সিলেটের গোলাপগঞ্জে সড়ক দুর্ঘটনার নিহতের লাশ ময়নাতদন্ত ছাড়া পরিবারের কাছে হস্তান্তরে ওসির উৎকোচ দাবির প্রতিবাদে গোলাপগঞ্জ শ্রমিক সংগঠন ৫ ঘণ্টা সড়ক অবরোধ করে। এতে সিলেট-জকিগঞ্জ, সিলেট-বিয়ানীবাজার, সিলেট-ঢাকা দক্ষিণ-ভাদেশ্বর রোডে যানবাহন চলাচর বন্ধ হয়ে যায়। এতে যাত্রীসহ আগত রোগীরা মারাত্মক ভোগান্তি ও হয়রানির শিকার হন। সড়ক অবরোধ করে শ্রমিক নেতারা ৭২ ঘণ্টার ভেতর ওসি রফিকুল ইসলামের দৃষ্টান্ত মূলক শাস্তি ও প্রত্যাহারের দাবি করেন।
মঙ্গলবার (৩ অক্টোবর) মাইক্রোবাস উপ-কমিটির উদ্যোগে শ্রমিকেরা সড়ক অবরোধ করে।
জানা যায়, ২৫ সেপ্টেম্বর উপজেলার হেতিমগঞ্জে সিলেট-জকিগঞ্জ সড়কে উপজেলার তুরুকভাগ গ্রামের মো: শফিক উল্লাহর ছেলে ফখরুল ইসলাম বাছনকে (৪৩) একটি মাইক্রোবাস (নোহা) গাড়ি ধাক্কা দেয়। এতে ঘটনাস্থলে গুরুত্বর আহত হয়ে সড়কে পড়ে থাকেন ফখরুল ইসলাম বাছন। স্থানীয়রা তাকে গুরুত্বর অবস্থায় সিলেট এমএজি ওসমানি মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সোমবার দুপুর ২টা ৪০ মিনিটের দিকে মারা যান। নিহতের ছোট ভাই মো: নাছির উদ্দিন এ ব্যপারে কোনো মামলা করবেন না এবং তার ভাইয়ের লাশ ময়নাতদন্ত ছাড়াই হস্তান্তর করার আবেদন করেন গোলাপগঞ্জ মডেল থানায়। এতে ওসি মো: রফিকুল ইসলাম উৎকোচ দাবি করেন অন্যথায় তিনি লাশ ময়নাতদন্তের পর মামলার ব্যবস্থা করবেন বলে জানান। বিষয়টি গোলাপগঞ্জ মাইক্রোবাস উপ-কমিটির সভাপতি আব্দুস ছামাদ, জেলা শ্রমিক সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মুহিনসহ অন্য শ্রমিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ মডেল থানার ওসি রফিকুল ইসলামের সাথে যোগাযোগ করে নিহত ফখরুল ইসলাম বাছনের লাশটি তার পরিবারের কাছে হস্তান্তর করার জন্য তাদের পবিবারের আবেদনটির বিষয়ে প্রয়োজনীয় প্রদক্ষেপ গ্রহণ করতে অনুরোধ করেন। ওসি রফিকুল ইসলাম তাদের অনুরোধও না রেখে ইঙ্গিতের মাধ্যমে উৎকোচ দাবি করেছেন বলে অভিযোগ করেছেন গোলাপগঞ্জ মাইক্রোবাস উপ-কমিটির সভাপতি আব্দুস ছামাদ। বুধবার সকাল ১০টা পর্যন্ত নিহতের লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর না করায় ফুঁসে উঠেন গোলাপগঞ্জ মাইক্রোবাস উপ-কমিটির শ্রমিকেরা। তারা ক্ষুব্ধ হয়ে সিলেট-জকিগঞ্জ, সিলেট-বিয়ানীবাজার, সিলেট-ঢাকা দক্ষিণ-ভাদেশ্বর সড়কে এলোপাতাড়িভাবে গাড়ি রেখে লাঠিসোঠা নিয়ে ওসির অপসারণসহ দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে ও ওসির বিরুদ্ধে কুরুচিপূর্ণ স্লোগান দিয়ে গোলাপগঞ্জ মডেল থানার সামনে অবস্থান নেয়। দফায় দফায় ওসির বিরুদ্ধে ¯স্লোগান দিতে থাকেন শ্রমিকেরা। প্রায় ৫ ঘণ্টা সড়ক অবরোধ করে রাখায় সড়কের দুই দিকে হাজারো যানবাহন আটকা পড়ে আগত যাত্রী, সাধারণ মানুষজন, শিক্ষার্থীসহ রোগীরা ভোগান্তি ও হয়রানির কবলে পড়েন। পরে গোলাপগঞ্জ পৌরসভার কাউন্সিলর রুহিন আহমদ খান, এএসপি সার্কেল (গোলাপগঞ্জ), পৌর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক রুহেল আহমদ, শ্রমিক সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মুহিন, আবুল হোসেন অটোরিকশা শ্রমিক সংগঠনের নবনির্বাচিত সভাপতি মাখন মিয়া, জেলা শ্রমিক সংগঠনের সাগঠনিক সম্পাদক মুনিরুজ্জামান মনিরসহ অন্য শ্রমিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের উপস্থিতিতে ৭২ ঘণ্টা মধ্যে ওসি রফিকুল ইসলামকে প্রত্যাহার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি আশ্বস্ত করলে শ্রমিক নেতারা অবরোধ তোলে নেন।
এ ব্যপারে গোলাপগঞ্জ মাইক্রোবাস উপ-কমিটির সভাপতি আব্দুস ছামাদের সাথে যোগাযোগ করলে তিনি অবরোধের বিষয়ের সত্যতা স্বীকার করে এ প্রতিবেদককে জানান, সড়ক দুর্ঘটনায় এক ব্যক্তি চিকিৎসাধীন অবস্থায় নিহত হওয়ায় তার পরিবারের লোকজন ময়নাতদন্ত ছাড়া লাশ হস্তান্তর করার জন্য আবেদন করেন। ওসি সুরতহাল ছাড়া লাশ হস্থান্তর করবেন না। এতে নানা জটিলতা হয়। এ সংবাদ শুনে আমিসহ জেলা শ্রমিক সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মুহিন ওসি রফিকুল ইসলামকে অনুরোধ করে জানাই নিহতের পরিবার চাচ্ছে ময়নাতদন্ত ছাড়া লাশ হস্তান্তরের জন্য। লাশটি পরিবারের কাছে হস্তান্তর করার ব্যবস্থা করেন। তিনি সরাসরি উৎকোচ দাবি করেন। মঙ্গলবার ১০টা পর্যন্ত লাশ হস্তান্তর করার কোনো প্রদক্ষেপ গ্রহণ না করায় এই অবরোধ করেন শ্রমিকেরা।
তিনি আরো জানান, ৭২ ঘণ্টার মধ্যে ওসিকে প্রত্যাহারসহ প্রয়োজনীয় প্রদক্ষেপ গ্রহণ করা না হলে তারা ফের আরো কঠোর আন্দোলনের কর্মসূচি দিবেন।
এ ব্যাপারে গোলাপগঞ্জ মডেল থানার ওসি রফিকুল ইসলামের সাথে যোগাযোগ করলে তিনি অবরোধের বিষয়টির সত্যতা স্বীকার করে এ প্রতিবেদককে জানান, একটি ভুল বুঝাবুঝিতে এ অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটেছে। বিষয়টি নিষ্পত্তি হয়েছে।



