বিএনপির দ্বিতীয় দিনের অবরোধে গণপরিবহন শূন্য হয়ে পড়েছে সড়ক মহাসড়ক ও এবং আন্তঃজেলা ও উপজেলা সড়কগুলো। এতে ভোগান্তিতে পড়েছেন মানুষ। এদিকে অবরোধের সমর্থনে রংপুর মহানগর ও জেলা বিএনপি রেললাইন ও বিভিন্ন সড়ক-মহাসড়কে পিকেটিং করার খবর পাওয়া গেছে। তবে কোথাও কোনো অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি।
এদিকে পুলিশ নাশকতার পরিকল্পনার অভিযোগে মহানগরীতে ২ এবং জেলায় ৬ বিএনপি নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করেছে।
রংপুর মহানগর ও জেলা বিএনপির মিডিয়া সেল থেকে পাওয়া তথ্যে দেখা যায়, অবরোধের দ্বিতীয় দিনে সকাল ৮টায় রংপুরের মিঠাপুকুর-পীরগঞ্জের সীমান্ত ভাবনা ফিলিং স্টেশন এলাকার একটি সড়কের ওপর টায়ারে আগুন ধরিয়ে বিক্ষোভ করে বিএনপির নেতাকর্মীরা। এ সময় তারা অবরোধ পালন করে সরকারকে পদত্যাগে বাধ্য করাতে জনগণের প্রতি অনুরোধ জানান। এর ঘণ্টাখানেক পর বড় দরগা এলাকায় ৬ লেন মহাসড়কে আরেকটি বিক্ষোভ করেন অবরোধকারীরা। এতে নেতৃত্ব দেন জেলা সভাপতি সাইফুল ইসলাম এবং আনিছুর রহমান লাকু। এ সময় বিক্ষোভকারীদের খালেদা জিয়ার মুক্তি, সরকারের পদত্যাগের দাবিতে বিভিন্ন শ্লোগান দিতে দেখা যায়।
অন্যদিকে সকালে ৭টায় মহানগর বিএনপির নেতাকর্মীরা সিংগিমাড়ি রেল ব্রিজ এলাকায় রেললাইন অবরোধ করে বিক্ষোভ করে রাখে। সেখানে মহানগর পরে নগরীর টার্মিনাল এলাকার বদরগঞ্জ সড়কে বিক্ষোভ করে মহানগর বিএনপির নেতাকর্মীরা। এছাড়াও নগরী এবং জেলার বিভিন্ন উপজেলায় বিক্ষিপ্তভাবে পিকেটিং ও বিক্ষোভ করছে নেতাকর্মীরা। কিছুক্ষণ পিকেটিং ও বিক্ষোভ করেই পুলিশ আসার আগেই তারা অবস্থান বদল করছে। তবে কোথাও কোনো অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি।
রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের উপ-পুলিশ কমিশনার (অপরাধ) আবু মারুফ হোসেন জানিয়েছেন, আমরা জননিরাপত্ত্বার স্বার্থে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় পুলিশ মোতায়েন করেছি। কিন্তু একেবারেই সামান্য সময় নিয়ে কিছু নেতাকর্মী অবরোধের সর্মথনে মিছিল করার খবর পাওয়া মাত্রই আমরা সেখানে মুভমেন্ট করছি।
রংপুর জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিএসবি ও মিডিয়া) ইফতে খায়ের আলম জানান, জেলার প্রত্যেকটি সড়ক মহাসড়কে আমাদের সদস্যরা মোতায়েন আছে। ফাঁকা স্থানে গুটি কয়েকজন একত্রিত হয়ে বিক্ষোভ করে সটকে পড়ার খবর আমরা পাওয়া মাত্রই সেখানে অভিযান পরিচালনা করছি।
এদিকে মেট্রোপলিটন পুলিশ ও রেঞ্জ পূলিশ সূত্র জানিয়েছে, মহানগগর এলাকা ছাড়াও রেঞ্জের আট জেলার সড়ক, মহাসড়কে এবং বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে সর্বোচ্চ সতর্কতা পাহারা বসিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। বাড়ানো হয়েছে গোয়েন্দা নজরদারি।
এদিকে বিএনপি ও সমমনা দলগুলোর ডাকা অবরোধের দ্বিতীয় দিনে গণপরিবহনের কোনো নাগাল নেই সড়ক-মহাসড়কগুলোতে। এতে দুর্ভোগে পড়েছে মানুষ।
রংপুর মহানগরীর কামারপাড়া ঢাকা কোচ স্ট্যান্ট, কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালসহ বিভাগের বাস টার্মিনালগুলোতে থেকে কোনো বাস ছেড়ে যায়নি। অবরোধের আওতামুক্ত থাকা পরিবহন ছাড়া কোনো পণ্য পরিবহনও চলাচল করছে না বিভাগের সড়ক-মহাসড়কগুলোতে। শুধু দূরপাল্লাই নয়, জেলা ও আন্তঃজেলা বাস-মিনিবাসও চলছে না।



