বরগুনার বেতাগীতে আওয়ামী লীগের দলীয় পদ থেকে স্বেচ্ছায় অব্যাহতি নিয়েছেন তিনজন ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ নেতা। অব্যাহতির সাথে সাথে তারা ওই ইউনিয়নের আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগও তুলেছেন।
তবে সকল অভিযোগ মিথ্যা ও বানোয়াট বলে উড়িয়ে দিয়েছেন সাধারণ সম্পাদক ছত্তার মল্লিক। নির্বাচনকে সামনে রেখে এমন কাণ্ডে বিস্মিত দলের অন্যান্য নেতাকর্মীরা। এদিকে অভ্যন্তরীন কোন্দল বসে নিরাসন করার কথা জানিয়েছেন উপজেলা আওয়ামী লীগ।
জানা যায়, শুক্রবার (২৭ অক্টোবর) রাতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেইসবুকে ছড়িয়ে পরে ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের দলীয় পদ থেকে অব্যাহতি নিয়েছেন তিনজন আ.লীগ নেতা এমন স্বাক্ষরিত তিনটি কাগজ। লিখিত অব্যাহতিপত্রে বিবিচিনি ইউনিয়ন আ: লীগের সাধারণ সম্পাদকের বিরুদ্ধে তাদের নানা অভিযোগ তুলে ধরেন। যা নিয়ে না আলোচনা সমালোচনা শুরু করেন নেটিজেনরা।
অব্যাহতি নেয়া ওই তিন আওয়ামী লীগ নেতারা হলেন বিবিচিনি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান টুটুল মৃধা, বিবিচিনির ৭ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক মো: মজিবুর রহমান ও হারুন অর রশিদ।
বিবিচিনি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান টুটুল মৃধা বলেন, ‘বিভিন্ন সময়ে সাধারণ সম্পাদক ছত্তার মল্লিক দলীয় নেতাকর্মীদের সাথে অসৌজন্যমূলক আচরণ ও অপমানজনক কথা বলেন এবং দলীয় প্রভাব খাঁটিয়ে নিজস্ব ফায়দা লুটে যাচ্ছে। তাছাড়া তিনি দলীয় সাংগঠনিক কার্যক্রমও গঠনতন্ত্রভাবে পরিচালিত করেন না। ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের আংশিক কমিটি ঘোষণা হয়েছে এক বছর আগে তারা সভাপতি ও সম্পাদক এখন পর্যন্ত পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করতে পারেননি। তাই নিজস্ব সম্মান বাঁচাতে আমরা এক প্রকার বাধ্য হয়ে দলীয় পদ থেকে অব্যহতি নিয়েছি।
এদিকে বিবিচিনি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ছত্তার মল্লিক বলেন, ‘নির্বাচনকালীন কমিটি করা নিয়ে তর্ক বিতর্ক হয়েছে। যারা অব্যাহতি নিয়েছেন তারা বিএনপিমনা লোকদের কমিটির মধ্যে যুক্ত করতে চেয়েছে যেটিতে আমি বাধা দেই, যার ফলে তারা আমাকে বিতর্কিত করার জন্য দলীয় পদ থেকে অব্যাহতি নেয়ার একটি নাটক সাজিয়েছে।
বিবিচিনি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ সভাপতি রফিকুল ইসলাম গাজী বলেন, ‘এটি শুধু রাজনৈতিক দ্বন্দ নয়, এখানে পারিবারিক বিষয় রয়েছে, সাধারণ সম্পাদকের সাথে অব্যহতি চাওয়া নেতাদের সাথে বিগত ইউপি নির্বাচনকালীনও বিরোধ আছে। এ ব্যাপারে উপজেলা আওয়ামী লীগের সাথে পরামর্শ করে আমরা পরে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।
বেতাগী উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আলহাজ্ব এবিএম গোলাম কবির বলেন, ‘যতটুকু শুনেছি তাতে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে এমন বিব্রতকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। তবে উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ঢাকায় আছেন, তিনি এলাকায় আসার পর এ ব্যাপারে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।



