যশোরের চৌগাছা থানা চত্বরে রোদ-বৃষ্টিতে নষ্ট হচ্ছে বিভিন্ন সময় জব্দ করা যানবাহন। খোলা আকাশের নিচে রোদে পুড়ে ও বৃষ্টিতে ভিজে নষ্ট হওয়ায় ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়ছে যানবাহনের যন্ত্রপাতি। আইন প্রয়োগকারী সংস্থার হাতে জব্দ হওয়া এসব যানবাহন মামলার দীর্ঘসূত্রতায় থানা প্রাঙ্গণে পড়ে রয়েছে।
সরেজমিন দেখা গেছে, বিপুলসংখ্যক বিভিন্ন ব্র্যান্ডের মোটরসাইকেল, প্রাইভেট কার, ট্রাক, আলমসাধু, মাইক্রোবাস, পিকআপ ও সিএনজি অটোরিকশা ছাড়াও নানা ধরনের যানবাহন মামলার জটে থানা প্রাঙ্গণে অযত্নে পড়ে থেকে নষ্ট হচ্ছে। জব্দকৃত যানবাহনের মধ্যে মোটরসাইকেলের সংখ্যা বেশি। দীর্ঘদিন অযত্ন-অবহেলায় রাখা এসব যান মরিচা ধরে জরাজীর্ণ ও বিবর্ণ হয়ে পড়েছে। কোনোটি আবার আগাছায় ঢেকে গেছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, জব্দ করা এসব যানবাহনের সুষ্ঠু সংরক্ষণের ব্যবস্থা না থাকায় পুলিশও বেকায়দায় রয়েছে। এসব যানবাহন থানা প্রাঙ্গণের বড় একটি অংশ দখলের পাশাপাশি পরিবেশও নষ্ট করছে। এর মধ্যে বৃষ্টির পানি জমে মশা-মাছি ও পোকামাকড় জন্ম নিচ্ছে।
চৌগাছা থানার ওসি ইকবাল বাহার চৌধুরী বলেন, থানা চত্বরে রাখা মোটরসাইকেলগুলোর কাগজপত্রসহ বিভিন্ন জটিলতা থাকায় যশোর ট্রাফিক পুলিশ এগুলো ধরেছে।
এ বিষয়ে যশোর জেলা আইনজীবী সমিতির সদস্য অ্যাডভোকেট আব্দুল আলী বলেন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযানে উদ্ধার এসব যানবাহনের দীর্ঘদিনেও মামলা নিষ্পত্তি না হওয়ায় এগুলো নষ্ট হচ্ছে। ব্যবহার উপযোগী মোটরসাইকেলসহ যানবাহনগুলো আদালত নিলামের মাধ্যমে বিক্রি করে রাজস্ব আয় বাড়াতে পারে।
এ বিষয়ে চৌগাছা উপজেলা চেয়ারম্যান অধ্যক্ষ ড. মোস্তানিছুর রহমান বলেন, মামলাজট দ্রুত নিষ্পত্তি করা গেলে মালিকরা তাদের যানবাহন ফেরত পাবেন। অন্য দিকে মালিকবিহীন যানগুলো নিলামে বিক্রি করা হলে রাষ্ট্রীয় কোষাগারে বিপুল অর্থ জমা হতে পারে।



