নিজেকে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান ঘোষণা করার ঘটনা রওশন এরশাদের অশুভ চিন্তার ফসল বলে দাবি করে দলটির প্রেসিডিয়াম সদস্য ও রংপুর সিটি মেয়র মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফা বলেছেন, ‘ম্যাডাম অসুস্থ্য, উনি এখন পরনির্ভরশীল। ওনাকে হুইলচেয়ারে ক্যারি করে বেড়াচ্ছেন। যারা নামসর্বস্ব নেতা। তারা ওনাকে দিয়ে খেলার চেষ্টা করতেছেন। আমি মনে করি, এটা একটা অশুভ চক্রান্ত, এই চক্রান্ত কখনোই প্রতিফলিত হবে না।’
মঙ্গলবার ( ২২ আগস্ট) সন্ধ্যায় রংপুর সিটি করপোরেশন ক্যাম্পাসে এ প্রতিবেদককে এসব কথা বলেন তিনি। এসময় তার সাথে ছিলেন জেলা জাতীয় পার্টির সদস্য সচিব হাজি আব্দুর রাজ্জাক, মহানগর সহ-সভাপতি লোকমান হোসেন, জাহিদুল ইসলামসহ নেতাকর্মীরা।
রওশন এরশাদের উদ্দেশ করে দলটির প্রভাবশালী এই প্রেসিডিয়াম সদস্য আরো বলেন, ‘পেছন থেকে কেউ যদি কলকাঠি নাড়ে, আপনাকে যদি প্ররোচনা দেয়, সেই প্ররোচনা শুনে আপনি যদি কাজ করেন তাহলে তার রেজাল্টটা ভালো হবে না। আমি মনে করি, এটা একটা অশুভ চিন্তার ফসল। আমি মনে করি, ওটা তিনি প্রত্যাহার করবেন। যতটুকু সম্মান নিয়ে আছেন, সেই সম্মান নিয়ে যেন মরতে পারেন। গণধিকৃত হয়ে যেন মরা না লাগে, সেই চিন্তাভাবনাই করেন।’
মেয়র মোস্তফা আরো বলেন, ‘রংপুর বিভাগে রওশন এরশাদের কোনো অস্তিত্ব নাই। কেন্দ্র বলেন আর রংপুর বিভাগ বলেন, সবখানের নেতাকর্মীরাই জি এম কাদেরের নেতৃত্বে অবিচল আছেন এবং অবিচল থাকবেন। এরপর যদি তারা কোনো প্রতিক্রিয়া দেখানোর চেষ্টা করে, তার যথাযথ জবাব দেয়ার জন্য আমরা প্রস্তুত আছি।’
মোস্তফা আরো বলেন, ‘এটাকে আমরা কোনোভাবেই খারাপ চোখেও দেখছি না, ভালো চোখেও দেখছি না। ওনাকে আমলে নিচ্ছি না আমরা। জি এম কাদেরের নেতৃত্বে এখন যে স্ট্যান্ডিং কমিটি, সেটাই বৈধ কমিটি। সেই কমিটি পরিবর্তন করতে গেলে কাউন্সিলের মাধ্যমে দলের কাউন্সিলরদের ভোটে বা সমর্থনে করতে হবে। তার পরে কমিটির পরিবর্তন আসতে পারে। তার আগে কমিটির পরিবর্তন আমরা মনে করি এটা একটা ফেক, এটার কোনো অস্তিত্ব নাই।’
জাতীয় পার্টির অন্যতম নীতিনির্ধারক মোস্তফা বলেন, ‘জাতীয় পার্টি একটি প্রভাবশালী সংগঠন। এর নির্বাচন কমিশনের রেজিস্ট্রেশন আছে। এর একটি গঠনতন্ত্র আছে। তাতে কে চেয়ারম্যান হবেন, কে মহাসচিব হবেন তার নিয়ম-কানুন, বিধিমালা, কিভাবে চেয়ারম্যান পরিবর্তন করা যাবে, কিভাবে চেয়ারম্যান করা যাবে, সেটা ডিটেইলস বলা আছে। কাউন্সিলের মাধ্যমে জি এম কাদের চেয়ারম্যান হয়েছেন। সুতরাং কেউ হুট করে বললো, ‘আমি চেয়ারম্যান’ তাতেই তিনি চেয়ারম্যান হবেন এটা বোকার মতো কথা। স্বঘোষিত চেয়ারম্যান আপনিও হতে পারে। সুতরাং আমি মনে করি এটার কোনো ভিত্তি নাই। ’
রংপুর মহানগর সভাপতি ও জেলা আহ্বায়কের দায়িত্ব পালন করছেন মোস্তফা। তিনি আরো বলেন, ‘রংপুরের অবস্থান অত্যন্ত ক্লিয়ার। আমরা জাতীয় পার্টির বৈধ চেয়ারম্যান জি এম কাদের এবং মহাসচিব মজিবুল হক চুন্নুর নেতৃত্বাধীন কমিটির পক্ষে আমরা। সুতরাং কে কি বললো আর কে কি করলো এটাতে আমাদের কোনো যায় আসে না। কোনো প্রতিক্রিয়া নাই। এসব বিষয় নিয়ে কোনো চিন্তা আমাদের মাথায় নিয়ে আসার বিষয় আমি মনে করি না। রওশন এরশাদ একজন মাজুর মানুষ। তাকে হুইল চেয়ারে ক্যারি করতে হচ্ছে। উনি সাংগঠনিক কাজ কিভাবে করবেন, জেলার মিটিং কিভাবে করবেন। এ ধরনের লোক যদি নিজে অথবা কারো প্ররোচনায় এটা করে থাকে এটা আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত ওনি নিয়েছেন, নিজের দলকে ক্ষতিগ্রস্ত করার জন্য। এটা ক্ষতিগ্রস্ত করার অপচেষ্টা। কিন্তু দলের উনি কোনো ক্ষতি করতে পারবেন না। সেই অবস্থা ওনার নাই। ওনি একটা ডেড হর্স।’
উল্লেখ্য, মঙ্গলবার দুপুরে রওশন এরশাদের নিজেকে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান ঘোষণা-সম্পর্কিত তার সই করা এক বিজ্ঞপ্তি গণমাধ্যমে পাঠানো হয়। আড়াই লাইনের ওই বিবৃতিতে বলা হয়, ‘আমি বেগম রওশন এরশাদ, এমপি জাতীয় পার্টির প্রতিষ্ঠাতা কো-চেয়ারম্যান, এই মর্মে ঘোষণা করছি যে পার্টির সিনিয়র নেতাদের পরামর্শে ও সিদ্ধান্তক্রমে দলের গতিশীলতা বজায় রাখার স্বার্থে দলের চেয়ারম্যানের দায়িত্ব গ্রহণ করলাম।’
তিনি তার স্বাক্ষরের নিচে নিজেকে প্রতিষ্ঠাতা কো-চেয়ারম্যান এবং বিরোধী দলীয় নেতা হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন রংপুরের নেতাকর্মীরা।



