জয়দেবপুর-ময়মনসিংহ ফোরলেন সড়কের ঢাকাগামী লেনের ভালুকা অংশের অবস্থা খুবই বেহাল। সড়কের মাঝখানে বড় বড় গর্ত হওয়ায় সড়কটি যান চলাচলের প্রায় অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। ঝুঁকি নিয়েই চলছে শিল্পপ্রতিষ্ঠানের শ্রমিকবাহী গাড়িসহ দূরপাল্লার যানবাহন। মাঝে মধ্যে বিভিন্ন স্থানে লোক দেখানো নিম্নমানের খোয়াবালু দিয়ে মেরামত করা হলেও মাছবাহী গাড়ির পানি পড়ে ও গাড়ির চাকার ঘষায় সপ্তাহ যেতে না যেতেই আবার আগের রূপ ধারণ করেছে। বিশেষ করে ভরাডোবা বাসস্ট্যান্ড থেকে সীমান্তবর্তী মাস্টারবাড়ি পর্যন্ত সড়কের অবস্থা খুবই খারাপ।
সম্প্রতি ভালুকা বাসস্ট্যান্ড থেকে খান বাড়ি পর্যন্ত মহাসড়কে ছোট বড় খানাখন্দের সৃষ্টি হলে ১৮৬ মিটার সড়ক ভেঙে আরসিসি ঢালাই করা হয়। ওই সময় আরো ৫০০ মিটার সড়কের খানাখন্দ ইট ও বালু মাটি দিয়ে নামমাত্র মেরামত করা হয়েছিল। কিন্তু কিছুদিন যেতে না যেতেই খানাখন্দগুলোর ইট বালু সরে গিয়ে আরো ছোট বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। ফলে ওই অংশটুকু যান চলাচলের প্রায় অযোগ্য হয়ে পড়েছে। ঝুঁকি নিয়েই চলাচল করছে দূরপাল্লা ও স্থানীয় যানবাহন। এতে চালক ও যাত্রীদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। এ ছাড়াও ওই লেনের ভালুকা সেতুর দক্ষিণ পাড় থেকে মাস্টারবাড়ি এবং ভরাডোবা বাসস্ট্যান্ড থেকে ভালুকা পৌর এলাকা পর্যন্ত সড়কের মাঝে মধ্যে ঢালাই উঠে গিয়ে খানাখন্দের সৃষ্টি হয়েছে।
একাধিক পথচারী ও স্থানীয়রা জানান, প্রায় ১৩ বছর আগে ভালুকা অংশে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির মধ্য দিয়ে ফোরলেনের কাজ করা হয়। তা ছাড়া ভালুকা অংশে মহাসড়ক ঘেঁষে বেশ কয়েকটি স্থানে অপরিকল্পিভাবে গভীর নলকূপ স্থাপন করে মাছের গাড়ির ড্রামে পানি দেয়াসহ মাছের গাড়ি সড়কে পানি পড়ায় কয়েক বছরেই সড়কটি দেবে গিয়ে বড় বড় খাদের সৃষ্টি হয়েছে। মাঝে মধ্যে ইট ও বালুমাটি দিয়ে গর্তগুলো ভরাট করা হলেও তা সপ্তাহ যেতে না যেতেই মাছের গাড়ির পানিতেই ভেসে গিয়ে আবার আগের অবস্থায় ফিরে যায়।
ফরহাদ মিয়াসহ বেশ কয়েকজন চালক জানান, সড়কে ছোট বড় গর্তের কারণে গাড়ী ধীরগতিতে চালাতে হচ্ছে। এতে গন্তব্যে পৌঁছতে সময় বেশি লাগে। এ ছাড়া এক দিকে যেমন গাড়ির বিভিন্ন ধরনের ক্ষতি হচ্ছে, অন্য দিকে যাত্রীদের পড়তে হচ্ছে চরম দুর্ভোগে।
পথচারী ফখরুল ইসলাম জানান, মহাসড়কের পাশ দিয়ে চলা দুষ্কর হয়ে পড়েছে। যাত্রীবাহী বাস, ট্রাক ও বিভিন্ন গাড়ি চলার সময় গর্তে জমে থাকা পানি ছিটে গায়ে এসে পড়ে। তা ছাড়া ছোট ছোট পাথর ছুটে এসে গায়ে লেগে অনেকইে আহত হয়েছেন।
ভালুকা সরকারি কলেজের একাধিক শিক্ষার্থী জানান, কলেজে যাওয়ার পথে মহাসড়কে অসংখ্য গর্তে জমে থাকা পানি ও ছোট পাথর গাড়ির চাকার ঘর্ষণে ছুটে এসে অনেক সময় কাপড় নষ্ট করে দেয়।
উল্লেখ্য, বৃহত্তর ময়মনসিংহ অঞ্চলের সাথে রাজধানী ঢাকা ও দেশের অন্যান্য স্থানের সড়ক যোগাযোগব্যবস্থাকে সহজতর, আরামপ্রদ, নিরাপদ ও যানজটমুক্ত করার লক্ষ্যে ২০১০ সালে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের ময়মনসিংহ থেকে জয়দেবপুর চৌরাস্তা পর্যন্ত ৮৭ দশমিক ১৮ কিলোমিটার সড়ক ফোরলেনে উন্নীতকরণের লক্ষ্যে ৯০২ কোটি ২২ লাখ টাকার একটি প্রকল্প হাতে নেয়া হয়। পরে কাজ শুরু করতে বিলম্ব হওয়ায় নির্মাণ ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় প্রকল্পের সংশোধিত ব্যয় এক হাজার ৮০০ কোটি টাকায় গিয়ে ঠেকে।
ময়মনসিংহ সড়ক ও জনপথ বিভাগের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী মোফাখখারুল ইসলাম জানান, ফোরলেন সড়কের ভালুকা অংশের যেসব স্থানে গর্তের সৃষ্টি হয়েছে- তা ইট বালু দিয়ে মেরামতের কাজ চলমান আছে।
জয়দেবপুর-ময়মনসিংহ ফোরলেনের ভালুকা অংশ বেহাল
জয়দেবপুর-ময়মনসিংহ ফোরলেন সড়কের ঢাকাগামী লেনের ভালুকা অংশের অবস্থা খুবই বেহাল। সড়কের মাঝখানে বড় বড় গর্ত হওয়ায় সড়কটি যান চলাচলের প্রায় অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। ঝুঁকি নিয়েই...



