কুমিল্লার দেবিদ্বার উপজেলার জাফরগঞ্জ ইউনিয়নের বেগমাবাদ গ্রামে হিন্দু দুই পরিবারে জায়গা-জমির বিরোধকে কেন্দ্র সংখ্যালঘুর বাড়িতে হামলা ও ভাঙচুরের খবরটি অসত্য ও ভিত্তিহীন দাবি করেছেন হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান ঐক্যপরিষদ নেতারা। গত বুধবার বিকেলে বেগমাবাদ পূর্বপাড়া রাধা মধাব মন্দির প্রাঙ্গণে এক সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি করেন নেতারা। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন আপন কৃষ্ণ রায়।
নেতারা দাবি করে বলেন, কয়েকটি স্থানীয় ও জাতীয় পত্রিকায় পারিবারিক বিরোধকে উসকানি দিয়ে বাড়িঘর ভাঙচুরসহ সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা সৃষ্টির পাঁয়তারার অংশ হিসেবে ভুয়া সংবাদ প্রকাশ করেছে। এতে আমরা বিব্রত হয়েছি। একটি পক্ষ থেকে সুবিধা নিয়ে হিন্দুদের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি করার জন্য এই সংবাদ প্রকাশ করা হয়েছে। অথচ বেগমাবাদ এলাকায় গত ৫০ বছরেও সংখ্যালঘু পরিবারে হামলা ভাঙচুরের কোনো ঘটনা ঘটেনি। আমরা এমন সংবাদ প্রকাশের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি।

সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন উপজেলা পুজা উদযাপন কমিটির সহসভাপতি সুজিত পোদ্দার, হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান ঐক্যপরিষদের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক তপন কুমার সাহা, প্রচার সম্পাদক সুমন সাহা, ইউপি সদস্য আবুল কাশেম, বেগমাবাদ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সভাপতি রতন পোদ্দার, স্থানীয় ব্যবসায়ী শ্যামল সাহা-১, শ্যামল সাহা-২, প্রদীপ সাহা, সাবেক ইউপি সদস্য সুভাস প্রমুখ।

এ সময় বক্তারা আরো বলেন, স্থানীয় বাসিন্দা আপন কৃষ্ণ রায় ও প্রবীর কুমার সাহার মধ্যে দুই শতাংশ জমি নিয়ে বিরোধ চলছিল। গত ৪ আগস্ট ইউপি চেয়ারম্যান জাহিদুল আলমসহ কয়েকজন পার্শ^বর্তী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ও গণ্যমান্যদের সাথে সালিস শেষে জুড়িবোর্ড গঠনের মাধ্যমে দুই শতাংশ জায়গা পূর্বে ও পশ্চিমে লম্বালম্বি করে ভাগ করে এবং প্রবীরকে এক লাখ টাকা প্রদানের নির্দেশ দেয়া হয়। আপন কৃষ্ণ সাহা রায় মেনে পাঁচ হাজার টাকা প্রবীরের হাতে তুলে দেন। গত ১১ সেপ্টেম্বর প্রবীর কুমার সাহা রায় না মেনে হঠাৎ দলবল নিয়ে বিরোধপূর্ণ জায়গায় সীমানা প্রাচীর নির্মাণের কাজ শুরু করেন। পরে সংবাদ পেয়ে ইউপি চেয়ারম্যান জাহিদ আলম প্রথমে প্রবীর সাহাকে ফোনে কাজ বন্ধ রাখতে অনুরোধ করেন। এতে ফোনে প্রবীর সাহা চেয়ারম্যানের সাথে উচ্চবাচ্য কথাবার্তা বললে চেয়ারম্যান কিছুক্ষণ পর নিজে ঘটনাস্থলে এসে প্রবীরকে কাজ বন্ধ রেখে ভাঙা কালভার্ট মেরামত করার জন্য বলে একটি ধাক্কা দেন। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে কে বা করা একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেয়। আর এ ভিডিওকে কেন্দ্র করে কিছু সংবাদকর্মী সংখ্যালঘু পরিবারে হামলা ভাঙচুর নিয়ে অসত্য সংবাদ প্রকাশ করেন।

এ দিকে বুধবার সন্ধ্যায় হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা পুরো মিথ্যা দাবি করে ইউপি চেয়ারম্যান জাহিদ আলম বলেন, বেগমাবাদ এলাকায় সংখ্যালঘু পরিবারের ওপর হামলার যে সংবাদ প্রকাশ হয়েছে সেটি উদ্দেশ্য প্রণোদিত। এ সংবাদের মাধ্যমে জনমনে আতঙ্ক ছড়িয়ে দেয়া হয়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।