ঝিনাইদহের কালীগঞ্জে বেড়েই চলেছে ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা। সাধারণ মানুষের মধ্যে ডেঙ্গু আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
এরই মাঝে কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কম্পিলেক্সে ১৩১ জন ডেঙ্গু রোগী চিকিৎসা নিয়েছেন, আর বর্তমানে আটজন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালটিতে ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নিচ্ছেন।
ডেঙ্গু রোগীরা তাদের জন্য র্নিধারিত আলাদা ওয়ার্ডে শুয়ে মশারির মধ্যে চিকিৎসা নিচ্ছেন। শহরে বেশকিছু রাস্থায় সৃষ্ট গর্তে পানি জমা ও ড্রেনেজ অবস্থা নাজুক হওয়ায় মশার লার্ভা সৃষ্টি হচ্ছে বলে অভিজ্ঞ ব্যক্তিরা বলছেন।
সম্প্রতি কালীগঞ্জ উপজেলা প্রশাসন ডেঙ্গু প্রতিরোধে সভা-সেমিনার করলেও মাঠ পর্যায়ে এর কোনো কার্যক্রম দেখা যায়নি।
বর্তমানে সামান্য জ্বর, ঠান্ডা ও কাশিতে আক্রান্ত ব্যক্তিরা ডাক্তারের কাছে গেলে তাদের ডেঙ্গু পরীক্ষার জন্য বিভিন্ন ডাইগনস্টিক সেন্টারে পাঠানো হচ্ছে। দেয়া হচ্ছে একাধিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা। এসব পরীক্ষার মধ্যে রয়েছে, সিবিসি, এমএসওয়ান, আইজিএম ও আইজিজি । এ সকল পরীক্ষায় রোগী প্রতি খরচ হচ্ছে এক হাজার ২০০ থেকে এক হাজার ৫০০ টাকা পর্যন্ত। অথচ সরকারি হাসপাতালে রোগী প্রতি ফি ৫০ টাকা।
কালীগঞ্জ সিটি ডাইগনস্টিকের কর্ণধর মনজুর হোসেন জানান, আমরা রোগীদের প্যাকেজের মাধ্যমে পরীক্ষা করে থাকি। সরকারি নিয়মে পরীক্ষা করে রোগী প্রতি এক হাজার টাকা করে নেয়া হয়। তবে অনেক রোগী অভিযোগ করেছেন, ডেঙ্গুর প্রকোপ বাড়ার সাথে সাথেই সরকারি হাসপাতালে ডাক্তারদের কাছে বিভিন্ন ডাইগনস্টিক সেন্টারের লোকজনের আনাগোনা বেড়েছে । অভিযোগ আছে, ডাক্তারদের কাছে রোগী গেলেই কমিশনে তাদের বিভিন্ন ডাইগনষ্টিক সেন্টারে পাঠানো হচ্ছে।
কালীগঞ্জ উপজেলা স্বস্থ্য কম্পিলেক্সের মেডিক্যাল অফিসার ডা. শিশির কুমার সানা জানান, ডেঙ্গু প্রতিরোধে আমরা রোগীদের আন্তরিক সেবা দিয়ে যাচ্ছি। ডেঙ্গু প্রতিরোধে হাসপাতালে আলাদা ওয়ার্ড খোলা হয়েছে। তবে ডেঙ্গু প্রতিরোধে সবাইকে সচেতন হতে হবে।
কালীগঞ্জ পৌরসভার মেয়র আশরাফুল আলম আশরাফ জানান, ডেঙ্গু প্রতিরোধে যা যা করণীয় আমরা সবকিছুই করছি। পরিষ্কার-পরিছন্নতা, ওষধ ছিটানো, মাইকিং ও লিফলেট বিতরণসহ সবাইকে সচেতন করার জন্য কাজ করছি। ডেঙ্গু প্রতিরোধে পৌরসভায় ১০টি টিম কাজ করছে। প্রতিদিন বিকেলে ওষধ ছিটানো হচ্ছে।



