দিনাজপুরের চিরিরবন্দরে বাংলাদেশ-ভারত ফ্রেন্ডশিপ পাইপ লাইন থেকে তেল চুরির ঘটনায় থানা পুলিশ চার ব্যক্তিকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করেছে।

আটকদের শনিবার (২৫ নভেম্বর) দুপুরে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠায় পুলিশ। এর আগে গতকাল শুক্রবার আনুমানিক ভোর ৫টায় চিরিরবন্দর উপজেলার ফতেজংপুর ইউনিয়নের চক ইসবপুর গ্রামের ফেরুসাডাঙ্গা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

পার্বতীপুর রিসিভ টার্মিনাল অফিসার (আরটি) প্রবীর হীরা জানান, গত শুক্রবার ভোরে ভারতের নুমালীগড় রিফাইনারি লিমিটেড বাংলাদেশ-ভারত ফ্রেন্ডশিপ পাইপ লাইনের রাউডার সেন্সরের মাধ্যমে জানতে পারেন ওই পাইপ লাইনের কোথাও পাইপ লিকেজ কিংবা ফুটো হয়েছে।
তৎক্ষণাৎ লাইনম্যান জাহাঙ্গীর আলমকে বিষয়টি অবগত করা হলে তিনি পাইপ লাইন চেক করতে থাকেন। একপর্যায়ে তিনি চিরিরবন্দর উপজেলার ফতেজংপুর ইউনিয়নের চক ইসবপুর গ্রামের ফেরুসাডাঙ্গা এলাকায় মাটিভেজা ও লাইনে তেলের গন্ধ পান।

ঘটনাস্থলে বাংলাদেশ-ভারত ফ্রেন্ডশিপ পাইপ লাইনের রিসিভ টার্মিনাল প্রতিনিধি, থানা পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্সের প্রতিনিধির সমন্বয়ে ওই স্থানের মাটি খনন করে এবং ১০ ইঞ্চি পাইপ লাইনের মধ্যে ক্লিপ ও চিকন পাইপ লাগিয়ে তেল চুরির চেষ্টা করার দৃশ্য দেখতে পান।

দিনাজপুর জেলা প্রশাসক শাকিল আহমেদ, চিরিরবন্দর উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) এ কে এম শরিফুল হক, উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) রুলান্ট চাকমা, থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো: বজলুর রশিদসহ বাংলাদেশ-ভারত ফ্রেন্ডশিপ পাইপ লাইনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।

ভারত বাংলাদেশ ফ্রেন্ডশিপ তেল পাইপলাইনের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার (অপারেশনস) প্রকৌশলী রাশেদুল ইসলাম জানান, তেল চুরির অপচেষ্টা করা হচ্ছিল। পাইপ লাইনের রাউডার সেন্সরের মাধ্যমে ঘটনাটি জানতে পারা যায়। বর্তমানে ভারত থেকে কারিগরি দল এসেছে। তারা সংস্কারের কাজ করছেন।

থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো: বজলুর রশীদ জানান, এ ঘটনায় মেঘনা পেট্রোলিয়ামস লিমিটেডের ম্যানেজার (অপারেশনস) প্রবীর হীরা থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন। ওই ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে পুলিশ চিরিরবন্দর উপজেলার উত্তর ভবানীপুর গ্রামের ডাঙ্গারহাট এলাকার মো: আলাউদ্দিনের ছেলে জাহাঙ্গীর আলম (২৭), পার্বতীপুর উপজেলার সোনাপুকুর গ্রামের মো: মাজুম আলীর ছেলে মো: মানিক শাহ্ (৪৫), নীলফামারীর সৈয়দপুর উপজেলার শ্বাসকান্দর গ্রামের মৃত তাবিরউদ্দিনের ছেলে মো: নজমুল হক (৬৫) ও একই এলাকার ছলেমান বসুনিয়ার ছেলে মো: আমিনুল ইসলামকে (৪৮) আটক করেছে।
আটককৃতদের শনিবার দুপুরে আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে। ঘটনাটি অধিকতর তদন্ত করা হচ্ছে, আরো কেউ জড়িত থাকলে তাকেও আইনের আওতায় আনা হবে।