ডাক বিভাগের এক বিশ্বস্ত কর্মী চৌগাছার নিজাম পিয়ন। এক দুই বছর নয়, দীর্ঘ ৪৩ বছর যাবৎ বিশ্বস্ততা ও নিয়মানুবর্তিতার সাথে কাজ করে যাচ্ছেন পিয়ন নিজাম। পেশায় পিয়ন হলেও নিজাম উদ্দীন একজন বড় মনের মানুষ।
চৌগাছা পৌর শহরের আব্দুল মুন্নাফ কালু মিয়ার চায়ের দোকানে বসে কথা হয় নিজাম উদ্দীন খানের সাথে। তিনি বলেন, যোগদানের সময় আমার বেতন ছিল ১২০ টাকা আর ৪৩ বছর পরে এখন আমার বর্তমান বেতন ৪ হাজার ৩৫৪ টাকা। তার মানে গড়ে বছরে আমার বেতন বেড়েছে ১০০ টাকা, যা দ্রব্যমূল্যের সাথে খুবই অসঙ্গতিপূর্ণ। এখন বয়স হয়ে গেছে, অন্য কোনো কাজও করতে পারি না। যার ফলে খুব কষ্ট করে চলতে হয়।
এলাকাবাসী জানান, নিজাম খানের বাবা রহিম বক্সও অনেক জমিজমার মালিক ছিলেন। তিনি তৎকালীন সময়ে লাইসেন্সকৃত বন্দুকের মালিক ছিলেন। নিজাম উদ্দীনরা ছিলেন এক ভাই আর এক বোন। তার বোন সন্তানাদি হওয়ার আগেই মারা যান। যার ফলে নিজাম উদ্দীন বাবা বেঁচে থাকা একমাত্র সন্তান হিসেবে অনেক ভূস¤পত্তির মালিক হন। কিন্তু বাবা মারা যাওয়ার পর ক্ষেত-খামারে ঠিকমতো কাজ করতে না পারায় অভাবের তাড়নায় জায়গা জমির বেশির ভাগই বিক্রি করে ফেলেন। এক পর্যায়ে ১৯৮০ সালে মাসিক মাত্র ১২০ টাকা সম্মানির বিনিময়ে ডাক বিভাগের সিংহঝুলি পোস্ট অফিসে পিয়ন পদে চাকরি নেন।
নিজাম উদ্দীন সংসার জীবনে দুই ছেলে ও তিন মেয়ে সন্তানের জনক। বর্তমানে দুই ছেলে, স্ত্রী আর নাতিপুতি নিয়ে কোনো রকমে খেয়ে না খেয়ে দিন চলে তার। তিনি সরকারের প্রতি বেতন বৃদ্ধির দাবি জানান।
নিজাম উদ্দিন স¤পর্কে চৌগাছা সরকারি ডিগ্রি কলেজের শিক্ষক ও সিংহঝুলি গ্রামের বাসিন্দা মানিবুর রহমান লেন্টু বলেন, তার মতো এমন বিশ্বস্ত ও নিয়ম মেনে চিঠি বিলি করা মানুষ দেশে আর একটা আছে বলে আমার জানা নেই। মসিয়ূরনগর গ্রামের বাসিন্দা ও চৌগাছা মৃধাপাড়া মহিলা কলেজের শিক্ষক আবুল কালাম আজাদ বলেন, নিজাম উদ্দীন এমন একজন বিশ্বস্ত মানুষ যার সাথে অন্য কারো তুলনা করা কঠিন। বিশ্বস্ততাই তাকে মানুষের ভালোবাসা এনে দিয়েছে।