ময়মনসিংহের ভালুকায় পানি নিষ্কাশনের পথ বন্ধ করে দিয়ে অপরিকল্পিতভাবে শিল্পপ্রতিষ্ঠান গড়ে তোলায় একটি বিলে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়ে কৃষকদের বিস্তীর্ণ ফসলি জমি দীর্ঘদিন ধরে পানিতে ডুবে আছে। বারবার প্রতিবাদ করা সত্ত্বেও কোনো ব্যবস্থা না নেয়ায় স্থানীয়দের মাঝে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হচ্ছে ।
সরেজমিন খোঁজ নিয়ে ও স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানা গেছে, বেশ কয়েক বছর আগে উপজেলার পাড়াগাঁও চাঁনপাড়া এলাকায় স্থানীয় বেশ কয়েকজন প্রভাবশালীর নেতৃত্বে একটি কোম্পানির নামে জমি কেনা হয়। সামান্য জমি কেনার পর বেশ কয়েক একর নিচু জমি (বোরোক্ষেত) কিনে মাটি ভরাট শুরু করেন তারা। পরে ওই জমির ওপর শিল্পপ্রতিষ্ঠান গড়ার লক্ষ্যে বিশাল বিশাল ইমারত নির্মাণ করা হয়। এতে পানি নিষ্কাশনের পথ বন্ধ হয়ে দুই ফসলি জমি পানিতে ডুবে গিয়ে আশপাশের এলাকা বিশাল জলাভূমিতে পরিণত হয়।
গ্রামবাসীর অভিযোগ, কৃষিজমিতে শিল্পপ্রতিষ্ঠান নির্মাণে সরকারি নিষেধাজ্ঞা থাকলেও তা অমান্য করে গ্রামের পানি নিষ্কাশনের খাল বন্ধ করে কারখানা গড়ে তুলছেন মিল কর্তৃপক্ষ। উৎপাদন শুরুর আগেই পুরো এলাকায় জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়ে দুই ফসলি শত শত বিঘা ধান উৎপাদনের জমি পানির নিচে ডুবে আছে। প্রতিবাদ করেও কোনো লাভ না হওয়ায় অনেকেই পানির দামে শিল্প-কারখানার মালিকদের কাছে জমি বিক্রি করে দিতে বাধ্য হচ্ছেন।
পাড়াগাঁও চটানপাড়ার কৃষক আজিজুল হক জানান, স্থানীয় মোরাদ হোসেন বিপ্লবের নেতৃত্বে নির্মাণাধীন কারখানার পক্ষে বিভিন্ন কৌশলে জালজালিয়াতির মাধ্যমে কম দামে জমি কিনে মাটি ভরাট করা হচ্ছে। এতে পুরো এলাকায় জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়ে দুই মৌসুমে ধরে ফসল উৎপাদন করতে পারছেন না স্থানীয়রা। তিনি অভিযোগ করে বলেন, তার মানসিক প্রতিবন্ধী বড়ভাই ফজলুল হকের জমিও জালিয়াতির মাধ্যমে রেজিস্ট্রি করে নিয়েছেন বিপ্লব। তার ভাই পৈতৃক হিস্যানুযায়ী ৫১.৫০ শতাংশ জমি পেলেও রেজিস্ট্রি করতে পেরেছেন এক একর। পরে তা আদালতে দলিলপণ্ডের মামলা করা হয়েছে। বর্তমানে মোরাদ হোসেন বিপ্লব জোরজবরদস্তি করে সন্ত্রাসী বাহিনী নিয়ে টিনের বেড়া দিয়ে মাছের খামারসহ তাদের এক একর ৪০ শতাংশ জমি দখলে নেয়ার পাঁয়তারা করছেন।
এ দিকে পানি নিষ্কাশনের পথ বন্ধ করে দিয়ে কারখানার কাজ করার কারণে পাড়াগাঁও চাঁনপাড়া এলাকার আব্দুর রাজ্জাক গংয়ের সাত বিঘা, হাজী শমসের আলীর ২০ বিঘা, সাদেক, আলীম, রাজ্জাক ও সেলিমের ১০ বিঘা, আব্দুল হাই ও সোহেলের ছয় বিঘা, নজরুল, মকবুল, নুরে আলম ও সালাউদ্দিনের সাত বিঘা, শামছুল হক, আজিজ, মজিদ, নাজিম ও সুমেজের আট বিঘা, সাহেদ আলীর তিন বিঘা, মোজাফ্ফর সিদ্দিকীর ১৫ বিঘা ও আব্দুল খালেকের দুই বিঘাসহ স্থানীয় অনেক কৃষকের জমি দুই মৌসুম ধরে পানির নিচে ডুবে থাকায় ফসল উৎপাদন বন্ধ রয়েছে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে ক্ষতিগ্রস্ত একাধিক কৃষক জানান, কারখারার অপরিকল্পিতভাবে ইমারত নির্মাণ ও ফসলি জমি মাটি ভরাটের কারণে তাদের দুই ফসলি জমি দুই মৌসুম ধরে পানিতে ডুবে থাকলেও মোরাদ হোসেন বিপ্লবের ভয়ে কেউ প্রতিবাদ করারও সাহস পাচ্ছেন না।
তবে অভিযুক্ত মোরাদ হোসেন বিপ্লবের মোবাইল ফোনে অনেকবার চেষ্টা করেও রিসিভ না করায় তার বক্তব্য দেয়া সম্ভব হয়নি।
এ ব্যাপারে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ জেসমিন জাহান জানান, কৃষিজমিতে কারখানা করা যাবে কিনা তা তার জানা নেই। তবে কারখানা নির্মাণের কারণে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়ে ফসলের ক্ষতি হলে স্থানীয় কৃষকদের লিখিত অভিযোগ ভিত্তিতে সরেজমিন তদন্ত করে আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে।