বাহ্যিক দৃষ্টিতে পরিপাটি ও গোছালো একটি হাসপাতাল ঢাকা জেলার নবাবগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য-কমপ্লেক্স। রোগীদের সেবা প্রদানের ক্ষেত্রে হাসপাতালের স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তার আন্তরিকতার অভাব নেই। প্রতিদিন ডেঙ্গুসহ বিভিন্ন রোগী চিকিৎসাসেবা নিতে হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছে। নানা প্রতিবন্ধকতায় ৫০ শয্যার হাসপাতালটিতে রোগীর সঙ্কুলান হচ্ছে না।
সম্প্রতি এক সকালে উপজেলার কলাকোপা এলাকার প্রশান্ত সরকার জ্বরে আক্রান্ত তার বৃদ্ধা মাকে ভর্তি করান। ডা: মেজবাহ বৃদ্ধাকে ডেঙ্গুসহ আরো সাত-আটটি অপ্রয়োনীয় টেস্ট দেন এবং কোন ক্লিনিক থেকে টেস্টগুলো করাতে হবে তাও বলে দেন। প্রশান্ত জানান, যেখানে সরকারি হাসপাতালে ১০০ টাকা দিয়ে ডেঙ্গু টেস্ট করা যায় সেখানে ওই চিকিৎসক অপ্রয়োজনীয় টেস্ট দিয়ে বাড়তি ব্যয়ের মধ্যে ফেলেছেন। চার দিন আগে ডেঙ্গু জ্বর নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন নমিতা চক্রবর্তী। টাকা-পয়সা কম বলে হাসপাতালে সেবা নিতে আসা নমিতা চক্রবর্তী জানান, যে ডাক্তার তাকে দেখেছেন তিনি ক্লিনিক থেকে টেস্টগুলো করানোর কথা বলেছেন। সবগুলো টেস্ট বাইরে থেকে বাড়তি টাকা দিয়ে করাতে হয়েছে।
জানা যায়, রোস্টারভাবে হাসপাতালে ভর্তি রোগী দেখেন ডা: প্রীতম দে, ডা: মেজবাহ উদ্দিন, ডা: শাহনেওয়াজ, ডা: নিপা ও ডা: ফয়সাল। হাসপাতালের বাইরে থেকে টেস্ট করানোর কথা বলেন বলে অভিযোগ করেন ভর্তি থাকা রোগীরা। অথচ সব টেস্টের সুবিধা হাসপাতালেই রয়েছে।
এ ব্যাপারে নবাবগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা শহিদুল ইসলাম বলেন, আমি হাসপাতালের সব চিকিৎসকদের জানিয়ে দিয়েছি, কোনো রোগী কিংবা রোগীর আত্মীয়স্বজনরা যেনো কোনো হয়রানির স্বীকার না হন। আমাদের হাসপাতালে যেসব টেস্টের সুবিধা রয়েছে সেগুলো যাতে সবাই নিতে পারেন এবং যেসব টেস্টের ব্যবস্থা নেই সেগুলো যেনো বাহির থেকে করিয়ে নেন। ভবিষ্যতে যাতে এ ধরনের কোনো ঘটনা না ঘটে সেজন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানান তিনি।