কিশোরগঞ্জের কটিয়াদীতে গ্রীষ্মকালীন আগাম রিফা জাতের শিম চাষে সাফল্যের প্রত্যাশা করছে কৃষকরা। উপজেলার পৌর এলাকার বেথইর গ্রামের অনেক কৃষক তাদের জমিতে সুতা ও বাঁশ দিয়ে তৈরি মাচার ওপর তুলে দিয়েছে শিম গাছের কচি ডগা। কচি ডগার মধ্যে উঁকি দিচ্ছে সাদা ফুল।
কটিয়াদী কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে এক হেক্টর জমিতে আগাম জাতের সবজির আবাদ হয়েছে। নয়টি ইউনিয়নের মধ্যে পৌর সদরে শিমের চাষ বেশি হয়েছে। এ উপজেলার মাটি আগাম সবজি চাষের জন্য উপযোগী হওয়ায় দ্বিগুণ ফলন হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
এলাকা ঘুরে দেখা যায়, শিম গাছের ফুল ফুলে ভরে গেছে কৃষকের জমি। আর কিছু দিন পর দেখা মিলবে শিমের। গত জুন মাসে জমিতে শিমের বীজ রোপন করে কৃষকরা।
গাছ থেকে ৫৫ থেকে ৬০ দিন পর শিম উত্তোলন করা যায়।
উপজেলার পৌর সদরের বেথইর গ্রামের কৃষক মল্লিক মিয়া বলেন, ‘কটিয়াদী কৃষি অফিস ও উপ-সহকারী মঈনুল ইসলামের পরামর্শে আমি ২০ শতক জমিতে রিফা জাতের শিম চাষ করেছি। বর্তমান বাজারে শিমের ভালো দাম চাহিদা রয়েছে। সকল খরচ বাদ দিয়ে প্রায় এক লাখ টাকা আয় করতে পারব বলে আমি আশা করছি। এখন শিম উঠানো শুরু না হলেও এক সপ্তাহের মধ্যে তুলতে পারব। চারা রোপণ, সেচ দেয়া, সার প্রয়োগ, নিড়ানি, কীটনাশক ও মাচা তৈরিসহ মোট ৮-১০ হাজার টাকা খরচ হয়েছে।’
হালুয়া গ্রামের কৃষক শরীফ মিয়া বলেন, ‘আমিও লাভের আশায় আমার এক কানি জমিতে শিম চাষ করেছি। কৃষি বিভাগের পরামর্শে শিম গাছের পরিচর্যা করায় শিমের সাদা ফুল ধরতে শুরু করেছে। আশা করছি, কিছু দিনের মধ্যেই শিম তুলে বাজারে বিক্রি করতে পারব।’
কটিয়াদী ব্লকের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মো: মঈনুল ইসলাম বলেন, উপজেলা কৃষি বিভাগ প্রান্তিক পর্যায়ের কৃষকদের আগাম জাতের শিম চাষে উদ্বুদ্ধকরণের লক্ষ্যে কৃষকদেরকে নিয়ে কাজ করছে।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ শফিকুল ইসলাম ভূঞা বলেন, ‘শিম শীতকালীন সবজি হলেও আমাদের দেশে আগাম শিমের চাষ করা হচ্ছে। বর্তমানে আগাম শিম চাষ করে প্রান্তিক পর্যায়ের কৃষকরা অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হচ্ছে। বাজারে আগাম শিমের দামও ভালো। তাই কৃষকরা দিন দিন এই আগাম জাতের শিম চাষে আগ্রহী হচ্ছে। আমরা এ ব্যাপারে কৃষকদের সব ধরনের সহযোগীতা করছি।’



