টানা বর্ষণ আর জোয়ারে পানি বাড়ায় বরগুনার বেতাগী উপজেলার চান্দখালী বাজার রক্ষা বাঁধ নদীতে ধসে পড়ছে। এক সপ্তাহের টানা বর্ষণের কারণে চান্দখালী বাজারের পশ্চিম পাশের সড়কটি ধসে খাকদোন নদীতে বিলীন হতে চলছে। এতে হুমকিতে রয়েছে চান্দখালী বাজার ও চান্দখালী বহুমুখী মাধ্যমিক বিদ্যালয়টি।
সরেজমিনে দেখা গেছে, চান্দখালী বাজারের বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধটি নদীতে বিলীন হতে চলেছে। একই সাথে সড়কটির পাশে থাকা চান্দখালী বহুমুখী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সীমানা প্রাচীর ভাঙনের ঝুঁকিতে রয়েছে।
বরগুনা পানি উন্নয়ন বোর্ডের সূত্রে জানা গেছে, অতি বর্ষণের কারণে উপজেলার চান্দখালী বাজার রক্ষা বাঁধের ৫০ মিটার খাকদোন নদীতে বিলীন হয়েছে। ভাঙা স্থান দ্রুত সংস্কার করা পদক্ষেপ নেয়ার আশ্বাস মিলেছে।
এলাকার বাসিন্দা আফজাল বলেন, চলতি মাসের প্রথম দিকে টানা বর্ষণের কারণে চান্দখালী বহুমুখী মাধ্যমিক বিদ্যালয়টির পাশের রাস্তাটি ধসে পড়ছে। এই রাস্তা দিয়ে প্রতিদিন অনেক শিশু শিক্ষার্থী চলাচল করে। তারা এখন এই পথ দিয়ে স্কুলে আসা-যাওয়া করতে চায় না।
উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও বেতাগী উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মাকসুদুর রহমান বলেন, সড়ক নদীতে ধসে পড়ার বিষয়ে বরগুনা নির্বাহী প্রকৌশলীর সাথে কথা হয়েছে। অল্প সময়ের মধ্যে কাজ শুরু হবে।
চান্দখালী বহুমুখী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী নাজিবুর রহমান জানায়, স্কুলে আসা-যাওয়ার রাস্তাটি ভেঙে নদীতে পড়ছে। ভাঙাস্থান দিয়ে বিদ্যালয়ে যাওয়া আসা করতে হয়।
চান্দখালী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক আল আমিন হিরা বলেন, এই ভাঙা সড়ক দিয়ে আমাদের প্রতিষ্ঠানের ছোট ছোট শিক্ষার্থীরা আসা-যাওয়া করে। কোনো দুর্ঘটনা ঘটার আগেই এই ভাঙা স্থানটি মেরামত করা দরকার। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের এগিয়ে আসা উচিৎ সড়ক সংস্কারে।
চান্দখালী বহুমুখী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বাবলুর রহমান বলেন, সড়কের ভাঙা স্থান পরিদর্শন করেছেন পানি উন্নয়ন বোর্ডর কর্মকর্তারা। তারা ভাঙা জায়গা পরিমাপ নকঁশা নিয়েছেন।
কারণে আমাদের বিদ্যালয়ের সীমানা প্রাচীরের দেয়াল ভাঙনের ঝুঁকিতে রয়েছে। বর্ষা ও ঘূর্ণিঝড় আঘাত হানলে যে কি অবস্থা হবে তা ভেবেই দুশ্চিন্তায় আছি।
পানি উন্নয়ন বোর্ড বরগুনা কার্যালয়ের নির্বাহী প্রকৌশলী মো: রাকিব বলেন, ভাঙন স্থানটি সরেজমিনে পরিদর্শন করেছি। এরই মধ্যে বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। জরুরি মেরামতের জন্য শিগগিরই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।'



