আজ ৪ নভেম্বর সুসাহিত্যিক কাজী ইমদাদুল হকের ১৪২তম জন্মবার্ষিকী। তিনি একাধারে শিক্ষাবিদ, কবি, প্রবন্ধকার, উপন্যাসিক, ছোট গল্পকার, শিশু সাহিত্যিক ও সাংবাদিক। বিংশ শতাব্দীর সূচনা লগ্নে যেসকল বাঙালি মুসলমান মননশীল গদ্যলেখক বিশিষ্টতা অর্জন করেন তাদের মধ্যে অন্যতম কাজী ইমদাদুল হক। শিক্ষা-দীক্ষায় অনগ্রসর তৎকালীন মুসলমান সমাজব্যবস্থায় ব্যতিক্রমধর্মী প্রতিভার অধিকারী হয়ে সাহিত্য অঙ্গনে আবির্ভূত হন। স্বল্প সংখ্যক গ্রন্থ রচনার মাধ্যমে বাংলা সাহিত্যে স্থায়ী আসন লাভে সক্ষম হন। তার অন্য কিছু রচনা থাকলেও একটি মাত্র অসমাপ্ত উপন্যাস আব্দুল্লাহ রচনা করে তিনি যে কৃতিত্বের নির্দেশনা রেখে গেছেন, তাতেই তিনি বাংলা সাহিত্যে চির স্মরণীয়। আব্দুল্লাহ উপন্যাসে যে বিষয়বস্তু উপস্থাপনা করা হয়েছে তাতে বিংশ শতাব্দীর গোড়ার দিকে বাঙালি মুসলমান সমাজে যে অবস্থা ছিল তার একটি নিখুঁত চিত্র বিধৃত হয়েছে। আজ
৪ নভেম্বর কাজী ইমদাদুল হকের জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে তার জন্ম স্থান পাইকগাছায় বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। কাজী ইমদাদুল হক স্মৃতি পরিষদের উদ্যোগে সকালে উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে সাহিত্যিকের প্রতিকৃতিতে পুষ্পমাল্য অর্পণ, আলোচনা সভা, পদক ও পুরস্কার বিতরণসহ নানা কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে। উপজেলা নির্বাহী অফিসার মুহাম্মদ আল-আমিনের সভাপতিত্ব করবেন। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি থাকবেন জাতীয় সংসদ সদস্য মো: আক্তারুজ্জামান বাবু। বিশেষ অতিথি থাকবেন, উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মো: আনোয়ার ইকবভল মন্টু, মেয়র সেলিম জাহাঙ্গীর, ওসি মো: রফিকুল ইসলাম,ইউপি চেয়ারম্যান শেখ জিয়াদুল ইসলাম জিয়ানহ গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ। সমকালীন বাংলা সাহিত্যে বিশেষ অবদান রাখায় শিক্ষাবিদ ও গবেষক অধ্যাপক ড. নজরুল ইসলাম এবং শিক্ষাবিদ সাহিত্যিক অধ্যাপক সুরঞ্জন রায়কে কাজী ইমদাদুল হক স্মৃতি পদক প্রদান করা হবে বলে কাজী ইমদাদুল হক স্মৃতি পরিষদের সভাপতি সাংবাদিক প্রকাশ ঘোষ বিধান জানিয়েছেন।
১৮৮২ সালে ৪ নভেম্বর খুলনার পাইকগাছা উপজেলার গদাইপুর গ্রামে কথাসাহিত্যিক ও শিক্ষাবিদ কাজী ইমদাদুল হক জন্মগ্রহণ করেন। কাজী ইমদাদুল হক কখনো সুস্বাস্থ্যের অধিকারী ছিলেন না। সারা বছর কোনো না কোনো অসুখ-বিসুখ লেগে থাকত। ১৯২৬ সালে তিনি কিডনি রোগে আক্রান্ত হয়ে স্থানীয় চিকিৎসায় কোনো প্রতিকার না হলে হেকিমি চিকিৎসার জন্য দিল্লির উদ্দেশে কলকাতা গমন করেন। কলকাতায় অবস্থানকালে ১৯২৬ সালের ২০মার্চ ৪৪ বছর বয়সে ইন্তিকাল করেন। বিংশ শতাব্দীর বরেণ্যসাহিত্যিক কাজী ইমদাদুল হককে গোবরা কবরস্থানে তার মাতার কবরের পাশে দাফন করা হয়। বিজ্ঞপ্তি।



