লালমনিরহাটের পাটগ্রাম উপজেলার বুড়িমারী স্থলবন্দরে মজুরীর টাকা না দেয়া ও সাধারণ শ্রমিকদের কাজের সিরিয়াল দেয়াকে কেন্দ্র করে শ্রমিক ও সর্দার গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষে সাংবাদিকসহ অন্তত ১৫ জন শ্রমিক আহত হয়েছে। পরিস্থিতি শান্ত করতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ঘটনাস্থলে গেলে শ্রমিকেরা তাকে প্রায় ৬ ঘণ্টা ধরে অবরুদ্ধ করে রেখেছে।
সংশ্লিষ্ট সুত্রে জানা গেছে, বুড়িমারী স্থলবন্দরের লোড-আনলোড কাজের সাধারণ শ্রমিকেরা দীর্ঘদিন ধরে সর্দারদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ করে আসছেন।
মঙ্গলবার (১২ সেপ্টেম্বর) দুপরে বুড়িমারী স্থলবন্দর শ্রমিকলীগের সদস্যরা কাজের সিরিয়াল দিতে গিয়ে সর্দার গ্রুপের লোকজনেরা বাধা দেয়। এ সময় উভয় গ্রুপের মধ্যে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। এর আগে অভিযোগের প্রেক্ষিতে সোমবার (১১ সেপ্টেম্বর) শ্রমিকরা লোড-আনলোড বন্ধ রাখেন।
পরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নুরুল ইসলাম ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফেরদৌস ওয়াহিদ ও বুড়িমারী ইউনিয়ন চেয়ারম্যান তাহাজুল ইসলাম মিঠু, শ্রমিক হ্যান্ডেলিং ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি নজরুল ইসলাম ঘটনাস্থলে গিয়ে শ্রমিকদের আগামী ১৬ সেপ্টেম্বর মজুরীর টাকা পরিশোধ করার আশ্বাস দেন।
পরিস্থিতি শান্ত করতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নুরুল ইসলাম, সহকারী পুলিশ সুপার (বি-সার্কেল) ফরহাদ ইমরুল কায়েস ও ওসি ফেরদৌস ওয়াহিদ ঘটনাস্থলে যান। এ সময় শ্রমিক ও সর্দারদের সৃষ্টবিষয় নিয়ে সাধারণ শ্রমিকদের সাথে কথা বলার সময় উভয় গ্রুপ উত্তেজিত হয়ে ওঠে। সর্দার গ্রুপের শ্রমিকরা লালমনিরহাট বুড়িমারী সড়ক অবরোধ করে রাখে। এতে ভারত-বাংলাদেশের শত শত পণ্যবাহী ট্রাক আটকে পড়ে এবং পাসপোর্ট যাত্রীরাও তীব্র বিপাকে পরে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ টিয়ারসেল ও রাবার বুলেট নিক্ষেপ করে। এতে সাংবাদিকসহ উভয় গ্রুপের অন্তত ১৫ জন আহত হয়।
আহতরা হলেন আসাদুজ্জামান, বাবুল, জামিয়াল, নুরনবী, হাসানুর, আলী হোসেন, সুমন, বুলেট, লিটন, মনিজুল, আলীয়ার, শরিফুদ্দিন, মালেকুল ও মানিক। এ সময় খবর সংগ্রহ করতে গিয়ে এশিয়ান টিভির পাটগ্রাম প্রতিনিধি এম এ কামাল আহত হন। গুরুত্বর আহত লিটন, নুরনবী, আলী হোসেন ও আলীয়ারকে রংপুরে পাঠানো হয়েছে।
ঘটনার সময় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নুরুল ইসলাম বুড়িমারী স্থলবন্দরের উদ্ভিদ সঙ্ঘনিরোধ কার্যালয়ে অবস্থান করলে উত্তেজিত শ্রমিকেরা তাকে প্রায় ছয় ঘণ্টা ধরে অবরুদ্ধ করে রাখে।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ ও বিজিবি সদস্যদের মোতায়েন করা হয়। সন্ধায় শ্রমিক, সর্দার ও লেবার হ্যান্ডেলিং ঠিকাদারের প্রতিনিধিকে নিয়ে আলোচনার মাধ্যমে আগামী ১৬ সেপ্টেম্বর লালমনিরহাট জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে সমস্যা সমাধানে বৈঠকের আশ্বাস দিলে পরিস্থিতি শান্ত হয়। সন্ধার ৭টার পর যানবাহন ও পণ্যবাহী গাড়ি চলাচল স্বাভাবিক হয়।
ইউএনও নুরুল ইসলাম বলেন, ঠিক অবরুদ্ধ নয় তবে পরিস্থিতি এখন শান্ত রয়েছে। আমরা সবকিছু নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা করেছি।



