কিশোরগঞ্জের ভৈরবে ভয়াবহ ট্রেন দুর্ঘটনায় কটিয়াদী উপজেলার চান্দপুর এলাকার কথিত একজনসহ দু’জন নিহত ও দু’জন আহত হয়েছেন। আহত দু’জন আশঙ্কাজনক অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

এ ঘটনায় নিহতরা হলেন কটিয়াদী পৌরসভার বোয়ালিয়া গ্রামের আবুল কাশেম মিয়ার ছেলে মো: গোলাপ মিয়া (৩০) ও কথিত চান্দপুর এলাকার চান মিয়ার ছেলে সাইমন মিয়া (২৩)। আহত দু’জনের মধ্যে একজন হলেন বোয়ালিয়া গ্রামের মরহুম হোসেন আলীর ছেলে আব্দুল খালেক (৫০) ও চান্দুপুর ইউনিয়নের মন্ডলভোগ এলাকার দিনমণি গ্রামের একজন। তবে আহত দু’জনের একজনের (দিনমণি গ্রাম) নাম জানা যায়নি।

উপজেলার বোয়ালিয়া গ্রামের ও রইছ মাহমুদ উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক সায়েম খান জানান, ওই ট্রেন দুর্ঘটনায় কটিয়াদী পৌরসভার বোয়ালিয়া মহল্লার গোলাপ মিয়া নিহত হয়েছেন। নিহত গোলাপ মিয়া পরিবারে সচ্ছলতা ফিরিয়ে আনতে ঢাকার একটি শিল্প কারখানায় কাজ করতেন। তিনি ঘটনার দু’তিন দিন আগে তার নিজবাড়ি বোয়ালিয়ায় এসেছিলেন।পরে সোমবার (২৩ অক্টোবর) ওই শিল্প কারখানার কাজে যোগদান করার উদ্দেশে বাড়ি থেকে রওনা হয়েছিলেন আন্ত:নগর এগারসিন্ধুরের যাত্রী হিসেবে। কিন্তু কে জানতো এটাই ছিল তার জীবনের শেষ যাত্রা।

এদিকে আহত আব্দুল খালেক ট্রেন দুর্ঘটনায় দু’টি পা ভেঙে যাওয়ায় বর্তমানে ঢাকার পঙ্গু হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন বলে জানান তিনি। কটিয়াদী উপজেলার চান্দুপুর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান আব্দুল কাইয়ুম ভূঁইয়া (গঙ্গা) বলেন, সাইমন মিয়া এ উপজেলার চান্দুপুরের বাসিন্দা নন। সম্ভবত তিনি মিঠামইন উপজেলার গোপদিঘী ইউনিয়নের চানপুর গ্রামের বাসিন্দা।

তিনি আরো বলেন, চান্দপুর ইউনিয়নের দিনমণি গ্রামের একজন মহিলা দুর্ঘটনায় মারাত্নক আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন। তবে তার নাম আমি জানতে পারিনি।

উল্লেখ্য, সোমবার (২৩ অক্টোবর) বেলা সাড়ে ৩টার দিকে ভৈরব রেলওয়ে স্টেশনের পশ্চিমে আউটার সিগনালের সামনে কিশোরগঞ্জ থেকে ছেড়ে আসা ‘এগারোসিন্দুর এক্সপ্রেস’ ট্রেনের পেছনের তিনটি কোচে মালবাহী একটি ট্রেন ধাক্কা দিলে যাত্রীবাহী ট্রেনের পেছনের দু’টি কোচ উল্টে যায়। এতে মো: গোলাপ মিয়া ও সাইমন মিয়া ছাড়াও আরো ২২ জন মারা যান। এতে বহুলোক আহত হয়ে রাজধানী ঢাকাসহ কিশোরগঞ্জের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন।