কুমিল্লার চান্দিনায় প্রবাসী শহীদ উল্ল্যাকে হত্যার দায়ে তার স্ত্রীসহ চারজনের মৃত্যুদণ্ড ও মেয়েকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের আদেশ দিয়েছে আদালত।

বুধবার (৩০ আগস্ট) কুমিল্লার অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ পঞ্চম আদালতের বিচারক জাহাঙ্গীর হোসেন এ রায় দেন।

মৃত্যুদণ্ড প্রাপ্তরা হলেন কুমিল্লা চান্দিনার মাইজখার ইউনিয়নের কাশারীখোলা গ্রামের নিহত শহীদ উল্ল্যার স্ত্রী হাছনেয়ারা বেগম, একই গ্রামের মরহুম খলিলুর রহমানের ছেলে মো: শাহজাহান, মরহুম মধু মিয়ার ছেলে মো: আমির হোসেন ও মরহুম তৈয়ব আলীর ছেলে মো: মোস্তফা। একই সাথে তাদের প্রত্যেককে ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দিয়েছে আদালত।

যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি হলেন নিহতের মেয়ে মোছা: খাদিজা বেগম। খাদিজা বেগমকে ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড, অনাদায়ে আরো ছয় মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দেয়া হয়েছে।

মামলার বরাত দিয়ে পুলিশ কর্মকর্তা মুজিবুর রহমান জানান, পারিবারিক বিরোধের জের ধরে ২০০৯ সালে ২২ নভেম্বর কুমিল্লার চান্দিনার কাশারীখোলা গ্রামে প্রবাস ফেরত শহীদ উল্ল্যাকে স্ত্রী-কন্যাসহ পাঁচজন মিলে শ্বাসরোধ করে হত্যা। পরে লাশ বাড়ি থেকে আধা কিলোমিটার দূরে ধানক্ষেতে ফেলে দেয়। পরে ওই ঘটনায় নিহতের ভাই হাবিব উল্ল্যাহ চান্দিনা থানায় মামলা দায়ের করেন। ১৪ বছর পর মামলার রায় দেয় আদালত।

মামলার রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী জাকির হোসেন বলেন, রায় ঘোষণাকালে আসামি মো: মোস্তফা ও মো: শাহজাহান আদালতে উপস্থিত ছিলেন না। অপর তিনজন আদালতে উপস্থিত ছিলেন।

তবে এ রায়ে ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠা হয়নি দাবি করে আসামি পক্ষের আইনজীবী মো: রাসেল ভূইয়া জানান, ‘প্রকৃতপক্ষে নিহত শহীদ উল্লাহ নিজের মেয়েকে ধর্ষণের চেষ্টা করেছিল। ওই ক্ষোভে মা-মেয়েসহ অপর আসামিরা এ হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে। বাবার এমন হীন ও অসামাজিক কর্মকাণ্ডের জেরে আসামিদের মৃত্যুদণ্ড দেয়ার কোনো যুক্তি নেই। আমরা উচ্চ আদালতে ন্যায় বিচার পাওয়ার জন্য আপিল করব।’