ময়মনসিংহের ভালুকা উপজেলায় স্কুলে যাওয়ার পথে রাখিয়া সুলতানা রিয়া নামে নবম শ্রেণীর এক ছাত্রীকে কুপিয়ে হত্যার ঘটনার ৭২ ঘণ্টা পার হলেও কাউকে গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ। এদিকে হত্যায় জড়িতদের গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন করেছেন শিক্ষক ও সহপাঠীরা।
জানা যায়, গত সোমবার দুপুরে বিদ্যালয়ের সমাপনী প্রস্তুতি পরীক্ষা দেয়ার জন্য বাড়ি থেকে বের হয় উপজেলার বাটাজোর বিএম উচ্চ বিদ্যালয়ের ছাত্রী রিয়া। বাড়ি থেকে আনুমানিক ১০০ গজ দূরে যেতেই মুখ মোড়ানো ও মাথায় ক্যাপ পরা এক ব্যক্তি রিয়াকে পেছন থেকে ঘাড়, পিঠসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে কুপিয়ে জখম করে। এ সময় তার চিৎকার শুনে মা মাজেদা খাতুন দৌড়ে এসে পাশের ধান ক্ষেত থেকে রক্তাক্ত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করেন। পরে রিয়াকে ভালুকা উপজেলা স্বাস্থ্যকমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে জরুরি বিভাগের চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। রাতেই রিয়ার বাবা আব্দুল রশিদ বাদি হয়ে অজ্ঞাতনামা আসামি করে ভালুকা মডেল থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।
উল্লেখ্য, গত এক বছর আগে টাঙ্গাইলের সখীপুর উপজেলার মাওশা গ্রামের মানিক মিয়ার ছেলে প্রবাসী রিপন মিয়ার সাথে বিয়ে হয় রিয়ার। বিয়ের পর রিপন সৌদি আরব চলে গেলে তার ওপর শ্বশুরবাড়ির লোকজন শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালান বলে অভিযোগ ওঠে। গত ছয় মাস আগে বাবার বাড়ি ফিরে এসে সে আবার পড়ালেখা শুরু করে।
রিয়ার মা মাজেদা জানান, বিয়ের কিছুদিন পর থেকে শ্বশুরবাড়ির লোকজন তার মেয়ের ওপর নির্যাতন শুরু করেন। শ্বশুরবাড়ির লোকজনই তার মেয়েকে কুপিয়ে হত্যা করেছে। হত্যাকারীর ফাঁসি চান তিনি।
ভালুকা মডেল থানার ওসি কামাল হোসেন জানান, এ ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রিয়ার শাশুড়ি খেন্ত বেগম ও ননদ মায়া আক্তারকে পুলিশি হেফাজতে রাখা হয়েছে। ঘটনার পর থেকে হত্যাকাণ্ডে জড়িত রিয়ার স্বামী রিপন মিয়াসহ অন্যান্যদের গ্রেফতারে সর্বাত্মক চেষ্টা চালানো হচ্ছে।