জামালপুরের ইসলামপুরে (জামালপুর-শেরপুর) সংরক্ষিত মহিলা আসনের সংসদ সদস্য হোসনে আরাকে লাঞ্ছিত করার প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছেন ইসলামপুরের নারীর সমাজ।
শনিবার (২৬ আগস্ট) বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে শহরের রেলগেইট এলাকা থেকে এই বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়। মিছিলটি শহরের প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে থানা মোড় বটতলা চত্বরে শেষ হয়। পরে সেখানে ঘন্টাব্যাপী মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করা হয়।
এ সময় জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম জাফর ইকবাল জাফু উপস্থিত নারীদেরকে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে বিচারের আশ্বাস দেন। পরে নারীরা যার যার বাড়ি ফিরে যান।
হোসনে আরা এমপি সাংবাদিকদের বলেন, ‘বৃহস্পতিবার (১৭ আগস্ট) সন্ধ্যায় উপজেলা আওয়ামী লীগের দলীয় কার্যালয়ে দেশের ৬৩ জেলায় হওয়া সিরিজ বোমা হামলার প্রতিবাদে উপজেলা আওয়ামী লীগের প্রতিবাদ সভা ছিল। বিনা আমন্ত্রণে আমি ওই প্রতিবাদ সভায় উপস্থিত হয়ে পাই যে উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি স্থানীয় এমপি ও ধর্ম-বিষয়ক মন্ত্রালয়ের মাননীয় প্রতিমন্ত্রী ফরিদুল হক খানের আসনটি খালি। আমি তার সম্মানে দাঁড়িয়ে থাকি। তিনি সভাস্থলে আসেন এবং তার আসনে বসেন। আমিও একটি আসনে বসি। আমি উপস্থিত নেতাদের কাছে সবিনয়ে জানতে চাই যে আমাকে কেন সভা-সমাবেশ বা কর্মসূচির বিষয়ে জানানো হয় না। ওই সময় উপজেলা আওয়ামী লীগের শ্রম-বিষয়ক সম্পাদক ও সাবেক বহিষ্কৃত নেতা আনোয়ারুল হক আনোয়ার হঠাৎ আমার ওপর ক্ষিপ্ত হয় এবং আমার সাথে বাকবিতণ্ডায় লিপ্ত হন। একপর্যায়ে তিনি আমাকে অকথ্যভাষায় গালিগালাজ করেন ও গায়ে থাপ্পড় মারেন।’
হোসনে আরা আরো বলেন, ‘প্রতিমন্ত্রী মহোদয় চাইলে বিষয়টি তাৎক্ষণিক সমাধান করতে পারতেন। কিন্তু তিনি তা না করে উল্টা আমাকেই শাসিয়েছেন। তবুও আমি নীরবে ধৈর্যধারণ করেছিলাম। আমার দল আওয়ামী লীগ ও আমার প্রাণের নেত্রী মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার ভাবমূর্তি যেন কোনোভাবেই ক্ষুণ্ন না হয়, আমি সেটাই চেয়েছিলাম। কারণ নেত্রী আমাকে এমপি বানিয়ে বলেছেন, কোনো ঝগড়া বিবাদ করবে না। শুধু নারীদের নিয়ে উঠান বৈঠক করবে। আমি একেক পর এক উঠান বৈঠক করে চলেছি। আমি স্থানীয় এমপির সাথে সব সময় সমন্বয় করে চলার চেষ্টা করেছি। এমন ঘটনা ঘটবে, আমার কল্পনাও ছিল না। আমি কাউকে জানাতেই চায়নি। তবুও ঘটনাটি মুহূর্তেই চার দিকে ছড়িয়ে পড়ে।



