দুই দিনের টানা বৃষ্টিতে বগুড়ার কাহালু উপজেলার মুরইল গ্রামের ফকির পাড়া, খাঁ পাড়া ও প্রামানিক পাড়ার দুই শতাধিক পরিবারের বসতভিটায় পানি ঢুকে কাঁচা ঘরবাড়ি ধসে যাচ্ছে। ব্যাপক জলাবদ্ধতার গরু-ছাগল নিয়ে চরম বিপাকে পড়ে প্রতিকার চেয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর আবেদন করেছেন ক্ষতিগ্রস্তরা।
জনৈক প্রভাবশালী ব্যক্তি মুরইল ও ভাগদুবড়া মৌজার দুই ফসলি ধানিজমি কিনে বর্ষার পানি নিষ্কাশনের নালা বন্ধ করে পুকুর খনন করায় পানি নিষ্কাশনের পথ সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে গেছে। এর ফলে এলাকায় সৃষ্টি হয়েছে ব্যাপক জলাবদ্ধতা। দুই দিনের বৃষ্টিপাতে মুরইল ফকির পাড়া, খাঁ পাড়া ও প্রামাণিক পাড়ার দুই শতাধিক বসতভিটায় পানি ঢুকে পড়েছে। পরিবারের রান্নাবান্না বন্ধ। গরু-ছাগল, হাঁস-মুরগি নিয়ে চরম বিপাকে পড়েছেন লোকজন। পুকুরের মাছ ভেসে যাচ্ছে, শিশুসন্তানদের নিয়ে আতঙ্কে আছেন তারা। বিষয়টির প্রতিকার চেয়ে গত ৫ সেপ্টেম্বর ভুক্তভোগী গ্রামবাসী কাহালু উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর আবেদন করেছেন।
সরেজমিন দেখা গেছে, মুরইল বড় মসজিদ থেকে ওই তিন পাড়ায় প্রবেশের ইট সোলিং রাস্তাগুলো পানিতে তলে গেছে। রাস্তায় কোনো প্রকার যানবাহন দূরের কথা, পায়ে হেঁটে যাওয়া কষ্টসাধ্য হয়ে পড়েছে। রাস্তার ওপর হাঁটুপানি। মহিলা ও ছোট শিশুরা বাড়ি থেকে বের হতে পারছে না। গোটা এলাকার অলিগলি বসতভিটার আঙ্গিনায় হাঁটুপানি। মানুষ পানির ভেতর হাতিয়ে হাতিয়ে পথ চলছে। ফকির পাড়ার ওমর ফারুক, আবদুল ওয়াদুদ, নুরুল ইসলামসহ অনেকে বলেন, আমরা বাপ-দাদার আমল থেকে এখানে বসবাস করছি। আনেক বড় বড় বন্যা হয়েছে কিন্তু কখনো আমাদের পাড়ায় বা বসতভিটায় এভাবে পানি ওঠেনি। তাদের অভিযোগ, জনৈক প্রভাবশালী ব্যক্তি বিভিন্ন কৌশল করে দুই ফসলি আবাদি ধানিজমি কিনে পুকুর খনন করায় আমাদের এই চরম অবস্থা। বসতভিটায় পানি ওঠায় দুই দিন ধরে রান্নার চুলা জ্বালাতে পারিনি। ফারুকের একটি গোয়ালঘর এরই মধ্যে ধসে পড়েছে এবং বেশ কয়েকটি মাটির ঘরে ফটল ধরেছে।
স্থানীয় মুরইল ইউপি চেয়ারম্যান মাওলানা আবদুল জলিল বলেন, পানি নিষ্কাশনের পথ বন্ধ করার কারণে এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মেরিনা আফরোজের সাথে মোবাইলে কথা হলে তিনি এ ব্যাপারে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যানের সাথে পরামর্শ করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের কথা জানান।



