ভোলার লালমোহন উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় অবৈধভাবে চলছে রমরমা সুদের কারবার। উপজেলার প্রত্যন্ত অঞ্চলের সহজ সরল মানুষকে নিঃস্ব করে পথে বসানোর প্রধান হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে এই কারবার। বর্তমানে এই কারবার জমজমাটভাবে চলছে উপজেলার শহর থেকে গ্রাম-গ্রামান্তরে। ফলে সুদ ব্যবসায়ীদের রোষানলে পড়ে নিঃস্ব হচ্ছে সমাজের নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারগুলো। এতে সরকার রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। আর কিছু অসাধু ব্যক্তি রাতারাতি ধনী বনে গেছে খুব সহজেই। অথচ এসব দেখার যেন কেউ নেই।
অনুসন্ধানে জানা যায়, উপজেলার রমাগঞ্জের রায়চাঁদ বাজারে ব্যাঙ্গের ছাতার মতো গড়ে উঠেছে বিভিন্ন সমিতি ও কথিত এনজিও। এগুলো গ্রামের খেটে খাওয়া মানুষকে লোভে ফেলে লোনের বেড়াজালে আটকিয়ে নিঃস্ব করে ফেলে। শুধু রায়চাঁদ নয়, ধলীগৌরনগরের চতলা বাজার এলাকার আনা মিয়ার বাড়িসহ প্রায় প্রতি ঘরে সুদের কারবার চলছে। এমনও বাড়ি আছে যেখানে বাবা ও ছেলে দু’জনই সুদের ব্যবসায় জড়িত। চতলার কারবারিরা নিজ এলাকা ছাড়াও পাশের আজাহার রোড, চরমোল্লাজী এলাকায় গিয়ে মাসিক, সাপ্তাহিক ও দৈনিক কিস্তিতে এমনকি জমিন বন্ধকের নামেও সুদের ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে। আরো জানা যায়, ইউনিয়ন পর্যায়ে সুদের কারবারিতে এগিয়ে রয়েছেন চরভূতার মুগুরিয়া বাজার এলাকার মান্নু। চরভূতা, রমাগঞ্জ ও ধলীগৌরনগরেও রয়েছে তার সুদের কারবার।
সুদের কারবার পবিত্র ইসলাম ধর্মে কঠিনভাবে নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হলেও কেউ মানছেন না সেই বাণী। মহান আল্লাহ তায়ালা সুদকে হারাম এবং ব্যাবসাকে হালাল করেছেন। উপজেলার শহর থেকে বিভিন্ন ইউনিয়ন ও গ্রামে গ্রামে ছোট-বড় অবৈধ সঞ্চয় সমিতির নামেও চলছে একচেটিয়া সুদের কারবার। এখানে লাভবান হচ্ছে কিছু অসাধু লোকজন, যারা এই সঞ্চয় সমিতিগুলো নিয়ন্ত্রণ করছেন।
আর্থিক প্রয়োজনে এসব সুদ ব্যবসায়ীর খপ্পরে পড়ে মধ্যবিত্ত পরিবার, কৃষক, বর্গা চাষি, স্বল্প আয়ের লোকজন এমনকি শিক্ষকরাও চড়া সুদে ১৫০-৩০০ টাকা ননজুডিশিয়াল সাদা স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর বা টিপ সহি দিয়ে অথবা ব্যাংকের ব্ল্যাঙ্ক চেক দিয়ে টাকা নিচ্ছেন। আর এই সাদা স্ট্যাম্পে সাক্ষী করা হয় সুদ কারবারীদের পছন্দমতো ব্যক্তিদের। দৈনিক, সাপ্তাহিক, এমনকি মাসিক ভিত্তিতে নগদ ঋণ দিয়ে দেড় থেকে দুই গুণ মুনাফা আদায় করে থাকে তারা। সুদ কারবারীদের অত্যাচার ও লাঞ্ছনার নজিরও রয়েছে অনেক।
একদিকে যেমন সুদ কারবারীরা সম্পদের পাহাড় গড়ছে, অন্যদিকে সাধারণ ও মধ্যবিত্ত মানুষ দিনদিন গরিব ও ভূমিহীনে পরিণত হচ্ছে। অথচ সুদ কারবারীরা কর্তৃপক্ষের চোখে বৃদ্ধাঙ্গুলী দিয়ে চালিয়ে যাচ্ছে এ ব্যবসা। স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি- সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ যেন অবৈধ সুদি কারবারীদের বিরুদ্ধে তদন্তপূর্বক আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়।



