কিশোরগঞ্জের হোসেনপুরে নিজ ঘর থেকে উদ্ধার হওয়া প্রবাসী মঞ্জিল মিয়ার স্ত্রী ও দুই মেয়ের লাশ গত শুক্রবার বিকেলে দাফন করা হয়েছে। স্ত্রী ও দুই মেয়ের লাশ উদ্ধারের তিন দিন পর গত শুক্রবার সৌদি আরব থেকে দেশে ফিরে মঞ্জিল মিয়ার শ্বশুরবাড়ি পাশের পাকুন্দিয়া উপজেলার নারান্দী ইউনিয়নের নরপুর গ্রামে নামাজে জানাজা শেষে তার স্ত্রী ও দুই মেয়েকে নিজ হাতে দাফন করেন তিনি। এ সময় স্বজনহারা মঞ্জিল মিয়ার বুকফাটা আর্তনাদ ও আহাজারিতে উপস্থিত শত শত নারী-পুরুষের কেউই চোখের পানি ধরে রাখতে পারেনি। গোরস্তান এলাকায় তৈরি হয় এক আবেগঘন পরিবেশ।গতকাল শনিবার সৌদি আরব প্রবাসী হতভাগ্য মঞ্জিল মিয়া বলেন, ‘দীর্ঘ ছয় বছর ধরে আমি প্রবাসে ছিলাম। আমার সব কিছুই ভালোই চলছিল। হঠাৎ করে এক ঝড় এসে আমার সব কিছু শেষ করে দিয়ে গেছে। দেশে ফিরে স্ত্রী ও দুই মেয়েকে নিজ হাতে এভাবেই কবর দিতে হবে তা কোনো দিন ভাবিনি। দুনিয়াতে আমার আর কেউ-ই রইল না। আমি সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে এ মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ডের ন্যায় বিচার চাই।’ এ দিকে ওই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় অজ্ঞাতদের আসামি করে গত ১৫ নভেম্বর নিহত গৃহবধূ তাসলিমা আক্তারের ভাই কবীরুল ইসলাম নয়ন বাদি হয়ে হোসেনপুর থানায় মামলাটি করেন। কবীরুল জানান, ময়নাতদন্তের পর লাশ আমাদের গ্রামের বাড়ি পাকুন্দিয়া নরপুর গ্রামে নিয়ে আসি। আমার বোন জামাই শেষবারের মতো দেখার ইচ্ছা পোষণ করায় আমরা দুই দিন ফ্রিজিং অ্যাম্বুলেন্সে লাশ বাড়িতে রেখে দেই। বোন জামাই মঞ্জিল গত শুক্রবার সৌদি থেকে আসার পর আমাদের গ্রামের বাড়িতে দাফন কাফন সম্পন্ন হয়।
নিহত তাসলিমা আক্তারের ভাসুর গোলাম মোস্তফা বলেন, প্রতিদিনের মতোই সকালে গরু ঘর থেকে বের করে আমি জমিতে চলে যাই। সেখান থেকে ৯টার কাছাকাছি সময়ে এসে নাশতা খাই। এরপর বাড়িতে চিৎকার চেঁচামেচি হলে আমি উঠে গিয়ে তাদের লাশ দেখেই আমি মাথা ঘুরে পড়ে যাই। তিনি আরো বলেন, তাদের ঘর থেকে একটা মেমোরি কার্ড পাওয়া গেছে। সেই মেমোরিতে পাশের বাড়ির এক ছেলের কণ্ঠ পাওয়া গেছে। আমরা থানায় জমা দিয়েছি। এখন সেই ছেলের সাথে কোনো সম্পর্ক আছে কি না সেটা বলতে পারি না। সেই ছেলে বর্তমানে আটক আছে। আমাদের পক্ষ থেকে কোনো অভিযোগ দেইনি। তবে তাসলিমার ভাই অভিযোগ দিয়েছেন।
এ ব্যাপারে কিশোরগঞ্জের পুলিশ সুপার রাসেল শেখ বলেন, ঘটনাটি হত্যাকাণ্ড। যদিও আমরা এখনো ময়নাতদন্তে রিপোর্ট পাইনি। তবে আমরা মার্ডার ধরেই আমাদের কার্যক্রম শুরু করেছি। আমরা সাতজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় নিয়ে এসেছিলাম। এর মধ্যে পাঁচজনকে তাদের পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। তাদের কাছে সন্দেহজনক কিছু পাইনি। অন্য দু’জনকে আমাদের মনে হয়েছে ঘটনার সাথে সম্পৃক্ত। একজনের নাম জাহাঙ্গীর অন্য জনের নাম ছোটন। এই দু’জনকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। আমরা রিমান্ডের আবেদন করেছি। রিমান্ড মঞ্জুর হলে জিজ্ঞাসাবাদের মধ্য দিয়ে পরবর্তী কার্যক্রম শুরু করব। এই দুইজনের বিরুদ্ধে কিছু তথ্য-উপাত্ত আমাদের কাছে আছে। এগুলো যাচাই-বাছাই চলছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
উল্লেখ্য, গত ১৪ নভেম্বর হোসেনপুর উপজেলার সাহেদল ইউনিয়নের বাসুরচর পশ্চিমপাড়া গ্রামের নিজ ঘরের বিছানা থেকে সৌদি প্রবাসী মঞ্জিল মিয়ার স্ত্রী তাছলিমা আক্তার (৩৫), বড় মেয়ে মোহনা (১১) ও ছোট মেয়ে বন্যার (৭) লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।



