চুয়াডাঙ্গার জীবননগর শহরের হাসপাতাল সড়কের একটি ক্লিনিক অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারে ভুল অস্ত্রোপচারের কারণে মারাত্মক অসুস্থ নওয়াজেস হোসেন (৫০) অবশেষে মারা গেছেন। এ ঘটনায় ক্লিনিক মালিক দুই লাখ টাকা দিয়ে মৃতের পরিবারের সাথে দফারফা করেছেন। উভয় পক্ষের মধ্যে আপস নিষ্পত্তি হওয়ায় ঘটনার ব্যাপারে কোনো মামলা হয়নি। নিহত নওয়াজেস হোসেনের বাড়ি উপজেলার কেডিকে ইউনিয়নের কাশিপুর গ্রামে। বুধবার বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
নওয়াজেসের পরিবার ও স্থানীয়রা জানান, পল্লী চিকিৎসক কায়দার আলী তাকে গত ৭ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যার দিকে ক্লিনিকে নিয়ে যান। ক্লিনিকের মালিক আব্দুল জব্বার বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর তাকে হার্নিয়া অপারেশন করতে হবে বলে জানান। তাকে পরের দিন অপারেশন করা হবে বলে জানালেও ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ পরিবারের কাউকে কিছু না জানিয়ে ওই দিন রাত সাড়ে ৮টার দিকে অপারেশন করেন। অপারেশনের পর তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হতে থাকে। এক পর্যায়ে তাকে পরিবারের সদস্যরা চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে ভর্তি করেন। সেখানেও অবস্থার উন্নতি না হওয়ায় তাকে ২১ তারিখে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানকার চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর জানান নওয়াজেসকে ভুল অস্ত্রোপচার করা হয়েছে। তাকে আইসিইউতে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখার এক পর্যায়ে বুধবার বিকেলের দিকে মৃত্যু হয়।
এ দিকে ভুল চিকিৎসায় নওয়াজেসের মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ তুলে মৃতের পরিবার ও স্থানীয়রা ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন। তারা উত্তেজিত হয়ে উঠলে ক্লিনিক মালিকরা তোপের মুখে পড়েন। পরে দুই লাখ টাকার চেক দিয়ে বিষয়টি দফারফা করেন ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ।
মৃত ব্যক্তির ভাই মোস্তফা ওরফে মস্ত বলেন, হার্নিয়ার অপারেশন করতে গিয়ে নওয়াজেস মারা গেছেন। তার দুই স্ত্রী ও দুই ছেলে রয়েছে। বিষয়টি নিয়ে আমরা থানা পুলিশ না করে মেম্বারের মাধ্যমে বিষয়টি সমাধান করে নিয়েছি।
কেডিকে ইউপি মেম্বার সৈয়দ আলী মোল্লা বলেন, নওয়াজেসের পরিবারের সদস্য ও তার স্বজনরা উপস্থিত থেকে বিষয়টি দুই লাখ টাকায় সমাধান করেছেন। স্থানীয় কায়দার ডাক্তার জিম্মাদার হয়ে সাত দিন সময় নিয়ে একটা চেক দিয়েছেন। এ সময় আমি ও স্থানীয়রা উপস্থিত ছিলাম।
জীবননগর থানার ওসি এস এম জাবিদ হাসান বলেন, এ বিষয়ে মৃত ব্যক্তির পরিবার মঙ্গলবারে একটি অভিযোগ দেন। তবে মৃত্যুর বিষয়ে কিছুই জানাননি তারা। তবে মামলার এজাহার দিলে আমরা আইনগত ব্যবস্থা নেবো।