নওগাঁর মান্দায় নিম্নমানের কাজের কারণে মাত্র ৪ মাসেই ধসে পড়েছে দুই লাখ টাকায় নির্মিত একটি কালভার্ট। উপজেলার তালপাতিলা মোড় থেকে জোকাহাট খেয়াঘাটের রাস্তায় নির্মিত কালভার্টটি সোমবার বিকেলে ধসে পড়ে। এতে ওই রাস্তায় সব ধরনের যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন ব্যবসায়ী ও স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থীসহ সাধারণ মানুষ।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, মাত্র ৬ মাস আগে তালপাতিলা থেকে জোকাহাট খেয়াঘাটের রাস্তায় কশব ইউনিয়ন পরিষদ কালভার্টটি নির্মাণ করে। এর দুই ধারে ইটের ১০ ইঞ্চি গাঁথুনি তুলে ঢালাই দেয়া হয়েছে। সঠিক পরিকল্পনা ছাড়াই কালভার্টটি নির্মাণ করায় এটি সহজেই ধসে পড়ে। এতে দুই লাখ টাকাই পানিতে ভেসে গেছে।
কশব ইউনিয়ন পরিষদ সূত্রে জানা গেছে, ২০২২-২৩ অর্থবছরের এডিবির অর্থায়নে তালপাতিলা মোড় থেকে খেয়াঘাটের রাস্তায় চলাচলের জন্য প্রায় ২০ ফিট দৈর্ঘ্যরে ও ৩ ফিট প্রস্থের ওই কালভার্টটি নির্মাণ করা হয়। এতে ব্যয় হয়েছে দুই লাখ টাকা। পরিষদের সদস্য আবদুল জব্বার ওই প্রকল্পের সভাপতি ছিলেন। তালপাতিলা গ্রামের বাসিন্দা আমজাদ হোসেন ও আবদুর রউফ বলেন, ফেরিঘাট-মিঠাপুর বিশ্ব বাঁধ সড়কের তালপাতিলা মোড় থেকে আত্রাই নদের খেয়াঘাট পার হতে গেলে এটিই একমাত্র রাস্তা। নদের দক্ষিণ পারে রয়েছে দাসপাড়া ডিগ্রি কলেজ, দাসপাড়া আলিম মাদরাসা, দাসপাড়া উচ্চ বিদ্যালয়, একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও জোকাহাট।
স্থানীয় বাসিন্দা মোসলেম উদ্দিন প্রামাণিক বলেন, কালভার্টটি নির্মাণে সঠিক কোনো পরিকল্পনা ছিল না। কাজের মানও ছিল নিম্নমানের। এ কারণে অল্প দিনেই এটি ধসে পড়েছে। কালভার্ট নির্মাণ প্রকল্পের সভাপতি ইউপি সদস্য আবদুল জব্বার বলেন, বরাদ্দ অনুযায়ী কাজ করেছি। ধসে পড়লে আমার কী করার আছে।
কশব ইউপি চেয়ারম্যান ফজলুর রহমান বলেন, দুই লাখ টাকা ব্যয়ে কালভার্টটি নির্মাণ করা হয়েছে। বরাদ্দ বেশি পেলে টেকসই কাজ করা যেত। যেমন বরাদ্দ তেমন কাজ করা হয়েছে। উপজেলা প্রকৌশলী সাইদুল ইসলাম মিঞা বলেন, বিষয়টি শুনেছি। তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।



