খুলনার কয়রায় জাতীয় শোক দিবসের অনুষ্ঠানে স্থানীয় সংসদ সদস্য খুলনা-৬ (পাইকগাছা-কয়রা) আক্তারুজ্জামান বাবুর প্রধান অতিথির বক্তৃতার সময় একই মঞ্চ থেকে দাঁড়িয়ে তাকে উস্কানিদাতা আখ্যা দিয়ে চিৎকার চেঁচামেচিসহ তার সাথে অশোভন আচারণ করেছেন স্থানীয় উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি মোহসীন রেজা।

শোক দিবসের অনুষ্ঠানে প্রকাশ্য আলোচনা সভায় অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনায় দল ও দলের বাইরে ব্যাপক আলোচনা -সমালোচনার জন্ম দিয়েছে।

ঘটনায় নির্বাচনের আগে দলীয় গ্রুপিংয়ে নতুন মাত্রা যোগ হয়েছে উল্লেখ করে অনেকেই এর সমালোচনা করেন।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও এ নিয়ে রাজনীতির বাইরে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষকে বিষয়টি নিয়ে ঘটনার জন্য সমালোচনা করতে দেখা যাচ্ছে।

সভায় এমপির প্রতি অভিযোগ, তার বক্তব্যের শুরুতে কতিপয় ছেলেরা তাকে নিয়ে শ্লোগান দেয় তবে, অন্যদের বেলায় কোনো প্রকার শ্লোগান দেয় না। এতে দলের সিনিয়ররা নাকি অপমানিত বোধ করেন। আর এ ঠুনকো অভিযোগেই প্রকাশ্য সভামঞ্চে বুধবার বিকেলে উপজেলার মহারাজপুর ইউনিয়নের কলনা আমিনিয়া ফাজিল মাদরাসা প্রাঙ্গণে আয়োজিত শোকদিবসের অনুষ্ঠানে আক্তারুজ্জামান বাবু এমপি বক্তৃতা শুরু করলে একই দলের উপজেলা সভাপতি মোহসীন রেজা তার দিকে আঙ্গুল তুলে অভিযোগের বিষয়ে তাকে উস্কানিদাতা আখ্যা দেন। এ সময় তার চিৎকার-চিল্লানিতে এমপি তার বক্তব্য সমাপ্ত করে নিজের আসনে বসে পড়েন ও পরে সভাস্থল ত্যাগ করেন। এরপর ঘটনার মোবাইলে ধারণ করা ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।

ঘটনায় সমালোচকরা এমপির বক্তব্যের শুরুতে কর্মী-সমর্থকরা শ্লোগান দেবেন এটা স্বাভাবিক ব্যাপার উল্লেখ করে বলছেন, এমপির বক্তব্যে শ্লোগান দিলেও অন্যান্য সিনিয়রদের বেলায় না দেয়ার বিষয়টি তাদের ব্যর্থতার, অপমানের নয়। কেননা তারা দীর্ঘ দিনেও তাদের অবস্থান তৈরি করতে পারেননি বলেও মন্তব্য করছেন অনেকে।

এর আগেও ২০২১ সালের ১ জুন কয়রা উপজেলার মহারাজপুর ইউনিয়নের দশহালিয়া এলাকায় ঘূর্ণিঝড় ইয়াসে ভেঙ্গে যাওয়া বেড়িবাঁধ পরিদর্শনে গিয়ে কতিপয় জনতা খুলনা-৬ আসনের সংসদ সদস্য আক্তারুজ্জামান বাবুর বোট লক্ষ্য করে কাঁদা ছুড়েছিলেন। ওই ঘটনায়ও ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দিয়েছিল।

সর্বশেষ বুধবারের ঘটনার ভিডিও চিত্রে দেখা যায়, খুলনা-৬ আসনের সংসদ সদস্য আক্তারুজ্জামান বাবু তার বক্তৃতায় বলছিলেন, ‘আওয়ামী লীগ হচ্ছে গণমানুষের দল, এখানে কর্মীদের উচ্ছ্বাস থাকবে, কর্মীরা শ্লোগান দিয়ে এগিয়ে আসবে। স্লোগান হচ্ছে এই দলের প্রাণ।’

তাৎক্ষণিক কয়রা উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি জি এম মোহসীন রেজা দাঁড়িয়ে সংসদ সদস্যের দিকে হাতের ইশারা করে বলে ওঠেন, ‘এখানে উস্কানি দেবেন না, উস্কানিমূলক বক্তব্য দিলে হবে না। আপনি আর দলের ১২টা বাজাবেন না। অনেক করেছেন। আমরা কিন্তু এতো দিন কোনো কথা বলিনি, আপনি উস্কানি দেবেন না।’

ঘটনার পর এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি জি এম মোহসীন রেজা বলেন, ‘শোকের মাসের বিভিন্ন প্রোগ্রামে এমপি ১০/১২ জন ছেলে নিয়ে অনুষ্ঠানস্থলে উপস্থিত হন। এরপর এমপি যখন বক্তব্য দেন তখন শুধু ওই ছেলেগুলো স্লোগান দেয়। অন্য নেতাদের বেলায় দেয় না। এতে দলের সিনিয়র নেতা-কর্মীদের অপমান করা হয়, এ বিষয়টি এমপি সাহেব বুঝতে চান না।

সর্বশেষ বুধবারের অনুষ্ঠানেও এর পুনরাবৃত্তি হলে তিনি তাদেরকে নিষেধ স্বত্ত্বেও স্লোগান দিতেই থাকে। এরপর এমপি তার বক্তব্যেও তাদের স্লোগানের ব্যাপারে সমর্থনসূচক উস্কানিমূলক বক্তব্য প্রদান শুরু করলে তিনি এর প্রতিবাদ করেন।

তবে ঘটনার বিষয়ে জানার জন্য সংসদ সদস্য আক্তারুজ্জামান বাবুকে একাধিকবার ফোন করা হলেও তার সঙ্গে যোগাযোগ করা যায়নি।

সর্বশেষ অভিজ্ঞজনদের অভিমত মনোনয়নসহ নানা কারণে আওয়ামী লীগের মধ্যে দীর্ঘ দিন অভ্যন্তরীণ কোন্দল থেকে শুরু করে লবিং-গ্রুপিং বিদ্যমান রয়েছে। সর্বশেষ ঘটনায় দলীয় পর্যায়ে এর কোনো প্রভাব পড়বে কিনা এ নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন কেউ কেউ।