নওগাঁ পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) অধিগ্রহণকৃত সম্পত্তিতে একের পর এক পাকা স্থাপনা নির্মাণের হিড়িক পড়েছে। পাউবোর সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ম্যানেজ করেই চলছে এসব তুঘলকি কাজ। অভিযোগ হলেই কেবল এসব স্থাপনার নির্মাণকাজ বন্ধে নোটিশ দেয় সংশ্লিষ্ট দফতর। কিন্তু লোক দেখানো কিছুদিন কাজ বন্ধ রাখার পর অলৌকিক ক্ষমতাবলে সে সব স্থাপনার নির্মাণকাজ সম্পন্ন করছেন প্রভাবশালী দখলদাররা।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, গত ৫-১০ বছরের মধ্যে মান্দা উপজেলার আত্রাই ও ফকিন্নি নদীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় পাউবোর অধিগ্রহণকৃত সম্পত্তিতে দুইশ’র বেশি পাকা স্থাপনা নির্মাণ করা হয়েছে। এছাড়া ফেরিঘাট-মিঠাপুর বিশ্ব বাঁধ সড়কের ফেরিঘাট ও প্রসাদপুর খেয়াঘাট সংলগ্ন দরগা তলা মোড়ে পাকা স্থাপনা নির্মাণের কাজ করা শেষ হয়েছে। আরো কিছু চলমান রয়েছে। এসব নির্মাণের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট দফতরে জানানো হলে প্রাথমিকভাবে নোটিশ দিয়ে কাজ বন্ধ করে দেয়া হয়। পরে সুযোগ মতো পাউবোর কর্তাদের ম্যানেজ করে নির্মাণকাজ সম্পন্ন করে দখলদাররা। পরে অভিযোগ দেয়া হলেও কর্মকর্তারা একেবারে নীরবতা পালন করেন। আবার বিভিন্ন অজুহাত দেখিয়ে তারা এসব বিষয় এড়িয়ে যান।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক পাঁজরভাঙ্গা বাজারের একাধিক বাসিন্দা জানান, পাঁজরভাঙ্গা বাজার এলাকায় নতুন করে পাকা স্থাপনা নির্মাণ করছেন ফজলুল করিম বাবু ও বুলবুল হোসেন। অভিযোগ দেয়ার পর স্থাপনা দু’টির নির্মাণকাজ বন্ধের জন্য নোটিশ দেয় পাউবো। কিছুদিন বন্ধ রাখার পর ফজলুর করিম সম্প্রতি ওই স্থাপনার ছাদ ঢালাইয়ের কাজ সম্পন্ন করেন। অভিযোগ উঠেছে দেড় লাখ টাকায় পাউবোর কয়েকজন কর্মকর্তাকে ম্যানেজ করে এ অবৈধ কাজ সম্পন্ন করেন তিনি। এরইমধ্যে এ বাজারের আলাউদ্দিন প্রামাণিক, আতাউর রহমান, গৌর চন্দ্র প্রামাণিক, জালাল হোসেন পাকা স্থাপনা নির্মাণ করেন। আতাউর রহমান নির্মাণ করছেন বহুতল ভবন। এছাড়া প্রসাদপুর খেয়াঘাট বিশ্ব বাঁধ মোড়ে পাউবোর স্থায়ী হুকুম দখল করা আরএস হাল দাগে নবির উদ্দিন, হাসেন আলী প্রামাণিক, নয়ন চন্দ্র গংরা দখল করে পাকা স্থাপনা নির্মাণ করছেন। এছাড়া বিশ্ব বাঁধের দখল করা জমিতে বাড়ি ও ফসলি জমি হিসেবে ব্যবহার করছে সড়কের মাটি ধসিয়ে।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত ফজলুল করিম বাবু বলেন, স্থাপনা নির্মাণের কাজ নোটিশ দিয়ে বন্ধ করে দেয়া হয়েছিল। পরে পাউবো অফিসে যোগাযোগ করে ছাদ ঢালাইয়ের কাজ শেষ করেছি। কিন্তু কিভাবে ম্যানেজ করলেন জানতে চাইলে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, এসব বিষয় বলা যাবে না।
এ বিষয়ে জোতবাজার বণিক সমবায় সমিতির সভাপতি ফজলুল বারী সাফি বলেন, জোতবাজার চৌরাস্তা মোড়ের অদূরে পানি নিষ্কাশনের ড্রেন বন্ধ করে পাউবোর সম্পত্তিতে স্থাপনা নির্মাণ বন্ধে এলাকাবাসী মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ করেছেন। পত্রপত্রিকায় বহু লেখালেখি হয়েছে। পাউবোর সকল দফতরে অভিযোগ দেয়ার পরেও স্থাপনা নির্মাণ বন্ধ হয়নি।
পাউবো নওগাঁর সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা মহসীন রেজা বলেন, পাউবোর সম্পত্তি অবৈধভাবে দখল করে ঘর নির্মাণকাজে এ দফতরের কেউ জড়িত আছে কি না তা আমার জানা নেই।
পাউবো নওগাঁর উপবিভাগীয় প্রকৌশলী পবিত্র কুমার পাল এ বিষয়ে মোবাইল ফোনে কথা বলতে রাজি হননি। জানতে চাইলে পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী ফইজুর রহমান বলেন, এটা দীর্ঘদিনের সমস্যা।