কক্সবাজারের উখিয়ার রাজাপালং ইউনিয়নের হরিণমারা এলাকায় রাস্তার কাজ দীর্ঘ তিন বছরেও শেষ হয়নি। অতি বৃষ্টিতে রাস্তার মাটি সরে গিয়ে উল্টো রাস্তাটি মরণ ফাঁদে পরিণত হয়েছে। প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে স্কুল-কলেজ-মাদরাসার শিক্ষার্থীসহ ১০ গ্রামের হাজার হাজার মানুষকে। এরই মধ্যে গত তিন মাস ধরে বন্ধ রয়েছে নির্মাণ কাজ।
সরেজমিন দেখা গেছে, উপজেলার রাজাপালং (জাদিমোরা) ষ্টেশন থেকে কয়েক কিলোমিটার সামনে কুমারপাড়াসংলগ্ন এলাকায় সংস্কারের জন্য রাস্তার পাড় খনন করলেও অতি বৃষ্টিতে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে রাস্তাটির একাংশ। এর এক পাশ দিয়ে পথচারীরা ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে পারলেও যানবাহন চলাচল বন্ধ রয়েছে। উখিয়া উপজেলা এলজিইডি অফিস সূত্রে জানা যায়, চন্দনাইশের হাসান টেকনো ফার্ম নামের এক ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এই রাস্তাটির কাজ শুরু করে। কিন্তু এক বছরের মধ্যে কাজ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও তিন বছরেও তারা শেষ করতে পারেননি।
এ রাস্তার কাজ শুরু হওয়ার পেছনে বিশেষ ভূমিকা ছিল রাজাপালং ইউনিয়ন পরিষদের ৩নং ওয়ার্ডের সাবেক সদস্য মোহাম্মদ শাহজাহানের। তিনি বলেন, আমি ইউপি সদস্য থাকাকালীন এই রাস্তার কাজ শুরু হয়েছে। আমি দায়িত্বে নেই প্রায় দুই বছর, কিন্তু এখনো শেষ হয়নি রাস্তাটির কাজ। হারাশিয়া, হরিণমারা, দক্ষিণ হরিণমারা, পশ্চিম হরিণমারা, আমিনপাড়াসহ ১০ গ্রামের মানুষ নিত্য যাতায়াত করে এই রাস্তা দিয়ে। বর্তমানে রাস্তার দুরবস্থার কারণে অনেক কষ্টে ও ঘুরপথে এলাকার শিক্ষার্থীসহ সবাইকে যাতায়াত করতে হয়। গ্রামের অসুস্থ মানুষকে হাসপাতালে নেয়ার দরকার হলে সমস্যায় পড়েন তারা।
রাস্তাটি দিয়ে যান চলাচল করা তো দূরের কথা, পায়ে হেঁটে যাওয়াও কষ্টসাধ্য। হেঁটে যেতে গিয়ে শিশু, বৃদ্ধ ও নারীরা রাস্তার পাশে ছিটকে পড়ে যান। রাস্তাটি দিয়ে যাতায়াতকারী প্রবীণ ব্যক্তি রশিদ আহমদ জানান, দীর্ঘদিন এভাবে পড়ে আছে রাস্তাটি। দেখার যেন কেউ নেই। রাস্তাটি খালের পাশে হওয়ায় রাস্তার জায়গা খালে বিলীন হয়ে যাচ্ছে।
ব্যবসায়ী মোহাম্মদ সৈয়দ হোছাইন জানান, গুরুত্বপূর্ণ এই রাস্তাটি দিয়ে প্রতিদিন স্কুল-কলেজ-মাদরাসার ছাত্রছাত্রী ও ব্যবসা-বাণিজ্যের জন্য উপজেলা সদরগামী শত শত মানুষ যাতায়াত করে। কিন্তু অজ্ঞাত কারণে রাস্তাটির কাজ প্রায় তিন বছরেও শেষ হচ্ছে না। তিনি আরো জানান, আমাদের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানসহ যেকোনো কাজে এই রাস্তা দিয়ে চলাচল করতে হয়। এছাড়াও রোগীদের চিকিৎসার জন্যও এই রাস্তা দিয়ে যেতে হয়। গত কয়েক মাস রাস্তার কাজ বন্ধ থাকায় অসুস্থ মানুষদের নিয়ে যাওয়াও খুব কষ্টসাধ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে।
এ বিষয়ে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান চন্দনাইশের হাসান টেকনো ফার্মের সংশ্লিষ্টদের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করেও বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি।
উখিয়া উপজেলা প্রকৌশলী কার্যালয়ের নক্সাকার (উঃসঃপ্রঃ) আমিনুল হক মজুমদার বলেন, বৃষ্টি বাদলের দিন হওয়ায় কাজ শুরু করা যাচ্ছে না। দ্রুত কাজ করার জন্য ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে চিঠি দেয়া হয়েছে। এ রাস্তার ৬০ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে। শুধু ৩০০ মিটারের মতো কাজ বাকি আছে। এছাড়াও রাস্তাটি টেকসই করতে একটি কালভার্ট দেয়ার চেষ্টা চলছে, তবে একটি পক্ষ করতে দিচ্ছে না। যদি এলাকাবাসী কালভার্ট না চায় তাহলে কালভার্ট ছাড়াই রাস্তার কাজ শুরু হবে। আর সামনে হিন্দু সম্প্রদায়ের ধর্মীয় উৎসব থাকায় অন্য রাস্তার কাজ বন্ধ করে হলেও আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে এই কাজ শুরু হতে পারে বলে জানান তিনি।
৩ বছরেও শেষ হয়নি উখিয়ায় হরিণমারা রাস্তার কাজ
কক্সবাজারের উখিয়ার রাজাপালং ইউনিয়নের হরিণমারা এলাকায় রাস্তার কাজ দীর্ঘ তিন বছরেও শেষ হয়নি। অতি বৃষ্টিতে রাস্তার মাটি সরে গিয়ে উল্টো রাস্তাটি মরণ ফাঁদে পরিণত হয়েছে।...



