যশোরের চৌগাছায় শ্রাবণের ঝিরিঝিরি বৃষ্টিতে চাষির মনে কিছুটা হলেও স্বস্তি ফিরেছে। ব্যস্ততা বেড়েছে আমন চাষিদের। তবে এখনো পাট জাগ দেয়ার মতো পর্যাপ্ত বৃষ্টি না হওয়ায় পাটচাষিরা রীতিমতো হতাশায় রয়েছেন।
জানা যায়, চলতি আমন মৌসুমে চৌগাছা উপজেলার ১১টি ইউনিয়ন ও পৌর এলাকায় প্রায় ২০ হাজার হেক্টর জমিতে আমন ধানের চাষ হয়েছে। এ বছর আষাঢ় মাসে পর্যাপ্ত বৃষ্টিপাত না হওয়ায় আমন চাষের প্রায় ৮০ ভাগ জমিতে সেচের মাধ্যমে ধান রোপণ করা হয়। শ্রাবণ চলে যাওয়ার উপক্রম হলেও আশানুরূপ বৃষ্টি না হওয়ায় সেচের পানি দিয়েই আমন চাষের কার্যক্রম চালাতে হয়েছে। এমতাবস্থায় আমন উৎপাদনে কৃষকের বিঘা প্রতি খরচ কমপক্ষে পাঁচ হাজার টাকা বাড়বে বলে অভিজ্ঞরা মত প্রকাশ করেন। তার পরেও আমন ধান পুরোপুরি সেচনির্ভর হলে ধানক্ষেতে নানা রকম রোগ বালাই লেগেই থাকে। শ্রাবণ মাসে বৃষ্টি না হওয়ায় হতাশায় দিন কাটাচ্ছিলেন চাষিরা। হঠাৎ গত ক’দিন ধরে মুষলধারে না হলেও ঝিরিঝিরি করে প্রতিদিনই প্রায় বৃষ্টি হচ্ছে। যার ফলে প্রায় ১০ দিন ধরে সেচ পাম্পগুলো বন্ধ রয়েছে। কৃষকেরা পুরোদমে ব্যস্ত সময় পার করছেন আমন ক্ষেত পরিচর্যার কাজে।
উপজেলার সিংহঝুলি গ্রামের আমন চাষি সাবের আলী সরদার, সাইফুল ইসলাম, সামছুল হুদা দফাদার, টনিরাজ খান, সাগর খান, ইছাহক আলী দফাদারসহ আরো অনেকে জানান, থেমে থেমে শ্রাবণের শেষ দিকে যে বৃষ্টিটুকু হচ্ছে, তাতেই আমন ধানের বেশ উপকার হচ্ছে। রামকৃষ্ণপুর গ্রামের চাষি বাবুল আক্তার, নুরুল ইসলাম, আবদুল লতিফ পণ্ডিত ও জহির উদ্দীন জানান, বর্তমানে যে বৃষ্টিপাত হয়েছে, তাতেই মাঠে আমন ধানের চেহারায় পরিবর্তন এসেছে। শ্রাবণে বৃষ্টি কম হলেও প্রতিদিন বৃষ্টি হওয়াতে আমন ধানের অবস্থা ভালো।
চৌগাছা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোসাব্বির হুসাইন বলেন, চলতি মৌসুমে আষাঢ় মাসে বৃষ্টিপাত কম হওয়ায় আমন ধানের চাষ নিয়ে আমরা দুশ্চিন্তায় ছিলাম। শ্রাবণের শেষে এসে হালকা বৃষ্টি আমাদেরকে আশান্বিত করেছে। বর্তমানে উপজেলার মাঠে মাঠে ধানের সবুজ চারা স্বপ্ন দেখাচ্ছে চাষিদের। তিনি আরো বলেন, চাষিরা যাতে নির্বিঘেœ তাদের ধান চাষ করতে পারে সেজন্য সব ব্যবস্থা নেবে সরকার। তিনি আশ্বস্ত করে বলেন, সার ও কিটনাশকের কোনো সঙ্কট হবে না।
চৌগাছায় শ্রাবণের বৃষ্টিতে আমন চাষিদের কিছুটা স্বস্তি
যশোরের চৌগাছায় শ্রাবণের ঝিরিঝিরি বৃষ্টিতে চাষির মনে কিছুটা হলেও স্বস্তি ফিরেছে। ব্যস্ততা বেড়েছে আমন চাষিদের। তবে এখনো পাট জাগ দেয়ার মতো পর্যাপ্ত বৃষ্টি না হওয়ায়...



