টাঙ্গাইলের ভূঞাপুরে গোবিন্দাসী সোনালী ব্যাংকের ১৩০ জন গ্রাহকের জমাকৃত ৫ কোটি ১১ লাখ টাকা আত্মসাৎ করেছেন শাখা ব্যবস্থাপক। টাকার শোকে খালেদা বেগম (৩৮) নামে এক গ্রাহক স্ট্রোক করে মারা গেছেন।
জানা যায়, ২০২০ সালে মে মাসে এ শাখায় শহিদুল ইসলাম ম্যানেজার হিসেবে যোগদান করেন। তার বাড়ি শাখার কাছাকাছি হওয়ায় যোগদান করার পর থেকে এলাকার আত্মীয়স্বজনকে সঞ্চয়পত্র করতে আগ্রহী করে তোলেন। প্রথম পর্যায়ে কিছু সঞ্চয়পত্র করার নাম করে কৌশলে গ্রাহকের হিসাব খোলেন এবং তার নামে চেক ইস্যু করে কৌশলে স্বাক্ষরিত চেক তার নিজ ও তার স্বজনদের অ্যাকাউন্টে জমা করে নেন। সঞ্চয়পত্রের লভাংশের সময় হলে ম্যানেজার নিজে গ্রাহকের অ্যাকাউন্টে লভাংশ জমা করে দিতেন, যা মোবাইলে ম্যাসেজ চলে যেত। এতে গ্রাহকরা বুঝতেই পারেননি তার সঞ্চয়পত্র হয়নি। এভাবে ২ বছরে ৫ কোটি ১১ লাখ টাকা হাতিয়ে নেন ম্যানেজার শহিদুল। কোনো কোনো গ্রাহকের লভ্যাংশের টাকায় ব্যতিক্রম হওয়াতে বিষয়টি প্রকাশ হয়ে যায়। পরবর্তীতে জানা যায়, এভাবে ১৩০ জন গ্রাহকের সঞ্চয়পত্রের নামে ৫ কোটি ১১ লাখ টাকা হাতিয়ে নেন তিনি। এ দিকে এ টাকা উদ্ধারে দ্বারে দ্বারে ঘুরে বেড়াচ্ছেন গ্রাহকরা। বর্তমান কর্মরত ম্যানেজার ফিরোজ আহমেদ টাকা ফেরত দিবেন বলে আশ^াস দিলেও এখনো তিনি নানা টালবাহানা করছেন। নির্ভরযোগ্য আশ^াস না পাওয়ায় গোবিন্দাসী গ্রামের জুলহাস উদ্দিনের স্ত্রী খালেদা স্ট্রোক করে মৃত্যুবরণ করেন। তার স্বজনরা জানান খালেদার নামে ৫ লাখ টাকার সঞ্চয়পত্র করতে দিয়েছিলেন। কিন্তু সে টাকার কোনো সঞ্চয়পত্র হয়নি। টাকাও ফেরত পাওয়া যাবে না শুনে তিনি স্ট্রোক করেন। এ ঘটনার পর গত সোমবার সকালে উপজেলার গোবিন্দাসীতে মানববন্ধন করেন ভুক্তভোগীরা। এরপর দুপুরে তারা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বেলাল হোসেনের কার্যালয়ের সামনে সমাবেশ করে তার কাছে লিখিত অভিযোগ দেন।
ভুক্তভোগী ঝর্ণা বেগম, মিন্টু মিয়াসহ অনেক গ্রাহক বলেন, প্রথম দিকে বর্তমান ম্যানেজার আমাদের জমাকৃত টাকা ফেরত দিবেন বলে আশ^াস দেন। কিন্তু দীর্ঘদিন পার হলেও এখনো টাকা ফেরত দিচ্ছেন না। ব্যাংক কর্তৃপক্ষ টাকা ফেরত দেয়াসহ ম্যানেজারের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেয়নি বলে অভিযোগ গ্রাহকদের।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বেলাল হোসেন বলেন, সঞ্চয়পত্রের টাকা আত্মসাতের বিষয়টি নিয়ে গ্রাহকরা অভিযোগ দিয়েছেন। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সাথে কথা বলে ব্যবস্থা নেয়া হবে।