জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জের চিকাজানী ইউনিয়নের ‘খাইরুন সুন্দরী’র গ্রাম খ্যাত ঐতিহ্যবাহী বরখাল যমুনা নদীর ভাঙনে বিলীন হওয়া উপক্রম হয়েছে।

একদিকে তৃতীয় দফায় নদীতে পানি বৃদ্ধি পেয়ে নিম্নাঞ্চলের ফসলের জমি ও বাড়িঘর তলিয়ে গেছে, অপরদিকে যমুনা নদীর বিভিন্ন পয়েন্টে ভাঙন দেখা দিয়েছে। সবচেয়ে বেশি নদী ভাঙন হচ্ছে প্রাচীন জনপদ বড়খাল গ্রামে।

বৃহস্পতিবার ভোর থেকে ব্যাপক হারে নদী ভাঙনের খবর পেয়ে দেওয়ানগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) কামরুন্নাহার শেফা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।

তিনি সেখানে ক্ষতিগ্রস্তদের সান্তনা দেন এবং পানি উন্নয়ন বোর্ডের সাথে কথা বলে জরুরি ভিত্তিতে জিও ব্যাগ ফেলার উদ্যোগ গ্রহণ করেন।

বড়খাল গ্রামের সমাজসেবক মো: আলী হায়দার, সাদেকুল ইসলামসহ অনেকে জানান, বড়খাল হাই-স্কুল, হলকারচর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ভেলামারী বাজারসহ অনেক স্থাপনা চরম হুমকির মুখে। এছাড়া কি জিল বাংলা চিনিকল, রেলস্টেশন, উপজেলা পরিষদ ভাঙনে হুমকির মুখে পড়েছে। তিন দফায় বন্যার পানিতে ধান, সবজির বাগানসহ অন্য ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। উপজেলার ৮ ইউনিয়নের নদী পাড় ও নিচু এলাকা পানিতে ডুবে গেছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) পানি মাপক আ: মান্নান নয়া দিগন্তকে জানান, যমুনায় বাহাদুরাবাদ পয়েন্টে বৃহস্পতিবার বিপৎসীমার ১৯ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হচ্ছিল। উপজেলা পরিষদ, ৫০ শয্যার সরকারি হাসপাতাল, রেলস্টেশন ও উপজেলা পুকুরের ওপর সদ্য নির্মিত বাঁধ পানিতে তলিয়ে গেছে। এতে লোকজনের ও যান চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে।