দিনাজপুরের হিলি স্থলবন্দরে ভারত থেকে পেঁয়াজের আমদানি স্বাভাবিক থাকলেও বিভিন্ন অজুহাতে আবারো অস্থির হয়ে উঠেছে পেঁয়াজের বাজার। বন্দরে দু’দিনের ব্যবধানে পাইকারিতে কেজি প্রতি ১০ থেকে ১২টাকা বেড়েছে পেঁয়াজের দাম।

ভারতের বাজারে শুল্ক আরোপ ও শুল্কায়ন মুল্য বাড়ানোর কারণে দাম বাড়ছে বলে দাবি আমদানিকারকদের। তবে যে পরিমাণ শুল্ক আরোপ করা হয়েছে তার চেয়ে বেশি দাম বাড়ানো হচ্ছে বলে অভিযোগ পাইকারি ক্রেতাদের।

হিলি স্থলবন্দর কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, বন্দরে ভারত থেকে নাসিক ও ইন্দোর দুই জাতের পেঁয়াজ আমদানি অব্যাহত রয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৪ আগস্ট) বন্দরে আমদানি হওয়া ইন্দোর জাতের পেঁয়াজ প্রতি কেজি ৪৭ থেকে ৪৮ টাকা এবং নাসিক জাতের পেঁয়াজ ৫৩ থেকে ৫৪টাকা দরে বিক্রি হয়েছিল। কিন্তু শুল্কায়ন মূল্য বাড়ানোর খবরে শনিবার (২৬ আগস্ট) ইন্দোর জাতের পেঁয়াজ ৫৮ থেকে ৬০ টাকা এবং নাসিক জাতের পেঁয়াজ ৬২ থেকে ৬৫ টাকা বিক্রি করা হয়।

হিলি স্থলবন্দরে পেঁয়াজ কিনতে আসা ব্যবসায়ী ইমরান হোসেন বলেন, ‘দেশের বিভিন্ন মোকামে ক্রেতাদের চাহিদামতো পেঁয়াজ কিনে পাঠাতাম। কিন্তু ভারত সরকার পেঁয়াজের শুল্কায়ন মূল্য বাড়িয়েছে- এমন খবরে শনিবার হঠাৎ করেই পেঁয়াজের বাজার বাড়তি হয়ে যায়।

তিনি বলেন, ‘যে হারে পেঁয়াজের শুল্ক বসিয়েছে ভারত, ওই হিসাবে দাম তো বাড়েনি, দাম বেড়েছে হিসাব ছাড়া। বাড়তি দামের কারণে আমরা পেঁয়াজ কিনতেই সাহস পাচ্ছি না। এছাড়া মোকামে আগের পেঁয়াজ রয়েছে, যার কারণে দাম বাড়ায় পেঁয়াজের তেমন একটা চাহিদা নেই।

হিলি স্থলবন্দরের পেঁয়াজ আমদানিকারক হারুন উর রশীদ বলেন, ‘অতিবৃষ্টি ও বন্যার কারণে ভারতেই পেঁয়াজ নষ্ট হয়ে উৎপাদন ব্যাহত হয়েছে। যার ফলে সরবরাহ ঘাটতি দেখা দেয়ায় ভারতের বাজারেই পেঁয়াজের দাম আগের তুলনায় বাড়তি। এর ফলে ভারত সরকার পেঁয়াজ রফতানি নিরুৎসাহিত করতে পেঁয়াজ রফতানির ওপর শুল্ক বসিয়েছে, যা কেজি প্রতি প্রকারভেদে ১০ থেকে ১২ টাকার মতো পড়ে যাচ্ছে। এতে দেশের বাজারেও এর প্রভাব পড়ছে, পেঁয়াজের দাম বাড়ছে।’

হিলি স্থলবন্দরের অপর পেঁয়াজ আমদানিকারক শহিদুল ইসলাম বলেন, ‘১৯ আগস্ট (শনিবার) ভারত সরকার পেঁয়াজ রফতানিতে ৪০ ভাগ শুল্ক আরোপ করে। এর ফলে কেজি প্রতি পাঁচ থেকে সাত টাকা বাড়তি দামে দেশে পেঁয়াজ আমদানি করতে হচ্ছে। কিন্তু আবারো হঠাৎ করে ২৫ আগস্ট (শুক্রবার) ভারত সরকার পেঁয়াজ রফতানিতে শুল্কায়ন মূল্য বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আমরা প্রতি টন পেঁয়াজের এলসি খুলতাম ১৫০ থেকে ২০০ মার্কিন ডলার মূল্যে, ওই মূল্যকেই শুল্কায়ন মূল্য ধরে তা ওপরেই ৪০ ভাগ শুল্ক নিত তারা। কিন্তু গত ২৫ আগস্ট তারা প্রতি টন পেঁয়াজের শুল্কায়ন মূল্য ৩২৫ ডলার নির্ধারণ করার সিদ্ধান্ত নেয়। কিন্তু এ সংক্রান্ত কোনো নির্দেশনা কাস্টমসে না আসায় শনিবার সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত ভারতীয় কাস্টমস কোনো টেন্ডার করেনি।’

তিনি আরো বলেন, ‘বর্তমানে ভারতীয় কাস্টমস রফতানিকারকদের কাছ থেকে বন্ড নিয়ে পেঁয়াজ রফতানিতে অনুমতি দিচ্ছে। ভবিষ্যতে ৩২৫ ডলার নির্ধারণ করা হলে বাকি শুল্ক পরিশোধ করতে হবে। ৩২৫ ডলার শুল্কায়ন মূল্য যদি কার্যকর হয়, তবে কেজি প্রতি পেঁয়াজের শুল্ক আরো সাত টাকা করে বেড়ে যাবে। এতে করে আমাদের পেঁয়াজ আমদানিতে মূল্য হবে কেজি প্রতি ৬২ থেকে ৬৩ টাকার মতো। এর ফলে পেঁয়াজের দাম আরো বাড়বে।’

পানামা হিলি পোর্ট কর্তৃপক্ষ জানায়, শনিবার (২৬ আগস্ট) হিলি স্থলবন্দর দিয়ে ৩৭টি ট্রাকে এক হাজার ৯৩ টন পেঁয়াজ আমদানি হয়েছে।