সৌদিআরবে পাঠানো হয়েছিল শাহীনকে। সেখানে সে নিজের খরচাদি মিটিয়েও প্রতি মাসে ২০-২৫ হাজার টাকা বাড়িতে সংসারের খরচের জন্য গত ৯ মাস ধরে প্রেরণ করে আসছিল। এতে ভালোভাবেই চলছিল তাদের সুখের সংসার কিন্তু হঠাৎ সড়ক দুর্ঘটনার খবর পেয়ে তার সবকিছুই যেন শেষ হয়ে গেছে বলে কান্নায় ভেঙে পড়েন তিনি। এদিকে নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে শাহীনের লাশ দ্রুত দেশে নিয়ে আনার আকুতি জানিয়ে বলেন, শাহীন সৌদি আরবের আল-এমামা নামক একটি কোম্পানিতে বলদিয়া ভিসায় কাজ করতেন। সেখানে ডাম্পার গাড়িতে কাজ করে বাসায় ফেরার পথে ওই কোম্পানিরই আরেকটি গাড়ির সাথে মুখোমুখি সংঘর্ষে গত ৮ আগস্ট শাহীনের মৃত্যু হয়।



