খুলনার পাইকগাছা উপজেলায় এখন ঘরের চালে চালে শোভা পাচ্ছে চালকুমড়া। ঘরের চালে এ সবজি ফলানো হয় বলে এটি চাল কুমড়া নামে পরিচিত। তবে চাল কুমড়া শুধু চালে নয়, এই সবজি মাচায় ও জমিতেও চাষ করলে ফলন ভালো হয়। চালকুমড়া সবজি হিসেবে আমাদের দেশে ব্যাপক জনপ্রিয়। সবুজ কচি চাল কুমড়া তরকারি হিসেবে খাওয়া হয়। শুধু কুমড়াই নয় এর কচি পাতা ও ডগা খাওয়া যায়। বড়ো হলে চুনের মতো সাদা চালকুমড়া দিয়ে বড়ি, মোরব্বা ও হালুয়া তৈরি করা যায়।
উপজেলার হিতামপুর গ্রামের হায়দার আলী জানান, তিনি তার ঘরের কোনায় চারটি চালকুমড়ার বীজ বপন করেন। গাছ বড় হয়ে ঘরের চাল ঢেকে যায়। চারটি গাছে এক শ’র বেশি চালকুমড়া হয়। সবুজ চালকুমড়া ৩০-৩৫ টাকা কেজি দরে বিক্রি করেছেন। আরো প্রায় ৪০টি চালকুমড়া ঘরের চালে সংরক্ষণ করে রেখেছেন। কুমড়া বড়ি তৈরিতে চালকুমড়ার ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। শীতকালে বড়ি তৈরি করার সময় এগুলো বিক্রি করবেন। চারটি গাছের কুমড়া ১০ হাজার টাকার বেশি দামে বিক্রি হবে বলে তিনি জানান।
দেশে উচ্চ ফলনশীল চালকুমড়ার জাত উদ্ভাবন করা হয়েছে, যা বারো মাস চাষ করা যায়। এর মধ্যে বারি চালকুমড়া-১ অন্যতম। হাইব্রিড জাতের বীজও বাজারে পাওয়া যাচ্ছে। এসব জাতের মধ্যে জুপিটার, ভেনাস, নিরালা, বাসন্তি, পানডা ও মাধবী অন্যতম। এসব জাতের বীজের গাছ থেকে বারো মাস চালকুমড়া পাওয়া যায়। চাল কুমড়া বসতবাড়িতে লাগাতে ঘরের কোণে মাদা তৈরি করে তাতে তিন-চারটি বীজ বপন করতে হবে। চারা গজিয়ে একটু বড় হলে বাঁশের কঞ্চি বা পাটকাঠি চারার গোড়ায় পুঁতে দিয়ে চারাগুলো চালায় তুলে দিতে হয়। আর জমিতে চাষ করলে জমি ভালো করে তিন-চারটি চাষ ও মই দিয়ে মাটি ঝুরঝুরে করে নিতে হবে।
এ বিষয়ে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ অসিম কুসার দাশ বলেন, বিনা চাষে কম খরচে ঘরের চালে চাল কুমড়া ফলানো যায়। তাই গ্রামের বাড়ির চালে চালে কৃষকরা চালকুমড়ার আবাদ হচ্ছে। সবজি হিসেবেও চালকুমড়ার ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। তাই কৃষকদের বাড়ির পতিত জমি ফেলে না রেখে চালকুমড়া বা মিষ্টি কুমড়া লাগাতে উদ্বুদ্ধ করা হচ্ছে।