হোসনেয়ারা বেগমের স্বামী বায়েজিদ মোল্যা একজন ভ্যানচালক। প্রতিদিন যা আয় হয় তা দিয়ে তাদের সংসার চলে না। কোনোরকম দিনযাপন করেন। একপর্যায়ে স্কুল ড্রেস, বই, খাতা-কলম কিনে দিতে না পারায় ১০ বছর বয়সী মেয়ে মিম খাতুনের লেখাপড়া বন্ধ হয়ে যায়।

মিমের পরিবারের আর্থিক অসচ্ছলতা ছাড়াও শিশু শ্রম, শারিরীক সমস্যা, অভিভাবকের অসচেতনতায় ঝরে পড়া মাগুরার মহম্মদপুর উপজেলার ৩০ শিশুর ব্যাপারে খোঁজ নেয় জেলা প্রশাসন। পরে তাদের স্কুল ড্রেস, স্কুল ব্যাগ, টিফিন বক্স, খাতা, কলম, জুতা ও আর্থিক প্রনোদনাসহ শিক্ষাসামগ্রী বিতরণের মাধ্যমে স্কুলে ফিরিয়ে আনেন তারা।

সোমবার আনুষ্ঠানিকভাবে ওইসব শিশুদের প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভর্তি করানো হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন মাগুরা জেলা প্রশাসক মোহম্মদ আবু নাসের বেগ। বিশেষ অতিথি ছিলেন মাগুরার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) মো: রোকুনুজ্জামান, জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো: আশরাফুল আলম, উপজেলা পরিষদের মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান মোছা. বেবী নাজনীন, মহম্মদপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো: বোরহান উল ইসলাম প্রমুখ।

সভাপতিত্ব করেন, উপজেলা নির্বাহী অফিসার পলাশ মণ্ডল।

অনুষ্ঠানে জেলা প্রথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো: আশরাফুল আলম বলেন, শতভাগ ভর্তি থাকলেও শতকরা ১৮ ভাগ শিশু ঝরে পড়েছে। এদের মধ্যে মহম্মদপুর উপজেলায় রয়েছে শতকরা ৪-৫ পারসেন্ট।

জেলা প্রশাসক মোহম্মদ আবু নাসের বেগ বলেন, আজকে যে ৩০টি বাচ্চাকে আমরা ফিরিয়ে আনলাম। এ ৩০টি বাচ্চা যেন ৩০টিই থাকে। এরপর যেন এরা ঝরে না পড়ে। এটি হবে আমাদের কমিটমেন্ট। একেকটা বাচ্চা একেকটা সম্পদ। আরো ঝরে পড়া বাচ্চা থাকলে তাদেরও আমরা ফিরিয়ে আনব।

স্কুলে ভর্তি হতে পেরে সকল শিশুই আনন্দ প্রকাশ করেছে।