জামালপুরের ইসলামপুরে উপজেলা আওয়ামী লীগের দলীয় কার্যালয়ে ১৭ আগস্ট ৬৩ জেলায় সিরিজ বোমা হামলার প্রতিবাদ সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় উপজেলা আওয়ামী লীগের শ্রম-বিষয়ক সম্পাদক আনোয়ারুল হকের কাছে লাঞ্ছিত হয়েছেন বলে অভিযোগ নারী সংসদ সদস্য হোসনে আরার। ওই ঘটনার সপ্তাহ পেরিয়ে গেলেও স্থানীয়ভাবে বিচারের কোনো আশ্বাস না পেয়ে তিনি দলীয় সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং জাতীয় সংসদের স্পিকার ড. শিরিন শারমিন চৌধুরীর কাছে লিখিত অভিযোগ করেছেন।
১৭ আগস্টের ওই সভায় সভাপতিত্ব করেন স্থানীয় এমপি ও ধর্ম প্রতিমন্ত্রী ফরিদুল হক খান। প্রতিমন্ত্রীর উপস্থিতিতেই হোসনে আরাকে লাঞ্ছিত করা হয় বলে অভিযোগ তার।
হোসনে আরা জামালপুর-শেরপুর সংরক্ষিত মহিলা আসনের সংসদ সদস্য।
অভিযোগে তিনি বলেন, জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে প্রধানমন্ত্রী ও দলীয় সভানেত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে তিনি নির্বাচনী এলাকায় অবস্থান করে সকল রাজনৈতিক ও সামাজিক কর্মকাণ্ডে অংশ নিচ্ছেন। কিন্তু তার নিজ এলাকা ইসলামপুর উপজেলার কোনো রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড, এমনকি দলীয় বর্ধিত সভাতেও তাকে ডাকা হয় না। রাজনৈতিক কোনো কর্মকাণ্ডেও সম্পৃক্ত করা হয় না তাকে। স্থানীয় এমপি ও ধর্ম প্রতিমন্ত্রী ফরিদুল হক খান দুলালের বিরাগভাজন হওয়ার ভয়ে অনেক নেতাকর্মী তার আয়োজিত ১৫ আগস্টের শোক সভাতেও অংশ নেননি।
তিনি জানান, বিনা-আমন্ত্রণে ১৭ আগস্ট উপজেলা আওয়ামী লীগ আয়োজিত ‘সারাদেশে সিরিজ বোমা হামলা দিবস’ উপলক্ষে আলোচনা সভায় হাজির হন হোসনে আরা। রাত সাড়ে ৮টার দিকে উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ধর্ম প্রতিমন্ত্রী ফরিদুল হক খান দুলাল এমপির সভাপত্বিতে ইসলামপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের দলীয় কার্যালয়ে সভা শুরু হয়। ওই সময় তুচ্ছ বিষয়ে আলোচনার জের ধরে উপজেলা আওয়ামী লীগের শ্রম-বিষয়ক সম্পাদক আনোয়ারুল হক তাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ শুরু করেন। তিনি এর মৃদু প্রতিবাদ করলে ওই নেতা তেড়ে এসে তাকে থাপ্পড় মারেন এবং শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করেন। এ সময় এমপি ফরিদুল হক খান দুলাল ওই নেতাকে নিবৃত না করে উল্টা তাকেই (হোসনে আরাকে) ধমক দেন। এক পর্যায়ে তিনি (হোসনে আরা) দ্রুত সভাস্থল ত্যাগ করেন।
হোসনে আরা এমপি সাংবাদিকদের বলেছেন, ওই ঘটনা ভিন্নখাতে নেয়ার জন্য এমপি ফরিদুল হক খান দুলাল তার অনুগত নেতাদের সমন্বয়ে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেন। কমিটির তদন্ত শুরুর আগেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ওই ঘটনাকে ভিত্তিহীন দাবি করে পোস্ট করে কেউ কেউ। ঘটনার পর সপ্তাহ পেরিয়ে গেলেও অভিযুক্ত নেতার বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা না নেয়ায় বাধ্য হয়েই তিনি প্রধানমন্ত্রী ও জাতীয় সংসদের স্পিকারের কাছে বিচারের আবেদন করেছেন।
তিনি বলেন, ‘জাতীয় সংসদের সদস্য ছাড়াও আমি একজন বীর মুক্তিযোদ্ধার স্ত্রী। আমাকে লাঞ্ছিত করার দায় স্থানীয় এমপি ও ধর্ম প্রতিমন্ত্রী ফরিদুল হক খান দুলাল এড়াতে পারেন না।’
ধর্ম প্রতিমন্ত্রী ফরিদুল হক খান দুলাল ঘটনার দিন (১৭ আগস্ট) ইসলামপুরস্থ জেলা পরিষদ ডাক বাংলোয় সাংবাদিকদের বলেছেন, ‘আমি সভায় সভাপতিত্ব করেছি। যে একটু কথা কাটাকাটি, এটা তেমন কোনো বড় বিষয় নয়। নারী এমপি আমার পাশে বসেই মিটিং করেছেন। তিনি আমার সামনে আমার টেবিলে থাপ্পড় দিয়েছেন। এতে কি আমি অপমানিত হয়নি? ওই দিনের ঘটনার জন্য চার সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।’
জামালপুর জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট মুহাম্মদ বাকী বিল্লাহ সাংবাদিকদের বলেছেন, এমপি হোসনে আরা লাঞ্ছিত হওয়ার ঘটনায় তিনিও লিখিত অভিযোগ পেয়েছেন। ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের স্বার্থে জামালপুর জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি অধ্যাপক আব্দুল হামিদকে আহ্বায়ক, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক কৃষিবিদ মোখলেছুর রহমানকে সদস্য সচিব ও সাংগঠনিক সম্পাদক আ ব ম জাফর ইকবাল জাফুকে সদস্য করে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিকে সাত কর্ম দিবসের মধ্যে অভিযোগ তদন্ত করে জেলা আওয়ামী লীগ বরাবর লিখিত প্রতিবেদন দাখিল করতে বলা হয়েছে।



