জামালপুরের ইসলামপুর পৌর সভার মেয়র ও উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক আব্দুল কাদের সেখ অভিযোগ করেছেন, বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে পুষ্পস্তবক অর্পণের সময় আমাকে অপমান করা হয়েছে।

বুধবার (১৫ আগস্ট) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমানের সাহাদাত বার্ষিকী ও জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে উপজেলা পরিষদ-সংলগ্ন স্থাপিত বঙ্গবন্ধুর কেন্দ্রীয় প্রতিকৃতিতে পুষ্পস্তবক অর্পণের আয়োজন করা হয়।

বিভিন্ন দফতর ও সংগঠনকে পুষ্পস্তবক অর্পণের জন্য ক্রমাগত আমন্ত্রণ জানান উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আব্দুস সালাম। সেখানে ১৪ নম্বর ক্রমিকে আমন্ত্রণ জানানো হয়। প্রথম শ্রেণির পৌর সভার মেয়রকে। এতে ক্ষোভপ্রকাশ করেন মেয়র আব্দুল কাদের সেখ।

তিনি অভিযোগ করেন, আমাকে অপমান করার জন্য অ্যাডভোকেট আব্দুস সালাম উপজেলা প্রকৌশলীর হাত থেকে মাইক কেড়ে নিয়ে নাম ঘোষণা করতে থাকেন। একপর্যায়ে আমাকে ১৪ নম্বর ক্রমিকে ডাকা হয়।

পরে উপজেলা পরিষদের সভা কক্ষে আয়োজন করা হয় শোক দিবসের আলোচনা সভায় পৌর মেয়র আব্দুল কাদের সেখ বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন। এ সময় তিনি ক্ষোব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে বলেন, আমি একজন প্রথম শ্রেণির পৌর সভার মেয়র। অথচ বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে ফুল দেয়ার সময় আমাকে ১৪ নম্বরে ডাকা হয়েছে। আমি মনে করি এখানে আমাকে নয় প্রথম শ্রেণির পৌরসভার প্রথম শ্রেণির নাগরিকদের অপমান করা হয়েছে।

তবে উপজেলা পরিষদের সভাকক্ষে উপজেলা প্রশাসন আয়োজিত শোক দিবসের আলোচনা সভায় উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আব্দুস সালাম উপস্থিত ছিলেন না।

পৌর মেয়রের এমন অভিযোগের প্রেক্ষিতে উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আব্দুস সালামকে ফোন করা হলও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

মঙ্গলবার (১৫ আগস্ট) দিবসটি উপলক্ষে উপজেলা পরিষদ সভাকক্ষে আয়োজিত শোক দিবসের আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন জামালপুর-শেরপুর সংরক্ষিত আসনের এমপি হোসনে আরা।

নবাগত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো: সিরাজুল ইসলামের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি ছিলেন উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট জামাল আব্দুন নাছের বাবুল, সহকারী কমিশনার (ভূমি) মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান রোজীনা আক্তার চায়না, আব্দুল খালেক আখন্দ, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রেজোয়ান, বীব মুক্তিযোদ্ধা মানিকুল ইসলাম মানিক, শিক্ষা কর্মকর্তা মো: ফেরদৌস, প্রকল্পবাস্তবায়ন কর্মকর্তা মেহেদী হাসান টিটু ও সাংবাদিক আব্দুস সামাদ প্রমুখ।

পৌর মেয়রের এই ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়ার বিষয়ে জানতে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো: সিরাজুল ইসলামের মুঠো ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি সাংবাদিকদের জানান, শোক সভার আলোচনায় মেয়র সাহেব ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তবে পুষ্পস্তবক অর্পণের সময় তিনি অপমানিত হয়েছেন কিনা বিষয়টি জানা নেই।