মানিকগঞ্জের সিংগাইরে ওয়াজ মাহফিলে প্রধান অতিথি করা নিয়ে আওয়ামী লীগের দু’পক্ষের দ্বন্দ্বের জেরে মাদরাসার মুহতামিম হাফেজ মাওলানা মুফতি মহিউদ্দিন কাসেমীকে (৪৩) আটকের ১৪ ঘণ্টা পর ছেড়ে দিয়েছি পুলিশ।

রোববার (১৯ নভেম্বর) দুপুরে থানায় মুচলেকা দিয়ে ছাড়া পান তিনি। এর আগে, শনিবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে মুহতামিমকে তার বাড়ি উপজেলার দেওলী থেকে থানায় নিয়ে যায় পুলিশ।

হাফেজ মাওলানা মুফতি মহিউদ্দিন কাসেমী সিংগাইর উপজেলার চরনয়াডাঙ্গী-কিটিংচর জমিরিয়া সিদ্দিকিয়া হায়েত আলী মাদরাসা ও এতিমখানার মুহতামিম এবং জয়মন্টপ ইউনিয়নের দেওলী গ্রামের মরহুম আজু খাঁর ছেলে।

জানা গেছে, একটি ওয়াজ মাহফিলে আসন্ন সংসদ নির্বাচনে মনোনয়ন প্রত্যাশী জেলা আওয়ামী লীগের কোষাধ্যক্ষ দেওয়ান জাহিদ আহমেদ টুলুকে প্রধান অতিথি করায় সংসদ সদস্য মমতাজ বেগমের লোকজনের আপত্তির মুখে পড়েন মাদরাসার মুহতামিম। পরে আইনশৃঙ্খলার অবনতি হওয়ার আশঙ্কায় মুহতামিমকে থানা নিয়ে যায় পুলিশ।

মুহতামিম হাফেজ মাওলানা মুফতি মহিউদ্দিন কাসেমী অভিযোগ করে বলেন, ‘শনিবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে থানার এসআই কামরুল ইসলাম ফোর্স নিয়ে আমাকে আমার বাড়ি থেকে থানায় নিয়ে আটক করেন।’

দেওয়ান জাহিদ আহমেদ টুলুকে ওয়াজ মাহফিলে প্রধান অতিথি করায় এমপি মমতাজ গ্রুপ ক্ষুব্ধ হয় এবং এ কারণে তিনি এমন পরিস্থিতির শিকার হন বলেও জানান।

মুহতামিমের চাচাত ভাই উপজেলা যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুল হালিম বলেন, ‘আমি মুচলেকায় স্বাক্ষর করে ভাইকে থানা থেকে ছাড়িয়ে এনেছি।’ রাজনৈতিক দ্বন্দ্বের কারণে এ ঘটনা ঘটেছে বলেও তিনি জানান।

মাদরাসা কমিটির সভাপতি আইয়ূব কাজী বলেন, ‘ওয়াজ মাহফিলে প্রধান অতিথি করা নিয়ে দ্বন্দ্বে এমন ঘটনা ঘটেছে।’

সিংগাইর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সৈয়দ মিজানুর ইসলাম জানান, ওয়াজ মাহফিল নিয়ে আইনশৃঙ্খলার অবনতি হওয়ার একটা আশঙ্কা ছিল। যে জন্য মুহতামিমকে থানা আনা হয়েছিল। পরে সমঝোতা হওয়ায় মুচলেকার মাধ্যমে তাকে ছেড়ে দেয়া হয়েছে।’

মানিকগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য কণ্ঠশিল্পী মমতাজ বেগম বলেন, ‘এ বিষয়ে আমি কিছুই জানি না।’