বিদেশে লোভনীয় চাকরির কথা বলে স্বল্পমেয়াদি ভিসায় লোক পাঠিয়ে বগুড়ার শাজাহানপুরের এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে অন্তত ৬ জনের কাছ থেকে প্রায় কোটি টাকা হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগ উঠেছে। কাজ না পেয়ে ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ায় এক-দেড় মাস যাবত তাদেরকে একটি কক্ষে আটকে রাখা হয়েছে। সারা দিনে একবার খেতে দেয়া হচ্ছে। বিদেশে এমন মানবেতর জীবন যাপনের কথা দেশে স্বজনদের জানানো হয়েছে বলে তাদের পরিবার জানিয়েছেন। আর এসবের প্রতিকার চাইলে ঐ দালাল চক্র আরো টাকা দাবি করে হুমকি দিচ্ছে। বুধবার ভুক্তভোগী প্রবাসীদের পরিবারের সদস্যরা অভিযোগ করেন, দালাল চক্রের মূল হোতা উপজেলার গোহাইল বাজারের লিটন মিয়া (৪৩)। সে সিরাজগঞ্জ থেকে এসে এখানে চোখ ধাঁধানো অট্টালিকা তৈরি করে বসতি গড়েছেন এবং এলাকার কিছু প্রভাবশালীকে নিয়ে দালাল চক্র তৈরি করেছেন। ফলে তাদের কথা লোকজন বিশ্বাস করে অনায়াসে। এমন বিশ্বাস থেকেই উপজেলার গোহাইল ইউনিয়নের গোহাইল গ্রামের আবদুল মান্নানের ছেলে নওশাদ ((৩৮), মোহাম্মদ আলীর ছেলে রাসেল মিয়া (৩৫), রাজু মিয়ার ছেলে সাঈদী হাসান (৪০), শালিখা গ্রামের নাজু মিয়ার ছেলে ফরহাদকে মালয়েশিয়া পাঠানোর প্রলোভন দেন লিটন ও তার স্থানীয় দালাল চক্র। তারা সরল মনে বিশ্বাস করে কেউ বাড়ির ভিটা বিক্রি করে, কেউ লোন বা কিস্তির উপর টাকা নিয়ে, গরু ছাগল ও গয়না বিক্রি করে ৮ লাখ টাকা করে দেন। মালয়েশিয়া পৌঁছার পর তারা দেখেন ২-৩ মাসের স্বল্পমেয়াদি ভিসা। তাও আবার নির্দিষ্ট কোনো কোম্পানির চাকরি নয়। এ জন্য তারা কোনো কোম্পানির চাকরি পাচ্ছেন না। তাই তাদের একটি কক্ষে আটকে রাখা হয়েছে এবং সারা দিনে একবেলা খাবার দেয়া হচ্ছে। ভুক্তভোগীরা চাকরির কথা বললে সেখানকার প্রবাসী দালালরা বলে ‘চাকরি খোঁজা হচ্ছে। বাড়ি থেকে আরো টাকা পাঠাতে বলো।’ পরিবারগুলো এমন অসহায়ত্বের খবর জানতে পেরে আহাজারি করছে। এখন তারা কোথায় পাবে আরো টাকা। কিভাবে পরিশোধ করবে তাদের ঋণের কিস্তি।

এক ভুক্তভোগী সাঈদী হাসানের মা সাজেদা বেগম জানান, তিনি বিভিন্ন বাসা বাড়ি ও মাঠে ঘাটে কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করেন। তিনি তার বাড়ির একমাত্র ভিটা বিক্রি করে, গরু ছাগল বিক্রি করে ও কিস্তির উপর টাকা নিয়ে ছেলেকে বিদেশে পাঠিয়েছেন সুখের আশায়।
ফরহাদের স্ত্রী শাবানা খাতুন অশ্রুশিক্ত নয়নে বলেন, জমি ও গয়না বিক্রি করে স্বামীকে বিদেশ পাঠিয়েছেন সুখী হওয়ার আশায়। কিন্তু সে আশায় গুড়েবালি। আজ শুধু জমি গয়নাই হারাননি, স্বামীকেও বিপদের মধ্যে ফেলে দিয়েছেন। তারা থানায় অভিযোগ করারও সাহস পাচ্ছেন না।
জানা গেছে, এভাবে বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে লিটন মিয়া মানুষের বিশ্বাস অর্জনের জন্য প্রথমে মনকাড়া বাড়ি নির্মাণ করেন। এরপর সিন্ডিকেট তৈরি করে বিদেশে লোক পাঠানোর নামে অর্থ হাতিয়ে নিয়ে গোপনে ঐ বাড়ি বিক্রি করে সেখান থেকে লাপাত্তা হয়ে যান। এ দিকে প্রতারিত ব্যক্তিদের অভিযোগ সম্পর্কে জানার জন্য লিটন মিয়ার বাড়িতে গেলে তিনি কোনো কথা বলতে রাজি হননি। তাই দালাল চক্রের সব সদস্যকে গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছে ভুক্তভোগী পরিবারগুলো।