‘ও আল্লাহ, ও খোদা, ও মাবুদ মোর স্বামীরে দুমুঠো খাবার যোগানোর তাগিতে ও স্বাভাবিক জীবন-যাপন করতে সব সম্বল বিক্রি করে অর্থ উপার্জন করতে মোর স্বামীকে প্রবাসে পাঠিয়েছিলাম, কিন্তু তুমি এ কি হরলা, মোগো সেই আকাঙ্ক্ষার স্বপ্ন আর পূরণ হরতে দেলা না আর হলোও না। মোগো হেই স্বপ্ন কেড়ে নিয়েছে সড়ক দুর্ঘটনা।’ অসহায় স্ত্রী তার এ মৃত্যুর খবর শোনার পর থেকেই সৌদি প্রবাস থেকে তার স্বামীর লাশ বাংলাদেশে ফেরত আনতে দিন-রাত আর্তনাত করছেন বিধবা স্ত্রী সাবিনা আক্তার।

সাবিনা আক্তার আরো জানান, তার স্বামীর লাশ সৌদি প্রবাস থেকে বাংলাদেশ ফেরত পেতে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করছেন।

তাদের আরো দাবি বাংলাদেশ দূতাবাস যেন এ অসহায় পরিবারের দিকে তাকিয়ে নিঃস্বার্থ সহযোগিতা করেন এই প্রত্যাশা।

বাবা-মাকে হারিয়ে তার রয়েছে দুই সদস্যদের পরিবার স্ত্রী সাবিনা আক্তার ও পাঁচ বছরের ছেলে আবদুল্লাহ।
এ অবুঝ ছেলে আবদুল্লাহ তার বাবা না থাকার যন্ত্রণা না বুঝলেও তার বাবা (মিজানুর) তার জন্য বিদেশ থেকে মজা (চকলেট) নিয়ে দেশে আসছেন এমনটাই বলে বেড়ায়।

নিহত মিজানুর রহমান ওরফে জামাল হাওলাদার (৪৭) বরগুনার জেলার বামনা উপজেলার রামনা ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ড গোলাঘাটা কড়ইতলা গ্রামের আইজুদ্দিন হাওলাদার বাড়ির মরহুম আবুল কালাম বাশার ওরফে বাহার আলী হাওলাদারের ছেলে।

উল্লেখ্য, তিনি গত ১৮ বছর আগে সৌদি প্রবাসে গিয়েছেন। রোববার (৮ অক্টোবর) স্থানীয় সময় রাত ১০টা ৩৭ মিনিটে সৌদি আরবের মক্কার ছিত্তিন গাতা নামকস্থানে সড়ক দুর্ঘটনায় মারা যান।

স্থানীয় বাকা বিল্লাহ মুসুল্লি জানান, ছোটবেলা থেকে তিনি ছিলেন নম্র ও বিনয়ী স্বভাবের। তিনি শৈশবে তার বাবা-মাকে হারিয়ে এতিম হয়েছিলেন। আমাদের দাবি তার লাশ যেভাবেই হোক বাংলাদেশে ফিরিয়ে আনতে সরকার সহযোগিতা করবেন।

স্থানীয় ইদ্রিস সিকদার আরেকজন জানান, জামাল হাওলাদার অত্যন্ত ধার্মিক, পরোপকারী ও খুবই ভালো মনের মানুষ ছিলেন। আমরা তার লাশ ফেরত পাওয়ার দাবি জানাই।