গত তিন দিন ধরে কিশোরগঞ্জের হোসেনপুর বাজারে পেঁয়াজ ও আলু পাওয়া যাচ্ছে না। স্থানীয় একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেটের কারসাজিতে এ দুটি নিত্যপণ্য রাতের আঁধারেই বাজার থেকে উধাও হয়ে গেছে বলে অভিযোগ করেছেন ক্রেতারা। কারণ হিসাবে জানা যায়, স্থানীয় উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে গত ৩ নভেম্বর সরকার নির্ধারিত মূল্যে পেঁয়াজ ও আলুসহ কয়েকটি নিত্যপণ্য বিক্রি করার জন্য মাইকিং করা হয়। এরই ধারাবাহিকতায় গত শনিবার রাতে পৌর এলাকার সবজি মহালসহ বেশ কয়েকটি স্থানে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের নির্ধারিত মূল্য তালিকা টানিয়ে দেয় উপজেলা প্রশাসন। এ মূল্য তালিকায় দেখা যায়, প্রতি কেজি পেঁয়াজ ৬৫ টাকা, আলু ৩৫ টাকা ও প্রতি পিছ ডিমের দাম ১২ টাকা।
আর এতেই বিপত্তি দেখা দেয় স্থানীয় সিন্ডিকেট ব্যবসায়ীদের। ফলে উপজেলার পৌর সদর বাজারে ৪ নভেম্বর থেকেই পেঁয়াজ ও আলু রাতের আঁধারে লুকিয়ে ফেলেছেন সব ব্যবসায়ী। তাদের দাবি, বেশি দামে কেনা পেঁয়াজ ও আলু প্রশাসনের নির্ধারণ করা দামে বিক্রি করলে তাদের বড় অঙ্কের লোকসান গুনতে হবে। এ জন্য এ দুটি নিত্যপণ্য লুকিয়ে ফেলছেন বলে ক্রেতারা জানান। ফলে ভোক্তারা হন্যে হয়ে এ দোকান থেকে সে দোকানে ছোটাছুটি করেও পেঁয়াজ ও আলু পাচ্ছেন না। হতাশ হয়ে তারা সিন্ডিকেট ব্যবসায়ীদের গালিগালাজ করছেন।
স্থানীয় কয়েকজন খুচরা ব্যবসায়ীর সাথে কথা বলে জানা যায়, হোসেনপুরে দু-তিনজন ব্যবসায়ী পেঁয়াজ, আলু, আদা ও মসলা জাতীয় পণ্যগুলো পাইকারিভাবে আমদানি করে উপজেলার অন্য খুচরা ব্যবসায়ীদেরকে সরবরাহ করে থাকেন। গত বৃহস্পতিবার উপজেলা প্রশাসনের পক্ষে উপজেলা চেয়ারম্যান মোহাম্মদ সোহেল, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অনিন্দ্য মণ্ডল, পৌর মেয়র আব্দুল কাইয়ুম খোকন, থানার ওসি আসাদুজ্জামান টিটু বাজারে উপস্থিত হয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্ত মোতাবেক নির্ধারিত দামেই যেন ব্যবসায়ীরা তা বিক্রি করেন সে বিষয়ে সতর্ক করে মাইকিং করেন তারা। এর পর থেকেই এ দুটি পণ্য বাজার থেকে উধাও হয়ে যায়।
উপজেলার পুমদী ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল কাইয়ুম জানান, বেশি দাম দিলে পরিচিতজনদের কাছে গোপনে পেঁয়াজ বিক্রি করছেন ব্যবসায়ীরা। সিদলা ইউপির সাবেক চেয়ারম্যান সিরাজ উদ্দিন জানান, বাজার থেকে পেঁয়াজ আলু উধাও হয়ে যাওয়ায় ক্রেতা সাধারণ বিপাকে পড়েছেন।
এ ব্যাপারে উপজেলা চেয়ারম্যান মোহাম্মদ সোহেল ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার অনিন্দ্য মণ্ডল জানান, বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সব কিছু বিবেচনা করেই আলু ও পেঁয়াজের দাম নির্ধারণ করে দিয়েছে। মূলত স্থানীয় কয়েকজন ব্যবসায়ীর সিন্ডিকেট দাম বাড়ানোর অজুহাত দিচ্ছে। তবে তাদেরকে চিহ্নিত করে দ্রুত ব্যবস্থা নেয়া হবে।



