যশোরের চৌগাছা সরকারি মডেল হাসপাতালে সোমবার ২ (অক্টোবর) সিজারিয়ার অপারেশনের মাধ্যমে জন্ম নেয় এক নবজাতক। পরকীয়ায় জড়িয়ে পড়া ওই নারী লোক-লজ্জার ভয়ে সন্তান বিক্রি করাই সকলের নজরে আসেন। এ ঘটনায় ২৪ আক্টোবর রাতে আন্দুলিয়া গ্রামের জামাল হোসেনের ছেলে আবু সাঈদের সাথে ওই নারীর জোরপূর্বক বিয়ে দিয়ে তার ঘরে তুলে দেয়ার চেষ্টা করে স্থানীয় ইউপি সদস্য মহিদুল ইসলাম। এর পরে ঘটনা প্রকাশ্যে আসে।
ভুক্তভোগী নারী সোনিয়া আন্দুলিয়া গ্রামের ইলিয়াচ হোসেনের স্ত্রী। সোমবার ২ (অক্টোবর) সোনিয়া একটি কন্যা সন্তানের জন্ম দেয়। বুধবার ৪ (অক্টোবর) ৭০ হাজার টাকায় শিশুটিকে বিক্রি করা হয়। শিশুবিক্রির টাকা ভাগাভাগি করে নিয়েছেন স্থানীয় কয়েক জন এমন অভিযোগ করেছেন শিশুটির মা।
শিশুটি আমি যশোর কোর্টের মাধ্যমে দত্তক নিয়েছি এমন দাবি করেন উপজেলার টেঙ্গুরপুর গ্রামের আব্দুল মান্নানের ছেলে মুকুল হোসেন। তিনি দাবি করেন, একটি অসহায় শিশুকে আমি নিয়েছি। ৭০ হাজার টাকার ব্যাপারে তিনি বলেন, টাকার বিনিময়ে শিশু কেনা-বেচা হয়নি। তাদের সাময়িক খরচের জন্য কিছু টাকা দিয়েছি।
পৃথিবীতে অসংখ্য বিচিত্র ঘটনা ঘটে। বিচিত্র আমাদের সমাজে বসবাস করা মানুষগুলো। প্রয়োজনে কাছে টানে, আবার মোহ কাটতেই ছুঁড়ে ফেলে দেয়। এমনই এক অদ্ভুদ অঘটন ঘটেছে উপজেলার আন্দুলিয়া গ্রামে।
এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, আন্দুলিয়া গ্রামের ইলিয়াচ হোসেন বিয়ে করেন উপজেলার চাঁদপাড়া গ্রামে সোনিয়া খাতুন নামের এক মেয়েকে। বিয়ের পর ইলিয়াচ তার স্ত্রীকে নিয়ে আন্দুলিয়া গ্রামে মামা মশিউর রহমানের বাড়িতে বসবাস করছিলেন। তাদের দাম্পাত্য জীবনে পাঁচ বছর বয়সী একটি মেয়েও রয়েছে। সোনিয়ার স্বামী এক বছর আগে অবৈধভাবে ভারতে গিয়ে বিএসএফের হাতে আটক হয়। তিনি বর্তমানে ভারতের একটি কারাগারে বন্দী রয়েছেন। স্বামী বাড়িতে না থাকায় সোনিয়া এলাকায় এক যুবকের সাথে পরকীয়া সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন।
এলাকাবাসী জানায়, একপর্যায় তিনি সন্তান সম্ভাবা হয়ে পড়ে। এ খবর বুঝতে পেরে এ যুবক তার পাশ থেকে সরে পড়ে। এ সময় অনাগত সন্তানটি গর্ভপাত করার চেষ্টাও করেন সবাই মিলে। কিন্তু রাখে আল্লাহ মারে কে? এতে ব্যর্থ হয়ে বিষয়টি লুকিয়ে রাখতে স্থানীয় ইউপি সদস্য মহিদুল ইসলামসহ কয়েকজন যুবকের সহযোগিতায় গ্রামের বাড়ি ছেড়ে দেয় সোনিয়া। পরে পুড়াপাড়া বাজারে একটি ঘরভাড়া করে বসবাস শুরু করেন। পরে ২ অক্টোবর চৌগাছা সরকারি মডেল হাসপাতালে সিজারিয়ান অপারেশনের মাধ্যমে একটি কন্যা সন্তান জন্ম দেয়। এরপরে একটি মাধ্যমে টেঙ্গরপুর গ্রামের আব্দুল মান্নানের ছেলে নিঃসন্তান মুকুল হোসেনের সাথে যোগাযোগ হয়। পরে মুকুল হোসেনের কাছে নবজাতক শিশুটি বিক্রি করে দেয়।
এ বিষয়ে মুকুল হোসেন বলছেন, ৪ অক্টোবর তিনি কোর্টের মাধ্যমে শিশুটি দত্তক নিয়েছেন। ৭০ হাজার টাকার ব্যপারে মুকুল হোসেন বলেন, টাকার বিনিময়ে শিশু কেনা-বেচা হয়নি। তাদের সাময়িক খরচের জন্য কিছু টাকা দিয়েছি। এ সময় তিনি বলেন, একটি অসহায় শিশুকে আমি নিয়েছি। এ বিষয়ে কোনো নিউজ না করার জন্যও অনুরোধ করেন।
এদিকে এ ঘটনায় ২৪ আক্টোবর রাতে আন্দুলিয়া গ্রামের জামাল হোসেনের ছেলে আবু সাঈদের সাথে ওই নারীর জোরপূর্বক বিয়ে দিয়ে তার ঘরে তুলে দেয়ার চেষ্টা করেন স্থানীয় ইউপি সদস্য মহিদুল ইসলাম। এলাকার অনেকেই বলছেন, এই কুকর্মে ইউপি সদস্য জড়িত থাকতে পারে। এজন্য অপরাধ আড়াল করতে একজনের ওপর চাপিয়ে দেয়া হচ্ছে। নবজাতকের ডিএনএ টেস্ট করলেই প্রকৃত অপরাধী ধরা পড়বে। এ ঘটনা আড়াল করতে মোটা অংকের টাকা লেনদেন হয়েছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।
আবু সাঈদ বলেন, সোনিয়া এখন আমার স্ত্রী। তবে সন্তানের কথা জানতে চাইলে তিনি বলেন, মুকুল জোর করে সন্তান কেড়ে নিয়েছে।
এ ব্যাপারে স্থানীয় ইউপি সদস্য মহিদুল ইসলামের সাথে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করলেও তার মুঠোফোন বন্ধ পাওয়া যায়।
চৌগাছা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) ইকবাল বাহার চৌধুরী বলেন, কোনো অভিযোগ পাইনি। ঘটনাটি লোকমুখে শুনে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেয়া হবে।



